শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বার বার মানুষ পুড়লেও দেখার কেউ নেই

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড : হোটেল মালিক ১ দিনের রিমান্ডে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০২২, ১২:০০ এএম

চকবাজারের যে ভবনটিতে আগুন লেগে গত সোমবার ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে সেই ভবনটি নির্মাণের অনুমোদন ছিল না। ওই জায়গায় আগে একটি স’মিল ছিল। সেখানে টিন শেডের একটি ঘর ছিল, আর ছিল একটি হোটেল। আশপাশের জায়গা ছিল ফাঁকা। দুই বছর আগে এখানে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয় চারতলা ভবন। অবৈধ ভবন তৈরি করে হোটেল ও কারখানা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। বার বার পুরান ঢাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মানুষ পুড়ে মরলেও দেখা কেউ নেই। গতকাল মঙ্গলবার চকবাজারের দেবীদাস লেন এলাকায় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ইনকিলাবকে এসব কথা বলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুল ও ব্যবসায়ীরা করিম মোল্লা বলেন, মো. রানা নামে একজন ওই ভবনের মালিক। তিনি ভবনটির নিচতলার উত্তর পাশ ভাড়া দেন বরিশাল হোটেলের মালিককে। অপর পাশে নিজে দোকান নিয়ে বসেন। মাঝে একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় প্লাস্টিকের খেলনার কারখানা ও গোডাউন রয়েছে। এই অংশের মালিক মো. নজরুল নামে এক ব্যক্তি।

ভবনের উত্তর পাশের একটি প্লাস্টিক কারাখানার কর্মকর্তা আহমেদ হোসেন বলেন, এক থেকে দেড় বছর আগে এ ভবন তৈরি করা হয়। ভবন নির্মাণের আগে এখানে একটি স’মিল ছিল। একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও অবৈধ এসব স্থাপনার বিষয়ে কোন নজর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী ইনকিলাবকে বলেন, ভবন তৈরি করতে রাজউকের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু রাজউক এখানে ভবন তৈরির অনুমোদন দেয়নি। তবে র্জাউকের কর্মকর্তাদের চোখের সামনে ভবনটি তৈরি হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। বরং তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি অনুমোদন না নিয়ে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অন্যদিকে চকবাজারে প্লাস্টিক কারখানা ও হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বরিশাল হোটেলের ৬ কর্মীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে একটি দল ময়নাতদন্ত করেন। লাশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

থানায় মামলা, হোটেল মালিক রিমান্ডে
চকবাজারের দেবীদাসলেন এলাকায় প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী এক স্বজনের পরিবার। গত সোমবার রাতে নিহত রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে চকবাজার থানায় মামলা করেন। গতকাল সকালে অভিযান চালিয়ে বরিশাল রেস্টুরেন্টের মালিক ফখরুদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই রাজীব কুমার সরকার। আসামিপক্ষে আইনজীবী রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীম এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

ভবন ও কারখানা মালিকের হদিস নেই
প্লাস্টিক গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ভবন মালিক ও প্লাস্টিক গোডাউনের মালিক লাপাত্তা রয়েছেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা প্লাস্টিক নামে চারতলা ওই ভবনের মালিক চকবাজারের আলম সাহেব। আলম সাহেবের মৃত্যুর পর তার ছেলে রানা এসব কিছু দেখাশোনা করে আসছেন। আরও জানা যায়, ভবনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও টিন শেড দিয়ে তৈরি চতুর্থ তলায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের খেলনার কারখানা এবং গোডাউন ছিল, যার মালিক নজরুল। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে তিনটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কারখানা ও গোডাউনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। হতাহতদের খবর নিতেও থানা বা হাসপাতালে কাউকে দেখা যায়নি।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. জাফর হোসেন বলেন, আগুনের ঘটনায় ভবন ও হোটেলের মালিকসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো গাফলতি ছিল বা কী কারণে আগুন লেগেছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগুনের ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। প্রসঙ্গত, গত সোমবার বেলা ১২টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেনে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ভবনের নিচে থাকা বরিশাল হোটেলের পাটাতন থেকে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন