বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে : চট্টগ্রামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০২২, ১১:২২ পিএম

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, ‘শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সা¤প্রদায়িকতামুক্ত, অসা¤প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন করেন।
ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার দেশে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমাদের দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না। আপনার দেশেও যেমন দুষ্টু লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে। কিছুদিন আগে তাদের দেশেও এক ভদ্রমহিলা কিছু কথা বলেছিলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন উগ্রবাদীরা আরো সোচ্চার হয়ে আরো বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে ক্ষতিটা হবে কী? আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে, স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকে বলেছি, আমরা উসকানিমূলক কর্মকান্ড কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ঠ মঙ্গল হচ্ছে। বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সুন্দর অবস্থানের কারণে। সুতরাং আমরা উভয়ে এমনভাবে কাজ করব যাতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ভারত সরকারকে বলেছি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে যদি আমরা উভয়ে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিই।’
২০২১ সালে দুর্গাপূজায় বিভিন্ন মন্ডপে হামলা ও সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের একটি বিবৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। বিভিন্ন সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নিলে সেই বক্তব্যের ব্যাখা দাবি করেন সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের দুজন নেতা।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাটি একবছর আগের। পূজার সময় কুমিল্লায় একটি দেবতার কাছে কোরআন শরীফ রেখে একটা ছবি তোলে। সেটা ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়ার পর কিছু গোষ্ঠী ওখানে আক্রমণ করে। আক্রমণ থামাতে গিয়ে পুলিশ গুলি করে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ ঘটনা আমরা জানি, তখনও আমরা কিন্তু কুড়িগ্রামের কাহিনী জানতাম না। তখন আমাদের মন্ত্রণালয় যেসব কথা বলেছে, সত্যি কথা বলেছে। আমি শিক্ষক লোক, সত্য কথা বলি। আমরা বলেছি, তখন পর্যন্ত মোট ছয়জন লোক মারা যায়। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, চারজন মুসলমান, দুজন হিন্দু। তবে আমরা একজন লোকও মারা যাক সেটা চাই না।’
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এখানে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেকে গল্প বলেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। আমি যেটা করেছি, তা বিবেকের তাড়নায় করেছি। কিন্তু এটাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে, টুইস্ট করে আপনাদের কাছে বলা হয়েছে। আমি বলছি- কোথাও সত্যের অপলাপ হয়নি। জেনেশুনেও আপনারা যদি প্রতিক্রিয়া দেখান, তাহলে এটা তো বড় মুশকিল।’
উসকানি না দেয়ার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন কাজ করব না, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এমন কোনো উসকানি দেব না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রতিবেশি দেশে কিছু মসজিদ পুড়েছে। আমরা কোনোভাবে সেটা প্রচার করতে দিইনি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্টু লোক আছে, কিছু জঙ্গি আছে যারা এটার বাহানায় আরো অপকর্ম করবে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলে, কারণ অনেক কিছুই হয়, আমি স্ট্রং কোনো স্টেটমেন্ট দিই না।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে খুনের আগে কত মিথ্যা প্রচার করা হয়েছিল। এভাবে একটি পরিস্থিতি তৈরি করে তারপর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এখনও আবার সেই ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের লোক দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা শুরু করেছে, উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা। আপনাদেরও স্মরণ করা দরকার, শেখ হাসিনার সরকারকে টলানোর জন্য দেশকে যদি অস্থিতিশীল পথে নিয়ে যান, তাহলে আপনার-আমার প্রত্যেকের জন্য বিপদ। সেই বিপদ যাতে না আসে সেজন্য স্থিতিশীলতা চাই।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
salman ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৫:০৩ এএম says : 0
ata ki kono sadhin desh? ade'r k ki bolbo? Nir lojjo Behaiya...Desh drohi, Lendup Dorjir dal khomotai.
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১০:৫৭ এএম says : 0
ওনাকে দোষ দেওয়াটা ঠিক নয়, বরং সাধুবাদ দেওয়া উচিৎ । উনি সত্য কথাটা প্রকাশ করেছেন, অন্যরা যেটা গোপন করার চেষ্টা করে চলেছেন নিরন্তর । এই সরকার কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে এবং টিকে আছে, সেটা কি আপনারা জানেননা-বোঝেননা ?
Total Reply(0)
jack ali ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৬:০৮ পিএম says : 0
হাসিনা সরকার যে দেশদ্রোহী এবং ভারতের পদলেহী তা তো আমরা জানি ও আল্লাহ তুমি আমাদের দেশটাকে আমাদের জাতিটাকে বাচাও এই আওয়ামী গুন্ডাদের হাত থেকে এবং আমাদের দেশটাকে আল্লাহ তোমার কোরআন দিয়ে শাসন করা ও তাহলে আমরা একটু শান্তিতে থাকতে পারবো যদি এক বেলাও খাই |
Total Reply(0)
Khalil Rahman ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৯:৫৪ এএম says : 0
এক কথায় ওনি অযোগ্য মন্ত্রী, এমন মন্ত্রী দিয়ে দেশ চলতে পারে না। তাঁর পদত্যাগ চাই।
Total Reply(1)
Harunur Rashid ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১১:০৩ এএম says : 0
Ahsan ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১:২১ এএম says : 0
In a way he has admitted that only India can decide whether his government will be in power or not! Great achievement?
Total Reply(0)
Harunur Rashid ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১১:০৬ এএম says : 0
Man just spilled the bean. Bravo comrade !
Total Reply(0)
Mohmmed Dolilur ১৯ আগস্ট, ২০২২, ২:৩১ এএম says : 0
ভারত কে না বলে জনগণ কে বলুন ,কাজে আসবে জনগণের নেত্রী জনগণ অবশ্যই যাচাই বাচাই করবেন,আপনি কি ভারতের লোক না কি ভারত কে বলছেন,আপনাদের মত মন্ত্রীদের কথার কারনেই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সেখ হাসিনার সমস্যা,নিজের দেশের জনগণের কাছে বলবেন,ভারতের কাছে কি জন্য,ভারত কি বাংলাদেশের প্রভু না কি,আর্চারযে কথা বার্তা বলেন,আপনার কথায় বুজা যাচ্ছে আমরা দাস আমরা ভারতের কথায় চলমু,আপনার এই কথা উগ্র করুন,বাংলাদেশের জনগণ কে বলুন জন নেত্রী সেখ হাসিনা কে দেশ উন্নয়নে জরুরি সেটা না বলে ভারতের কথা বলে আপনি আওয়ামী লীগের ক্ষতি করেছেন।
Total Reply(0)
মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১০:৪৫ পিএম says : 0
পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার গঠন প্রকৃয়া ভারত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে।ভারত সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছা এর উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার কে হবে। কারণ ১৯৭১ ইং সালে ভারত তার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলে বাংলাদেশের কারো সাক্ষর নাই। কাজেই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছে ভারত। তাই ভারত সরকারের উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়,বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতার উৎস ভারত সরকার।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন