বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবন ১৪৩১, ১০ মুহাররম ১৪৪৬ হিজরী

মহানগর

সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে: ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৫:৩১ পিএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। তারা চলে যাবে। কিন্তু আপনারা থাকবেন। সুতরাং আপনারা জনগণের সংগে থাকুন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সমাবেশ শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র নেতা আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি

ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশের শুরু আগেই সকাল থেকে বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশে ১৩ ডিসেম্বর ঢাকাসহ বিভাগীয় ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনের রাস্তার এক পাশে নাইটিংগেল-ফকিরাপুলের মোড় বন্ধ ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তছনছ করে বর্বরতা চালানো হয়েছে। ল-ভ- করেছে। সেখান থেকে সিনিয়র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কম্পিউটার ভেঙে ফেলছে। যার লক্ষ্য ছিল ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগের গণসমাবেশ প- করা। একইভাবে তারা বিভিন্ন বিভাগের গণসমাবেশ প- করতে পরিবহন ধর্মঘট ও হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছিল। তবুও আমাদের গণসমাবেশ ঠেকাতে পারেনি। বরং জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।

তিনি বলেন, সরকার ভেবেছিল আমাদের মহাসচিব সহসিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে সমাবেশ প- করবে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি। সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোটাধিকার হরণ করেছে। গণতন্ত্র হত্যা করে দিনের ভোট রাতেই ডাকাতি করে অবৈধভাবে সংসদ গঠন করেছে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে গিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। ব্যাংকগুলো লুট করা হচ্ছে। মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। তারা ঠিকমতো খেতে পারে না।

তিনি বলেন, বানোয়াট মামলায় ফরমায়েশ রায় দিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানকে বিদেশে থাকতে বাধ্য করেছে। তেমনিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের ক্ষমতার জন্য ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ এত নির্যাতন করেও বিএনপি দুর্বল হয়নি। যার প্রমাণ বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ। জনগণ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, এই সরকারকে তারা চায় না। সেই লক্ষ্যে আমরা যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছি।

তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফয়সালা হবে রাজপথে। প্রশাসন ও পুলিশের সদস্যদের বলব, আপনার দলের কর্মী নন। আপনারা শপথ নিয়েছেন। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পুলিশ বাহিনী আমাদের অফিসকে ল-ভ- করেছে। মহাসচিব ও মির্জা আব্বাসকে রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে গেছে। কোনো কাজ হয়নি। এই সরকার নিজেরাই রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। লাখ লাখ মানুষ ঢাকার সমাবেশে অংশগ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে তা সফল করেছে।

আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠার রাজনীতি করে। তারা মানুষ হত্যা করে। কিন্তু এভাবে নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষকে ঠেকানো যাবে না। এখনো বলছি শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিন। ইতোমধ্যেই বিএনপির সমাবেশে জনগণ রায় দিয়েছে যে তারা আপনাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সভা সমাবেশে কাউকে টাকা দিয়ে আনা হয় না। আমাদের সমাবেশে যারা আসেন তারা দেশের জন্য ও মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আর অন্য দলের সভায় যারা যান তাদের বিরিয়ানি খাওয়া থেকে শুরু করে টাকা-পয়সা ও টি-শার্ট দিয়ে সমাবেশে নিয়ে আসেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে বর্বরতা ঘটেছে তার গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে কালো অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হবে। তারা যেভাবে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে নেতাকর্মীদের মেরে আহত করেছে। লুটপাট করেছে। অসভ্য ব্যবহার ও আচরণ করেছে। তারা আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবি ভেঙে ফেলছে। তারা হিংস্র। তারা হত্যাকারী। এই চেহারা এখন শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে। বিদেশি মিশনগুলোতে যা পাঠিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে তারা দোষী নাকি নির্দোষ তা জনগণের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।

সরকার বিদেশিদের বলে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না। আবার তারাই বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। বিদেশিদের পেছনে দৌড়াচ্ছে। কোনো কাজ হবে না। দেশের জনগণ এই সরকারকে আগেই বাতিল করেছে এখন বিশ্ব তাদের বাতিল করেছে। তাদের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো পথ নেই। ইনশাআল্লাহ আমাদের আন্দোলন সফল হবেই।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যেভাবে একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী লুটপাট চালিয়েছে সেভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে নারকীয় তা-ব ও লুটপাট চালিয়েছে।

আজকে এই সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আপনারা কাকে রক্ষার জন্য এই কাজ করছেন। গুটিকয়েক লোককে রক্ষার জন্য কোটি কোটি মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা বলব, গুটি কয়েক মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে জনগণের পক্ষে থাকুন। বিচারকদের বলব—আপনার শপথ নিয়েছেন কিন্তু তা পালন করেননি। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর কাছে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন সেটা মাস্তানদের বক্তব্য। তিনি ভোট ডাকাত। তিনিই আবার বলেন, ভোট চোরদের জনগণ ভোট দিবে না। এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। না হলে তাকে বাধ্য করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পাঁচ সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। সবার অবিলম্বে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকারের বুঝতে হবে বিএনপি দেশে ভেসে আসেনি। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না। ভেবেছেন সবাইকে গ্রেপ্তার করে আর গুলি করে হত্যা করে ক্ষমতায় থাকবেন। সেটা ভুল। এভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা ও বিনাভোটের নির্বাচন দেশের মানুষ কোনো নির্বাচন হতে দিবে না। এজন্য আমাদের আরও বেশি সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম সফল করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনাকে বিদায় করা হবে। প্রশাসন ও পুলিশকে বলব নিরপেক্ষ থাকুন। কারণ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে না।

 

সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে: ড. মোশাররফ
 
স্টাফ রিপোর্টার
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। তারা চলে যাবে। কিন্তু আপনারা থাকবেন। সুতরাং আপনারা জনগণের সংগে থাকুন।
 
আজ মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সমাবেশ শুরু হয়।
 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র নেতা আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি
 
ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
 
সমাবেশের শুরু আগেই সকাল থেকে বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
 
এর আগে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশে ১৩ ডিসেম্বর ঢাকাসহ বিভাগীয় ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
 
 
এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনের রাস্তার এক পাশে নাইটিংগেল-ফকিরাপুলের মোড় বন্ধ ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তছনছ করে বর্বরতা চালানো হয়েছে। ল-ভ- করেছে। সেখান থেকে সিনিয়র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কম্পিউটার ভেঙে ফেলছে। যার লক্ষ্য ছিল ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগের গণসমাবেশ প- করা। একইভাবে তারা বিভিন্ন বিভাগের গণসমাবেশ প- করতে পরিবহন ধর্মঘট ও হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছিল। তবুও আমাদের গণসমাবেশ ঠেকাতে পারেনি। বরং জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
 
তিনি বলেন, সরকার ভেবেছিল আমাদের মহাসচিব সহসিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে সমাবেশ প- করবে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি। সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
 
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোটাধিকার হরণ করেছে। গণতন্ত্র হত্যা করে দিনের ভোট রাতেই ডাকাতি করে অবৈধভাবে সংসদ গঠন করেছে।
 
 
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে গিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। ব্যাংকগুলো লুট করা হচ্ছে। মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। তারা ঠিকমতো খেতে পারে না।
 
তিনি বলেন, বানোয়াট মামলায় ফরমায়েশ রায় দিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানকে বিদেশে থাকতে বাধ্য করেছে। তেমনিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের ক্ষমতার জন্য ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ এত নির্যাতন করেও বিএনপি দুর্বল হয়নি। যার প্রমাণ বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ। জনগণ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, এই সরকারকে তারা চায় না। সেই লক্ষ্যে আমরা যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছি।
 
তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফয়সালা হবে রাজপথে। প্রশাসন ও পুলিশের সদস্যদের বলব, আপনার দলের কর্মী নন। আপনারা শপথ নিয়েছেন। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।
 
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পুলিশ বাহিনী আমাদের অফিসকে ল-ভ- করেছে। মহাসচিব ও মির্জা আব্বাসকে রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে গেছে। কোনো কাজ হয়নি। এই সরকার নিজেরাই রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। লাখ লাখ মানুষ ঢাকার সমাবেশে অংশগ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে তা সফল করেছে।
 
আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠার রাজনীতি করে। তারা মানুষ হত্যা করে। কিন্তু এভাবে নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষকে ঠেকানো যাবে না। এখনো বলছি শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিন। ইতোমধ্যেই বিএনপির সমাবেশে জনগণ রায় দিয়েছে যে তারা আপনাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিন।
 
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সভা সমাবেশে কাউকে টাকা দিয়ে আনা হয় না। আমাদের সমাবেশে যারা আসেন তারা দেশের জন্য ও মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আর অন্য দলের সভায় যারা যান তাদের বিরিয়ানি খাওয়া থেকে শুরু করে টাকা-পয়সা ও টি-শার্ট দিয়ে সমাবেশে নিয়ে আসেন।
 
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে বর্বরতা ঘটেছে তার গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে কালো অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হবে। তারা যেভাবে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে নেতাকর্মীদের মেরে আহত করেছে। লুটপাট করেছে। অসভ্য ব্যবহার ও আচরণ করেছে। তারা আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবি ভেঙে ফেলছে। তারা হিংস্র। তারা হত্যাকারী। এই চেহারা এখন শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে। বিদেশি মিশনগুলোতে যা পাঠিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে তারা দোষী নাকি নির্দোষ তা জনগণের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।
 
সরকার বিদেশিদের বলে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না। আবার তারাই বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। বিদেশিদের পেছনে দৌড়াচ্ছে। কোনো কাজ হবে না। দেশের জনগণ এই সরকারকে আগেই বাতিল করেছে এখন বিশ্ব তাদের বাতিল করেছে। তাদের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো পথ নেই। ইনশাআল্লাহ আমাদের আন্দোলন সফল হবেই।
 
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যেভাবে একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী লুটপাট চালিয়েছে সেভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে নারকীয় তা-ব ও লুটপাট চালিয়েছে।
 
আজকে এই সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আপনারা কাকে রক্ষার জন্য এই কাজ করছেন। গুটিকয়েক লোককে রক্ষার জন্য কোটি কোটি মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা বলব, গুটি কয়েক মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে জনগণের পক্ষে থাকুন। বিচারকদের বলব—আপনার শপথ নিয়েছেন কিন্তু তা পালন করেননি। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর কাছে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।
 
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন সেটা মাস্তানদের বক্তব্য। তিনি ভোট ডাকাত। তিনিই আবার বলেন, ভোট চোরদের জনগণ ভোট দিবে না। এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। না হলে তাকে বাধ্য করা হবে।
 
সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পাঁচ সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। সবার অবিলম্বে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
 
তিনি বলেন, সরকারের বুঝতে হবে বিএনপি দেশে ভেসে আসেনি। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না। ভেবেছেন সবাইকে গ্রেপ্তার করে আর গুলি করে হত্যা করে ক্ষমতায় থাকবেন। সেটা ভুল। এভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা ও বিনাভোটের নির্বাচন দেশের মানুষ কোনো নির্বাচন হতে দিবে না। এজন্য আমাদের আরও বেশি সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম সফল করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনাকে বিদায় করা হবে। প্রশাসন ও পুলিশকে বলব নিরপেক্ষ থাকুন। কারণ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন