বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ কবে মাদকমুক্ত হবে?

ড. মোহা. হাছানাত আলী | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

সরকারি চাকরির নিয়োগ, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার সরকারি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ১২ জানুয়ারি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া উপস্থাপন করবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, সবক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করা হবে। সব সরকারি চাকরির নিয়োগ, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। সেজন্য আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, মাদকব্যবসায়ী এবং সেবনকারীরা আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে সহজেই জামিনে বের হয়ে আসে। সেজন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ক্ষেত্রেই উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। যাদের গ্রেফতার করা হয়, দেখা যায়, কিছুদিন পরেই তারা বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন পেয়ে যায়। আমাদের মাদক সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে কিছু দুর্বলতা আছে। ভবিষ্যতে সে দুর্বলতাগুলোর সুযোগ নিয়ে আইনে জামিনের যে অধিকার, সেটার যাতে অপপ্রয়োগ না হয় এবং আইনের যে ত্রুটি আছে, সেগুলো দূর করার জন্য আইন কীভাবে সংশোধন করা যায়, সে ব্যাপারেও সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবে না।

এছাড়া মাদকের ক্ষতিকর বিষয়ে গণ সচেতনতা তৈরির জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করার সরকারি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়নই পারে মাদকের ভয়াল কবল থেকে জাতিকে রক্ষা করতে।

বর্তমান বিশ্বসভ্যতা যে কয়টি মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন তার মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। বিশ্ব জুড়ে মাদকাসক্তি একটি জটিল সামাজিক ব্যাধিরূপে বিস্তার লাভ করেছে। আমাদের সমাজে এই দূরারোগ্য ব্যাধির ভয়াবহতা আরো বেশি। এর শিকার হয়ে দেশের যুবরা তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। দিন যত যাচ্ছে এর ভয়াবহতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখনই উচিত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দৃঢ় অঙ্গিকারবদ্ধ হওয়া। মাদকদ্রব্য হচ্ছে সেসব দ্রব্য বা বস্তু যা গ্রহণের ফলে মানুষের স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে। শুধু তাই নয় এসব দ্রব্যের প্রতি তাদের এক ধরনের নেশার সৃষ্টি হয়। এই সকল মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে নেশা সৃষ্টি করাকে মাদকাসক্তি বলে। সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্যের ক্ষতিকারকতা জানা সত্ত্বেও এসব দ্রব্যসামগ্রীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘মাদকাসক্তি হচ্ছে চিকিৎসা গ্রহণযোগ্য নয় এমন দ্রব্য অতিরিক্ত পরিমাণে ক্রমাগত বিক্ষিপ্তভাবে গ্রহণ করা এবং এসব দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।’

আধুনিক বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য দেখা যায়। সভ্যতার বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মাদকদ্রব্যেরও ধরনেরও যথেষ্ট বৈচিত্র্য হয়েছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে যেসব মাদকদ্রব্যের সেবন সর্বাধিক বেশি সেগুলো হলো- গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, আইস, রেকটিফাইড স্পিরিট, তাড়ি, পঁচুই, কোকেন, আফিম, মারিজুয়ানা, ভাং, ক্যানাবিস, হাসিস, ঘুমের ওষুধ, প্যাথেড্রিন ইনজেকশন ইত্যাদি। আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই কমবেশি মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। কোনো দেশে কম আবার কোনো দেশে অনেক বেশি। যেমন, গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল (লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড), গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান), গোল্ডেন ওয়েজ-এ তিন স্থানে পপি উৎপাদিত হয়। এই পপি ফুলের নির্যাস থেকে আফিম এবং এই আফিম থেকেই সর্বনাশা হেরোইন তৈরি হয়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, জ্যামাইকা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও থাইল্যান্ডসহ ১১টি দেশে মারিজুয়ানা উৎপন্ন হয়। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, বলিভিয়া প্রভৃতি দেশে প্রচুর পরিমাণে কোকেন উৎপাদন হয়ে থাকে। এদিকে এশিয়া মহাদেশের প্রায় অনেক দেশেই আফিম, হেরোইন ও হাসিস উৎপন্ন হয়। বহুবিধ কারণে আমাদের সমাজে মাদকাসক্তির প্রভাব লক্ষ করা যায়। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানী, গবেষক ও চিকিৎসকরা মাদকাসক্তির অন্তরালে বিভিন্ন কারণের কথা বলেছেন। মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো হতাশা। এই হতাশার করণেই ব্যক্তি তার নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যা থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য মানুষ সর্বনাশা মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অনেকেই আবার মাদকাসক্তির ভয়াবহতা জেনেও কৌতূহলবশত মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। পরীক্ষায় ফেল, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থতা, বেকারত্ব ইত্যাদি কারণে দেশের তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তের প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়। ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের বিচ্যুতির ফলে সমাজে মাদকাসক্তির বিস্তার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে মাদকাসক্তদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে বলে অনেকের অভিমত। সুতরাং, সামগ্রিকভাবে হতাশা, আদর্শহীনতা, বিভ্রান্তি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্তিরতা, সামাজিক ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি কারণে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্তি এক ধরনের মরণ নেশা। মৃত্যুই তার একমাত্র গন্তব্যস্থল। মাদক গ্রহণ ধীরে ধীরে স্নায়ুকে দুর্বল করে তোলে। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আস্তে আস্তে নিঃশেষ করে দেয়। তাছাড়া ক্ষুধা ও যৌন অনুভূতি হ্রাস ঘটায়। মাদক গ্রহণে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসে। হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। নিদ্রাহীনতা, উগ্রমেজাজ, ওজন হ্রাস পাওয়াসহ বহুবিদ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতায় ক্ষতিকর প্রভাবসহ মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সাধিত হতে পারে। তাছাড়া ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইচআইভি হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেড়ে যায়। এক কথায় মাদক মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারাবিশ্বে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালানের মাধ্যমে এর ব্যাপক প্রসার ঘটায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। মাদকের নিষ্ঠুর ছোবলে অকালে ঝরে পড়ছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ। অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে বহু তরুণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

মাদকাসক্তরা মাঝে মাঝে মাদকগ্রহণের জন্য চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, পিতা-মাতার ওপর নির্যাতন চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে, ফলে সামাজিক ও পারিবারিক শৃঙ্খলা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে তারা মারাত্মকভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে পরিবারে ও সমাজে তাদের অস্বাভাবিক আচরণ একধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তির প্রভাবে আমাদের সমাজে পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং এ সম্পর্কিত হতাশা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকাসক্তের ফলে পারিবারিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্য হারে নষ্ট হয়ে পড়ছে। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বাহ্যিক আচরণের নেতিবাচক প্রকাশ সমাজকে কলুষিত করছে।

অনেক মেধাবী ও ভালো ছাত্র-ছাত্রী মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে অবলীলায় তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ জীবনকে নষ্ট করছে। মূলত মাদকাসক্তি সমস্যা আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের বেচাকেনার সংবাদ জাতি হিসেবে আমাদেরকে লজ্জিত করে। দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা শঙ্কিত হই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের বিস্তার রোধে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করা সরকারের একটি সাহসী উদ্যোগ। প্রয়োজনে প্রতিটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার পর পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তির পূর্বে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা গেলে খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করা যাবে। যে কোনমূল্যে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কড়ালগ্রাস থেকে বাঁচাতেই হবে। প্রয়োজনে আইন কঠোর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকদ্রব্যের এই সর্বনাশা ব্যবহার বর্তমান বিশ্বে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। দেশে মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও আমদানি রোধ করার জন্য বিদ্যমান আইনকে প্রয়োজনে ঢেলে সাজাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধ কর্মসূচি আরো জোরদার করতে হবে। দেশে মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তা এখনও বন্ধ করা যায়নি। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সদস্যের কারণে মাদকের প্রসার রোধ করা যাচ্ছে না মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে।

সমাজের প্রতিটি মানুষকেই মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। মূলত বেকারত্ব মাদকাসক্তের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই বেকারত্ব হ্রাস করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সুষম সমাজ গঠনে সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান হতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য বইয়ে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক বা ধর্মীয় শিক্ষা সিলেবাসের অর্ন্তভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধুমাত্র ট্রাফিক আইন নয় বরং আমাদের শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের নীতি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা গেলে তা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষ, কার্যকর ও আইনানুগ ভূমিকা দেশে মাদকের প্রসার বহুলাংশে রোধ করতে পারে বলেই অনেকের বিশ্বাস। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারি উদ্যোগ আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করতে হবে। সভা, সমিতি, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও আলোচনার মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধী প্রচারণাকে বেগবান করতে হবে। মাদক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের নিরপেক্ষ ও যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে মাদকের লাগামহীন প্রসার অনেকাংশেই রোধ করা যেত। বাংলাদেশে মাদকাসক্তির প্রতিকার আন্দোলন দিন দিন তরান্বিত হচ্ছে। ‘আধুনিক’ (আমরা ধূমপান নিবারণ করি) সংস্থাটি মাদক নিরাময় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাছাড়া রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদি গণমাধ্যমও সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রন আইন-২০২০ চালু আছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রয়েছে। কিন্তু তাদের সক্ষমতা নিয়ে সমাজে বহুবিধ প্রশ্ন রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও প্রতিবছর ২৬ জুন মাদকদ্রব্যের পাচার, অপব্যবহার বিরোধী দিবস পালন করে আসছে। সভ্যতার এই আধুনিক যুগে মাদকাসক্তি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে অজস্ত্র তরুণ-তরুণীর সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। এটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে মাদকের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। মাদকের ভয়াবহতা লিখে বা বলে শেষ করা যাবে না। মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদকের সর্বাত্মক আগ্রাসনের শিকারে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মাদক পাচারের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ট্রানজিট ব্যবহার করার কারণে মাদকের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদকের সাথে কোনো আপস নয়। প্রয়োজনে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী করে তৈরি করতে হবে। অধিকাংশ মাদক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মায়ানমার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করে থাকে। তাই ভারত ও মায়ানমারের সাথে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে জীবন ধ্বংসকারী মাদকচক্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। শুধুমাত্র নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট যথেষ্ঠ নয়, বরং কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পদোন্নতি বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে মাদকাসক্তির বিষয়ে যাথাযথ কর্তৃপক্ষের সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।


লেখক: প্রফেসর, আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
drhasnat77@gmail.com

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন