শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইহুদীবাদী ইসরাইলের কারাগারে কী হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ১০:২৭ এএম | আপডেট : ১০:২৯ এএম, ১৮ এপ্রিল, ২০২২

ইহুদীবাদী ইসরাইলের দখল আর বর্বর নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে ফিলিস্তিনিরা। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে গ্রেফতার হয়েছেন অগণিত ফিলিস্তিনি, সে তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যার হিসাবগুলো শুধুই অনুমেয়।

৫৫ বছরের ইসরাইলি দখলদারিত্বের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত বন্দী হয়েছেন প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি। দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে যেয়ে ফিলিস্তিনের প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ অন্তত একবার গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তুলে ধরার জন্য পালন করা হয় ‘ফিলিস্তিনি বন্দী দিবস’। এবারের বন্দী দিবসে ইসরায়েলে কারান্তরীণদের সংখ্যা প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরা।

২০২১ সালে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। যাদের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৩০০ এর বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি এবং ১৮৪ জন নারী। কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রয়েছে ১৫০০ সরকারি কর্মকর্তা।

১০ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত ইসরায়েল এবং অধিকৃত অঞ্চলের কারাগারে বন্দী সংখ্যা চার হাজার ৪৫০ জন। যাদের মধ্যে বিনা বিচারে আটক ৫৩০ জন। ২০ বছরের বেশি সাজা ভোগ করছেন ৪৯৯ জন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে ৫৪৯ জনের।

ইসরায়েলের কারাগারে ধুঁকছে ৩২ জন নারী এবং ১৬০টি শিশু। ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে লড়াইরত নারী এবং শিশুদের প্রতিদিনই বিভিন্ন মেয়াদে কারান্তরীণ হয়ে থাকেন।

ইসরায়েল বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা সামরিক আদালতে শিশুদের বিচার করে। বিচারে ক্ষুণ্ণ করা হয় শিশুদের মৌলিক অধিকার। চলতি শতাব্দীর শুরু থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে বন্দী করেছে।

গ্রেফতার হওয়া এসব শিশুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘পাথর নিক্ষেপ’। যে অপরাধে সামরিক আইনে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের দণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকে শিশুরা। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ১৬০ ফিলিস্তিনি শিশুর মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা কোনো অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্তই হয়নি।

কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন ৫৩০ ফিলিস্তিনি ‘প্রশাসনিক বন্দী’। নারী ও শিশুসহ বন্দীদেরকে ‘গোপন প্রমাণের’ ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য আটকে রাখতে পারে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এসময় বন্দীদের সাথে তাদের আইনজীবীকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয় না।


আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দখলদার রাষ্ট্র দখলকৃত ভূখণ্ডের বাইরে বন্দীদের স্থানান্তর এবং আটকে রাখা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইসরায়েল তার সীমানার মধ্যে বেশ কয়েকটি কারাগারের বন্দীদের স্থানান্তর করে থাকে। বছরের পর বছর ধরে আটক অনেক বন্দীই এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনশন করে থাকেন।

৫৫ বছরের দখলদারিত্বের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী হয়েছেন প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি। দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ অন্তত একবার গ্রেফতার হয়েছেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps