সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ নয়, সরকার প্রধান্য দিয়েছে জন্মশতবার্ষিকীকে

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী প্রসঙ্গে ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ মার্চ, ২০২২, ১২:০০ এএম

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধ নয়, এক ব্যক্তির জন্মশতবার্ষিকীকে সরকার প্রাধান্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা (সরকার) কতগুলো প্রোগ্রামে স্বাধীনতা যুদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধকে সামনে নিয়ে এসেছে? মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রবাসী সরকার, এমএজি ওসমানি সাহেব ক‘বার তাদের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, সেক্টার কমান্ডারদের নাম, তাজউদ্দিন সাহেবের (তাজউদ্দিন আহমেদ) নাম ক’বার উচ্চারণ করা হয়েছে? স্বাধীনতা যুদ্ধ কোথায় গেলো? এখানে তো একজন ব্যক্তির ব্যাপারটা এসে যাচ্ছে সামনে।

গতকাল শুক্রবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চতুর্দিক থেকে জাতিগতভাবে খুব বিপদজনক অবস্থায় পড়ে আছি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার যে লক্ষ্য ছিল সেটাই আজকে সবচেয়ে বিপদের সম্মুখিন হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে আমরা চিহ্নিত হয়েছি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটা দেশ হিসেবে। দেশে গণতন্ত্র, রাজনীতি, বিএনপিকে নির্মূল করে দেয়ার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে তারা (সরকার)।

খালেদা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেবের বিদ্রোহের পরে তার স্ত্রী তিনি সেদিন যখন আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেন সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরাস্ত্র করবার চেষ্টা করছিলো সেই সময়ে কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, তোমরা অস্ত্র সমর্পন করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন। এই দিয়ে তার শুরু। দেশে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা কেউ যদি থাকে তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে (খালেদা জিয়া) আজকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন অসুস্থবস্থায় তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না তারা।

তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতা তারেক রহমান সাহেবও ওইসময় তার ছোট ভাইসহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বন্দি ছিলেন। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের ওই ছোট মানুষটির অবদানকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। এই নেতাকে আজকে দেশে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না।

স্বাধীনতা সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহবায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিকামী জনগণের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহবান জানিয়ে ছিলেন। এই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রকে আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নের একটা কেন্দ্র, ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে আমরা মূল্যায়ন করে ২৭ মার্চ জাতীয় কমিটি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের রিয়াজ উদ্দিন নসু, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps