শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পেলোসির পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা এবার তাইওয়ান সফরে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০২২, ১:৪৬ পিএম

চীনের সামরিক হুমকি উপেক্ষা করে তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। আর এরপরই ভূখণ্ডটি নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব রূপ নেয় নতুন মাত্রায়। পেলোসির সেই সফরের পর দুই সপ্তাহ পার না হতেই এবার তাইওয়ান সফরে গেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দল। -রয়টার্স

রোববার (১৪ আগস্ট) দুই দিনের সফরে ভূখণ্ডটিতে পৌঁছান তারা। সোমবার (১৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দল দু’দিনের সফরে রোববার তাইওয়ানে পৌঁছেছেন। সেখানে তারা স্ব-শাসিত এই দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সাথে দেখা করবেন। অবশ্য গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজস্ব অঞ্চল বলে দাবি করে থাকে বেইজিং। চলতি আগস্ট মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের পর দ্বীপের চারপাশে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালিয়েছে দেশটি।

তাইপেইতে ডি ফ্যাক্টো মার্কিন দূতাবাস বলেছে, মার্কিন এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিনেটর এড মার্কি। তার সাথে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউসের আরও চার আইনপ্রণেতা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও বৃহত্তর সফরের অংশ হিসাবেই এই আইনপ্রণেতারা ভূখণ্ডটিতে সফরে এসেছেন। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টর কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে প্রতিনিধি দলটি প্রেসিডেন্ট সাইয়ের সঙ্গে দেখা করবে। এক বিবৃতিতে কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ‘তাইওয়ান প্রণালী এবং এই অঞ্চলে সামরিক মহড়ার মাধ্যমে চীন যখন উত্তেজনা বাড়াচ্ছে তখন সিনেটর এড মার্কির নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলের সফর তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দৃঢ় সমর্থন প্রদর্শন করছে।’

রয়টার্স বলছে, এড মার্কি মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা উপকমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ান সফরে তার সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা হলেন কংগ্রেসনাল পারমাণবিক অস্ত্র ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধি জন গারামেন্ডি এবং প্রতিনিধি ডন বেয়ার। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস রোববার বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের মার্কিন সরকারের এক-চীন নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করা উচিত’। আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেসের সদস্যদের সাম্প্রতিক সফর ‘আবারও প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় না এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ানো ও চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো প্রচেষ্টাই ছাড়েনি।’

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেছেন, কংগ্রেসের সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তাইওয়ানে সফরে গেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সফরগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা এক-চীন নীতি অনুসারেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।

গত বছরের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য সামরিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিও খোলা রেখেছে বেইজিং। অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জবাবে সেসময় তাইওয়ান জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে।

তবে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের চেষ্টার কমতি নেই। তাইওয়ান উপত্যাকার চারদিকে সামরিক কর্মকাণ্ড জোরদার করেছে চীন। এমনকি গত বছরের মতো চলতি বছরের শুরু থেকেই তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন (এডিআইজেড) লঙ্ঘন করে আসছে বৈশ্বিক এই পরাশক্তি দেশটি। তবে এরইমধ্যে সম্প্রতি রাতের আঁধারে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে পৌঁছান ন্যান্সি পেলাসি। ১৯৯৭ সালের পর এটি কোনো মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিকের তাইওয়ান সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

দফায় দফায় হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের এই স্পিকারের তাইওয়ান সফরকে মোটেই সহজভাবে নেয়নি চীন। আর তাই ন্যান্সির সফরের প্রতিক্রিয়ায় রাতেই তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
গুরুচরণ বিশ্বাস ১৫ আগস্ট, ২০২২, ২:৪৫ পিএম says : 0
চীন চায় সারা বিশ্বের জনগন আপনাদের কথা মেনে চলুক, তাই তারা প্রথমে তাইওয়ান দখল করে শক্তি দেখাবে বিশ্বকে,তার পর আসে পাশে দ্বীপ রাষ্ট্র দখল করবে,তারপর ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, ভারতের যুদ্ধে যদি চীনের জিনপিং সরকারের জয় লাভ হয়,তার পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, এই যুদ্ধে জয় লাভ করলে,সারা বিশ্বের জনগন চীনের জিনপিং সরকারের অধীনে চলে যাবে চীন এই ভাবে সুপার পাওয়ার জন্য তাইওয়ান দখল করতে চাইছে, কিন্তু চীনের মনে রাখা উচিত ভারত ও রাশিয়া কে পরাস্ত করা মুশকিল, শেষে সারা বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, চীনের এই খেলায়,
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন