শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তরের জনক শেখ হাসিনা: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২২, ১:০৫ পিএম

শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তরের জনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তার কাছে গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বড় নয়। উনার কাছে সোনার হরিণ ক্ষমতা সবচেয়ে বড়। আজকে তার কাছে সবচেয়ে ঘৃণার বস্তু হচ্ছে নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা।
সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে গণতন্ত্র ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও আব্দুল্লাহ আল নাইমের পরিচালনায়
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন মেহেদী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ইসমাইল চৌধুরী খোকন, কাদের সিদ্দিকী ও ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একটি নাম। রাজনীতিতে তার যে অবদান তা অনেক সময় ধরে। তিনি দু:খ কষ্ট সহ্য করলেও কখনো আত্মসমর্পণ করেননি। দেশ ছেড়ে গেছেন এমন নজির নেই। সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি মহীয়ান ও জাতীয় জীবনের বাতিঘর। তিনি জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আপোসহীন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনে একজন নেত্রী দেশ ছেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তা করেননি। আত্মসমর্পণ না করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে কিভাবে আপোসহীন নেতৃত্ব দিতে হয় তার নাম খালেদা জিয়া। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।

রিজভী বলেন, আজকে দেশে কি পরিস্থিতি বিরাজমান। গত পরশু রাতে সোনিয়া নামের মহিলা দল নেত্রীকে রাজবাড়ী থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। সে দিনের বেলা গ্রেফতারের দাবি জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা তাকে অমানবিক ও বর্বোরোচিতভাবে গ্রেফতার করেছেন। তিনি নাকি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম ক্ষু্ন্ন হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তো প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন যে, তার কতো পার্সেন্ট সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে? কই ইডেনের ঘটনায় আপনার সুনাম ক্ষুন্ন হয় না? কারণ তারা তো ছাত্রলীগ? ছাত্রলীগের সেক্রেটারি যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে মোবাইলে ভবন নির্মাণের চাঁদা দাবি করে তখন কি আপনার সুনাম ক্ষুন্ন হয় না? পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলে যে, পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে কথা বলবো যে ক্ষমতায় রাখা যায় কি না? কই তখন কি আপনার সুনাম ক্ষুন্ন হয় না? আপনি দুই সন্তানের মা কে রাতের আধারে গ্রেফতার করেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তিনি জানেন যে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি হবে। সেজন্যই তিনি কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুরির সুযোগ দিতে ইনডেমনিটি আইন করেছেন তিনি। আজকে গোটা দেশে চোরে গিজ গিজ করছে। আজকে নারী ফুটবলার কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহারের ব্যাগ থেকে ডলার চুরি হলো। বাংলা একাডেমি থেকে বিদেশি রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একজন ছাত্রলীগের নেতা ছাগল চুরি করে পিকনিক করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে। আজকে চোরের কবলে দেশ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদেরকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে।

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। অতীতেও তারা বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করেছিলো। তারা আবারো বিদেশি শক্তির ইন্ধনে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাদের পতন ঘটাবে। আপনারা আর কোনো পাতানো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সাহস থাকলে পুলিশ ছাড়া রাজপথে আসুন বিএনপি থাকে নাকি আওয়ামী লীগ থাকে। পুলিশকে বলবো-আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়। আজকে তারেক রহমানের জাদুর ছোয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন উজ্জীবিত তখন সরকার ও পুলিশ বেপরোয়াভাবে হামলা করছে। মনে রাখবেন এখন থেকে প্রতিবাদ নয় প্রতিশোধ নেয়া হবে।

মীর সরফত আলী সপু বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনী আমাদের চারজন নেতাকর্মীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় শতগুণ। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশন কেনো ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কিনতে যাচ্ছে? এই প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে রাজপথে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন