ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

প্রকাশের সময় : ১৮ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ আবু মুসা, জয়পুরহাট থেকে : জয়পুরহাট জেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল। এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের ফলে চিকিৎসা সেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অব্যাহত  এই অবস্থার ফলে জেলাবাসী স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও সংকটে পড়েছে। বর্তমানে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ১শ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ১শ ৫০ শয্যার কার্যক্রম। ১শ শয্যার জন্য ওই হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪৫টি এর মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ, চর্ম, যৌন বিশেষজ্ঞ, রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নেই বছরের পর বছর। জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১শ শয্যাবিশিষ্ট জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন হাসপাতালটিতে ৪৫ জন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়। এই হাসাপাতালটির চিকিৎসকসহ জনবল না বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি এটিকে ১৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। ১৫০ রোগীর পথ্য ও ওষুধ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ১৫০ রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। আগের লোকবল দিয়েই রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের। হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০ থেকে ২৫০ রোগী। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয় এসব মানুষকে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। সূত্র আরও জানায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাতজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন মাত্র দুজন। চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ ১৩টি, আছেন নয় জন। আবাসিক চিকিৎসকের দুটি পদের মধ্যে একটি অচেতনবিদের তিনটি পদের মধ্যে দুটি এবং জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তার দুটি পদই শূন্য ছাড়াও এমার্জেন্সি বিভাগে মেডিকেল অফিসারের পদগুলো রয়েছে শূন্য। জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আতাউর রহমান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। যে কয়জন আছেন তাদের প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হয়। জয়পুরহাট জেলার বাইরে আশপাশের এলাকার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। তাই প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে। প্রত্যেক চিকিৎসককে তার ধৈর্য ও সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয় এখানে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে সংকট সমাধানে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো শূন্য পদগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। তবে ১৫০ শয্যার রোগীর জন্য পথ্য ও ওষুধ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকের অভাবে প্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে জেলার পাঁচটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯৯টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫৫টিই শূন্য। এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার ভরসা এসব হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটে রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসাপতাল কর্তৃপক্ষকে। ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পদ শূন্য রয়েছে ৪৪টি। জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৬টি। সেখানে আছেন মাত্র নয় জন। পদ শূন্য রয়েছে ১৭টি। কালাইয়ে ২৬টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ১৭টি। সেখানে কর্মরত আছেন ১০ জন। শূন্য সাতটি পদ। ক্ষেতলালে ১৪টি পদের বিপরীতে নয় জন চিকিৎসক আছেন। সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১৩টি। কর্মরত ১১ জন। এ ছাড়াও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিকিৎসকের তিনটি পদ রয়েছে। সেখানেও একটি পদ খালি।  জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন জসিম উদ্দীন হাওলাদার বলেন বিপুলসংখ্যক চিকিৎসকের পদ ফাঁকা থাকায় সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় জেলার সাধারণ জনগোষ্ঠী ও নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর একাধিকবার আবেদন করে এখনো নিয়োগ পাওয়া যায়নি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন