মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মুক্তাঙ্গন

উপকূলবাসীর জন্য চাই নিরাপদ আশ্রয়

প্রকাশের সময় : ২০ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এম এম খালেদ সাইফুল্লা

খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় দেড় লাখ মানুষ এবার দুর্যোগের সময় আশ্রয় খুঁজে পাবে না। ফলে তাদের ঝড়ঝাঁপটা ও বর্ষা-বাদলে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হবে। শুধু দাকোপই নয়, উপকূলীয় অঞ্চলে গত সিডর, আইলা প্রভৃতি দুর্যোগের সময় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। এসব দুর্যোগে মানুষকে আশ্রয় দেবার জন্য যেসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলো ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কতকগুলো পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আগামীতে এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় মারাত্মক বিপদের মধ্যে পড়বে।
শুধু মানুষই নয়, তাদের সম্পদ, সামান্য বাড়িঘর, গবাদিপশু সবই ঝুঁকিতে পড়বে। তাই দুর্যোগের দিনগুলোতে এলাকাবাসী যাতে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে জীবন রক্ষা ও তাদের সম্পদ বাঁচাতে পারেন সেদিকে এখনই নজর দিতে হবে। দাকোপেই আড়াইশ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা দরকার।
দাকোপের মতো আরও অনেক এলাকা রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলে। লাখ লাখ মানুষের বসত সেসব অঞ্চলে। ঝড়বাদলের দিনগুলোতে তাদের আতঙ্কে কাটাতে হয়। প্রায় প্রতি বছরই কমবেশি ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস হয়। জীবনহানি ঘটে। এলাকার স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ সাময়িক আশ্রয় নিলেও তাদের গবাদিপশু ও মালপত্র নিতে পারে না সময়মতো। ফলে ভিটেমাটিতে পড়ে থাকা গবাদিপশু ও মালপত্র সবই ঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায়। দুর্যোগ কেটে গেলে ভিটেমাটিতে দাঁড়াবার মতো অবলম্বন থাকে না। খোলা আকাশ আর তাদের ভিটেমাটি সবই যেন সমান হয়ে যায়। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে দুর্যোগকবলিতদের জীবন-জীবিকা। এমনকি তাদের বেঁচে থাকা শিশুদের স্কুলে দেয়ার মতো উপায়ও থাকে না দুর্যোগ পরবর্তী দিনগুলোতে। এলাকায় অনেক এনজিও সাহায্যের হাত বাড়ালেও তা পর্যাপ্ত নয়। কোনও কোনও এনজিও আবার দুর্যোগকবলিত মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে পশ্চিমা ধর্মাদর্শ প্রচার করে থাকে এমন অভিযোগও রয়েছে।
এদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাকের দেশ। প্রতি বছরই আইলা, সিডর প্রভৃতির মতো ঘূর্ণিঝড় এসে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন করে দেয়। তাই দাকোপের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করে মানুষকে বাঁচাবার চেষ্টা করতে হবে আমাদের সরকারকেই। এছাড়া এসব সেন্টার অন্য সময় যাতে স্কুল-মাদরাসা হিসেবে ব্যবহার করা যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে। আর এসব সেন্টার হওয়া দরকার স্থায়ী ও টেকসই। কারণ প্রতি বছর সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই তা ব্যয়বহুলও।
বর্তমানে এ উপজেলায় স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার ও সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে ৮৩টি। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ২টি, এলজিইডি কর্তৃক ৩৭টি, সিডিএমপি-৩টি, ফ্যাসেলিটি ডিপার্টমেন্ট ৩টি, বেসরকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কর্তৃক ১৬টি, রূপান্তর কর্তৃক ২টি, কারিতাস ৫টি, ডিএসকে ৩টি, সিএসএস ৩টি, ইসিআরপি ৪টি, ফায়ের খায়ের ৫টি।
তার পরেও বলতে হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার মতো এখানে পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার নেই। যার কারণে এ এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তাদের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়। সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলার অবস্থান হওয়ায় এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে জনসংখ্যার তুলনায় প্রয়োজনীয় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ জরুরি।
ষ লেখক : যুগ্ম মহাসচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি ও সভাপতি, ঢাকা মহানগর, এলডিপি

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন