ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সোনালি আসর

শহর দিল্লিতে একদিন

মুসলিম ঐতিহ্য ঘেরা

| প্রকাশের সময় : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মু হা ম্ম দ  না জ মু ল  ই স লা ম : মুসলিম ইতিহাস এবং ঐতিহ্যঘেরা শহর দিল্লি। ঐতিহ্য এবং পর্যটকের শহরও বটে। নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিশাল দেশ ভারতের রাজধানী। দিল্লি শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ভারতবর্ষের মুসলমানদের উত্থান-পতনের নানা কাহিনী। প্রবাদ আছে, ‘ভারত দেখলে বিশ্ব দেখা হয়। আর দিল্লি দেখলে ভারত দেখা হয়।’ এ প্রবাদ কেবল বাংলাদেশেই নয়, দূরপ্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যেও সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত। দিল্লি শহর ও আশপাশের এলাকাজুড়ে রয়েছে বিশ্বের সপ্তাশ্চার্যের অন্যতম তাজমহলসহ ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত বেশ কিছু প্রাচীন নান্দনিক স্থাপনার সমাহার। তাই সারা বছরই পর্যটকের ভিড় দিল্লিতে। তাজমহল, কুতুব মিনার, হুমায়ুন মমমাকবারা, লোটাস টেম্পল, অক্ষরধামে বিদেশি পর্যটকদের ভিড় দেখে মাঝেমধ্যে বিভ্রম হয়। কখনও একা, কখনওবা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নানা ভাষা, নানা ধর্ম, নানা সংস্কৃতি ও নানা দেশের মানুষ।
এই মুসলিমদের ঐতিহ্যঘেরা দিল্লি দর্শনে আমাদের এক কাফেলা বেরুই দারুল উলুম দেওবন্দের ছুটির দিনে। একে একে দেখি অনেক মুসলিম ঐতিহ্য। বিচরণ করতে থাকি ইতিহাসের প্রতিটা পাতায় পাতায়। আমাদের সফর শুরু হয় আমাদেরই ঐতিহ্য আর লাল টকটকে স্মৃতিভা-ার নিয়ে আজও দ-ায়মান থাকা লাল কেল্লা দিয়ে...
লাল কেল্লা
সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘল স¤্রাট শাহজাহান দিল্লিতে নির্মাণ করেন। এটা বিশাল প্রাচীর বিশিষ্ট একটি দুর্গ। ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই দুর্গটি ছিল মুঘল সা¤্রাজ্যের অধীনে। তারপর ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করে।
মুঘল সা¤্রাজ্যের অন্যতম নিদর্শন দিল্লির রেড ফোর্ট বা লাল কেল্লা। অপূর্ব নির্মাণশৈলীর লাল রঙের বিশাল এ স্থাপনাটি ভারতের সমৃদ্ধ প্রাচীন স্থাপত্যকলার অন্যতম উদাহরণ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে দিল্লির এ কেল্লার সঙ্গে। ১৬৩৮ সালে স¤্রাট শাহজাহান এই কেল্লাটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে এর নাম ছিল কিলা-ই-মুবারক। কারণ এই দুর্গে স¤্রাটের পরিবারবর্গ বাস করতেন। দুর্গটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীর পানিতে পুষ্ট হতো দুর্গের পরিখাগুলো। এর উত্তর-পূর্ব কোনের প্রাচীর সালিমগড় দুর্গ নামে অপর একটি প্রাচীন দুর্গের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৫৪৬ সালে ইসলাম শাহ সুরি এই প্রতিরক্ষা দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। লাল কেল্লার পরিকল্পনা ও সাজসজ্জা শাহজাহানের শাসনকালে মুঘল স্থাপত্য ও চিত্রকলার উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে লাল কেল্লা ছিল দিল্লি ক্ষেত্রের সপ্তম নগরী তথা শাহজাহানের নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের রাজপ্রাসাদ। পরবর্তীকালে অবশ্য তিনি দিল্লি থেকে আগ্রা শহরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন।
লাল কেল্লায় বসবাসকারী শেষ মুঘল স¤্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার পর ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর লাল কেল্লা পরিত্যাগ করেন। পরে তিনি ব্রিটিশ বন্দি হিসেবে এই দুর্গে ফিরে আসেন। ১৮৫৮ সালের ২৭ জানুয়ারি তার বিচার শুরু হয় এবং ৭ অক্টোবর তাকে নির্বাসন দ- দেয়া হয়। এরপর লাল কেল্লার কর্তৃত্ব ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। তারা এটিকে একটি ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের পরাজয়ের পর লাল কেল্লাতেই যুদ্ধবন্দিদের বিচার হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই কেল্লাটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।
লাল কেল্লার অলঙ্করণ ও শিল্পকর্ম অতি উচ্চমানের। পারসিক, ইউরোপীয় ও ভারতীয় শিল্পকলার সংমিশ্রণে তৈরি এই অভিনব শিল্পকলাটি স্বতন্ত্রতার দাবিদার। স্থাপত্য শিল্পের বিচারেও এই দুর্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গের প্রাচীর মসৃণ এবং দৃঢ়। এর দুটি প্রধান দরজা হলো দিল্লি গেট ও লাহোর গেট। লাহোর গেট প্রধান দরজা। এই গেট দিয়ে ঢুকলে একটি লম্বা আচ্ছাদিত বাজার পথ পড়ে। এর নাম চট্টা চক।
চলবে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
৩০ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:৪৪ পিএম says : 0
আমি গর্বিত , আমার ক্লাসমেট বন্ধুবর নাজমুল কাসেমীর একটি কলাম দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইনকিলাবে এসেছে। আল্লাহ ভাই নাজমুল কে উলামায়ে দেওবন্দের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে কবুল করেনিন।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন