সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা বিদ্রোহীরা প্রচারণায় এগিয়ে

গ্রামীণ জনপদে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া

প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই ভোট প্রার্থনা করতে প্রার্থীরা কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন। আগামী ৩১ মার্চ ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ। গত ১৪ মার্চ প্রার্থীরা তাদের পছন্দের প্রতীক পেয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এ নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় প্রার্থী ও সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ দলের অবস্থান ভোটারদের মাঝে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিন-রাত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ সদস্যরাও বসে নেই। বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আগে দোয়া পরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নিজেকে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী হিসেবে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন অনবরত। সখ্যতা গড়ে তুলছেন মরচে পড়া আত্মীয়স্বজনদের সাথেও। বন্ধু-বান্ধবদের দেখা না পেলে মোবাইলে কথা বার্তা বলছেন। সব প্রার্থীই বলছেন, নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। আ.লীগ মনোনীত প্রার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে বিদ্রোহীরাও মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। অনেক বিদ্রোহীরাই জয়ের মালা ছিনিয়ে নিবেন। দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহীরা এরই মধ্যে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন। বিএনপির প্রার্থীরাও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই কর্মীর অভাবে। জামায়াতের প্রার্থীরাও কোণঠাসা রয়েছেন। ১নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৯ জন। আ.লীগ মনোনীত ইউনিয়ন সভাপতি শমেস উদ্দিন (নৌকা), বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি মজনু মিয়া (অটোরিক্সা) ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম জাবেদ (ঘোড়া) নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বিএনপির নাজমুল হুদা (ধানের শীষ) ও জাপার রেজাউল হক রেজা (লাঙ্গল) জাপার বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী আব্দুল গফুর ম-ল (আনারস) নির্বাচনী মাঠে কোমর বেঁধে নেমেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাহবুবার রহমান খান (মোটরসাইকেল) ও সমস উদ্দিন (চশমা)। ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ২নং সোনারায় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে জাপার আনছার আলী সরদার (লাঙ্গল), আ’লীগের সৈয়দ বদিরুল আহসান, বিএনপির মতিয়ার পারভেজ (ধানের শীষ) দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। অন্যান্যরা হচ্ছেন, আ’লীগের একমাত্র বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী উদয় নারায়ণ সরকার (আনারস), সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্রপ্রার্থী জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল) ও নিশাম উদ্দিন (চশমা) ভোট যুদ্ধে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে সৈয়দ বদিরুল আহসান, আনছার আলী সরদার ও জাকির হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩নং তারাপুর ইউনিয়নে ৩ প্রার্থী। আ’লীগের আব্দুস সামাদ (নৌকা), জাপার নেতা হলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন আমিনুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ও জামায়াত কর্মী একরামুল হক (আনারস)। আব্দুস সামাদ ও আমিনুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ৪নং বেলকা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন। দলীয় প্রতীকে জাসদের আজিজুল ইসলাম (মশাল), বিএনপির আব্দুল জব্বার দুলাল (ধানের শীষ), আ’লীগের মজিবর রহমান (নৌকা)। আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা কমিটির সদস্য জহুরুল হক সরদার (মোটরসাইকেল), কামরুজ্জামান সরদার (চশমা) ও আশরাফুল আলম সরকার (আনারস)। এছাড়া জামায়াত নেতা স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ (দুটি পাতা) ও স্বতন্ত্র শহিদুল ইসলাম নাদিম (ঘোড়া)। ১৭ হাজার ৫৩৮ জন ভোটারের এ ইউনিয়নে মজিবর রহমান, জহুরুল হক সরদার ও আব্দুল জব্বার দুলালের মধ্যে ভোট যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। দহবন্দ ইউনিয়নে আ’লীগের গোলাম কবির (নৌকা), বিএনপির েেখারশেদ আলম (ধানের শীষ), জাপার আঃ রাজ্জাক প্রামানিক (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান ম-ল (আনারস), আমিনুল ইসলাম সাজু (মোটরসাইকেল), জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা প্রামানিক (চশমা)। এর মধ্যে আমিনুল ইসলাম সাজু জাসদের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন। জামায়াত নেতা বিগত নির্বাচনে অতি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম মোস্তফা প্রামানিক, গোলাম কবির মুকুল, শাহজাহান ম-ল ও খোরশেদ আলমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়নে একেএম নুরুন্নবী মিয়া (ধানের শীষ), মশিউর রহমান সরকার (লাঙ্গল), এটিএম রফিকুল ইসলাম (নৌকা) ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাহাবুর রহমান (চশমা), শফিউল হোসেন (দুটি পাতা), শহিদুর রহমান (মোটরসাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া (ঘোড়া), শামুছুল আলম (আনারস) ও হাসানুল মান্নান (টেলিফোন) নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুর রহমান। এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া এগিয়ে রয়েছেন। রামজীবন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন। এর মধ্যে এটিএম এনামুল হক মন্টু (লাঙ্গল), খন্দকার এটিএম মাজেদুর রহমান (চাকা), সুনীল কুমার বর্মন (নৌকা)। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হচ্ছেন ইদ্রিস আলী (অটোরিক্সা), এটিএম সাখাওয়াত হোসেন (ঘোড়া), জামায়াত নেতা আলহাজ্ব মিজানুর রহমান (চশমা), আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুল হুদা সরকার (টেবিল ফ্যান), শাহ মোঃ মোন্নাফ সরকার (টেলিফোন), সাফায়েত আলী (মোটরসাইকেল) ও হাসান আলী (আনারস)। নির্বাচনী মাঠে জাপা এটিএম এনামুল হক মন্টু ও জামায়াতের মিজানুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন। ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন আ’লীগের বিদ্রোহী। এরা হলেন ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ (মোটরসাইকেল) ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রওশন আলম আকন্দ (আনারস)। ভোটের মাঠে এদেরও অবস্থান শক্ত। এছাড়া আ’লীগ মনোনীত মোখলেছুর রহমান রাজু (নৌকা), এটিএম মাহবুব আলম শাহিন (লাঙ্গল), জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম সাজু (চশমা), এটিএম রাশেদুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), মোখলেছুর রহমান ম-ল (ঘোড়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ও জাপার এটিএম মাহবুব আলম শাহিন, আ’লীগের মোখলেছুর রহমান রাজু, জামায়াতের আমিনুল ইসলাম সাজু ও মোখলেছুর রহমান ম-লের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৩৫ জন। প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। এরা হলেন জাপার আশরাফুল আলম (লাঙ্গল), আ’লীগের কনক কুমার গোস্বামী (নৌকা), বিএনপির তারা মিয়া (ধানের শীষ), জাসদের মামুন-উর রশিদ প্রামানিক রুবেল (মশাল) ও স্বতন্ত্র আশাদুজ্জামান (রজনীগন্ধা), ইয়াসিন আলী (চশমা), জোস্না বেগম জনতা (আনারস), জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), মোফাচ্ছেরুল ইসলাম (ঘাড়া)। এখানে নৌকা, আনারস ও চশমা প্রতীকের মধ্যে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১০নং শান্তিরাম ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ৮জন। এরা হলেন জামায়াত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছামিউল ইসলাম (মোটরসাইকেল), এটিএম মিজানুর রহমান (অটোরিক্সা), মমিনুর রহমান (আনারস), আব্দুল মান্নান সরকার হান্নান (ঘোড়া), সাজেদুল ইসলাম (চশমা), শরিফুল ইসলাম শাহিন (লাঙ্গল), মোস্তাফিজুর রহমান (নৌকা), ফারুক হোসেন (ধানের শীষ)। এ ইউনিয়নে ছামিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ নং কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এরা হচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান দুর্লভ চন্দ্র ম-ল (আনারস), শফিউল ইসলাম (নৌকা), মনোয়ার আলম সরকার (ধানের শীষ) ও আশরাফুল আলম চাকলাদার লিটন (লাঙ্গল)। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান (ঘোড়া) ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল করিম সরকার (চশমা)। ১৩ নং শ্রীপুর ইউনিয়নে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন আজাহারুল ইসলাম (আনারস), আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রী জ্যোতিভূষণ বর্মন (মোটরসাইকেল), একেএম ফজলুল হক ম-ল (ঘোড়া), শহিদুল ইসলাম (নৌকা), শাহাদত হোসেন (ধানের শীষ) ও আব্দুল হামিদ সরকার (চশমা)। এ ইউনিয়নে নৌকা ও আনারস প্রতীকের মধ্যে দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪নং চ-িপুর ইউনিয়নে ৭ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এরা হলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ (নৌকা), আব্দুল মালেক মিয়া (ধানের শীষ), ফুল মিয়া (লাঙ্গল), আবু রায়হান সরকার (ঘোড়া), ফজলুল হক সরকার (চশমা), আ’লীগের বিদ্রোহী মাইদুল ইসলাম টেক্কা (আনারস), রাজা প্রামানিক (মোটরসাইকেল)। এ ইউনিয়নে আনারস, ধানের শীষ, নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য এ উপজেলা ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ায় ১১নং হরিপুর ইউনিয়ন বাদে বাকি ১৪ ইউনিয়নের তফশীল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে ১৫নং কাপাসিয়া ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করায় ১৩ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ভোটারদের কামনা ভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন