মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মুক্তাঙ্গন

ইসলামী মূল্যবোধে বিভ্রান্তি বর্জনীয়

প্রকাশের সময় : ৪ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
মুসলমানের সব অনুভূতি, ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত অবস্থান তার অন্তরের উপলব্ধি থেকে উৎসারিত বিশ্বাসের সমষ্টি ও প্রতিফলন মাত্র। তার বিবেচনায় কোনো কিছু বলা, করা বা মেনে নেওয়া ঈমানী বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। অথচ আমরা অনেকেই না জেনে, না বুঝে এমন কতগুলো কথা বলি, যা রীতিমতো বিভ্রান্তিকর। ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তিগুলো বর্জন করা খুবই জরুরি।
আমরা বলি ‘অমুক খাঁটি মুসলমান’। এটা অযৌক্তিক। কারণ মুসলমান মাত্রই বিশ্বাসগত অবস্থান থেকে ‘খাঁটি’। কেউ ভেজাল মুসলমান নয়। পবিত্র কোরআনে মুসলিম, মুমিন, মুত্তাকি শব্দগুলোর মাধ্যমে যেখানে ব্যক্তির গুণগত মর্যাদা বোঝনো হয়েছে সেখানে আলাদা করে কাউকে ‘খাঁটি মুসলমান’ বলার প্রয়োজন হয় না। বরং মুমিনের আরো গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে : সাদিক, সিদ্দিক, যাকির, সালেহ, সায়িম, মুসল্লি ইত্যাদি। অন্যদিকে আলহাজ বা হাজি শব্দগুলো যেন ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান, অহংকারের বাহন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। একজন নামাজি বা রোজাদার নিজেকে ‘মুসল্লি’ বা ‘সায়িম’ নামে আত্মপ্রচার করেন না। তেমনি হজ একটি মৌলিক ইবাদতÑ গর্ব করার বিষয় বা পদবি-উপাধি নয়। তবু হজ ও হাজি সাহেবানের গুরুত্বে হয়ে যায় ‘হাজিপাড়া’ বা ‘হাজিগঞ্জ’ ইত্যাদি। আর ইবাদত ‘রিয়া’ তথা লোক দেখানোর বিষয় নয়। বরং সমাজ সংস্কার, জাতিগঠন ও কর্তব্যনিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণগণ হয়ে ওঠেন প্রাতস্মরণীয়। যেমন হাজী শরিয়তুল্লাহ, হাজী মোহাম্মদ মহসিন, হাজী দানেশ প্রমুখ।
একজন মুসলিমের পরিচয় প্রকাশ পায় তার কোমলতা ও ন¤্রতায়। পবিত্র কোরআনের ভাষায় “আর রহমানের (দয়াময়) বান্দা তো তারাই যারা বিনয়ের সঙ্গে চলফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’... যদি অহেতুক আমোদ-প্রমোদে গিয়ে পড়ে তবে ভদ্রভাবে তা অতিক্রম করে...” (ফুরকান : ৬৩-৭২)। একজন মুসলমান স্বভাবতই শান্তিপ্রিয়। তার ব্যবহার ও বক্তব্যে থাকে শান্তি-নিরাপত্তা ও ইসলামী মূল্যবোধের ছোঁয়া। কেননা, প্রিয়নবী (সা.) বলেন, “মুসলমান সে-ই যার মুখ ও হাতের অপকারিতা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ...” (তিরমিজি)।
ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তির নমুনা হলো : সগর্বে বলা হয় ‘ওংষধস রং ঃযব নবংঃ’ এখানেও মনে হয়, না বোঝার একটি বিষয় আছে। ইংরেজিতে মড়ড়ফ, নবঃঃবৎ, নবংঃ তিনটি অবস্থা তিনটি অবস্থানের পরিচায়ক। ভাবতে হবে, নিজের বিশ্বাসকে নবংঃ বলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হলেও তো অপরের বিশ্বাসগুলোকে মড়ড়ফ/ নবঃঃবৎ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো না কি? অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহ মনোনিত একমাত্র ধর্ম” (আল-ইমরান : ১৯)। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা, আনুগত্য, ইবাদত ও সামাজিক সাম্য-শান্তির ধর্ম ইসলাম। মহান আল্লাহ মনোনিত ও প্রিয়নবীর (সা.) প্রচারিত পরিপূর্ণ ও একমাত্র জীবনাদর্শ ইসলামই মানুষের ইহ-পারলৌকিক সাফল্য, মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। এ জন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে মুমিনগণ। ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু” (বাকারা : ২০৮)। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করে আরো বলেছেন, “কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীন (জীবনাদর্শ) গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না” (আল ইমরান : ৮৫)। কাজেই, বলতে হবে ওংষধস রং ঃযব পড়সঢ়ষবঃব পড়ফব ড়ভ ষরভব অথবা বলা উচিত ওংষধস রং ঃযব ড়হষু ঃৎঁব ধিু ড়ভ ষরভব পযড়ংবহ নু অষষধয ভড়ৎ সধহশরহফ.
ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তির আরো একটি দিক নিয়ে আমার প্রায়ই খটকা লাগে। যখন শুনি, ‘অমুক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে’। অথবা বলা হয় ‘তার অকাল মৃত্যু...’! আসলেই কি একজন মুসলমান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার সামর্থ্য রাখেন? আমরা কি জানি কার হায়াৎ কত দিন কতক্ষণ? তবে কেন বলি ‘অকাল মৃত্যু...’! বরং মৃত্যু তো মহান আল্লাহর হুকুম একটি অনিবার্য সত্য। মরণের অনুগামী প্রতি প্রাণ ও প্রত্যেকেই। আল-কোরআনের বিখ্যাত বাণী : ‘কুল্লুনাফ্সিন যায়িকাতুল মাউৎ’ (সবাইকে মরণের স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। আল-ইমরান : ১৮৫)। মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায় না, পালানোর পথও নেই। কেউ চাইলে মহান আল্লাহর সব হুকুম ও শক্তিকে অস্বীকার করতে পারে কিন্তু তারপরও তাকে মৃত্যুর কূলে জীবনের তরী ভেড়াতে হবেই। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা যে মৃত্যু হতে পালাতে চাও, তোমাদের সেই মৃত্যুর সামনে যেতেই হবে” (জুমআ : ৮)। মহাপ্রভুর মহাশক্তিময় আদেশ মৃত্যু। তাই তো তিনি বলেন, “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুরক্ষিত-সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও” (নিসা :৭৮)। মজার ব্যাপার, আমরা সবাই বেহেশতে যেতে চাই অথচ মরতে চাই না। শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি বার্ধ্যক্যের হাত ধরে হলেও তো মৃত্যু আসবেই। সবকাল ও সবদেশে সবার জন্য এটাই চরম সত্য। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা হলো মৃত্যুর বেলায় মহান আল্লাহর বিধানে ‘ক্ষণকাল বিলম্বিত বা ত্বরান্বিত’ করা হবে না। কবি বলেছেনÑ
“মৃত্যু যে দিন বলবে জাগো প্রভাত হল তোমার রাতি;
নিভিয়ে যাব আমার ঘরের চন্দ্র-সূর্য দু’টি বাতি”।
আমরা প্রায়ই কথা প্রসঙ্গে বলি ‘বিসমিল্লায় গলদ’। জিজ্ঞাসা হলো ‘বিসমিল্লাহ’র মতো বরকতময় বিষয় কি করে আমাদের চেতনায় ‘গলদ’ সৃষ্টি করল? অথচ আমরা জানি “...পূর্ববর্তী সব আসমানি কিতাবের সার নির্যাস রয়েছে আল কোরআনে। কোরআনের সার নির্যাস রয়েছে সুরা ফাতেহায়। সুরা ফাতেহার সার নির্যাস রয়েছে বিসমিল্লাহর মধ্যে... এরই সঙ্গে বিসমিল্লাহর ‘বা’ অক্ষরের মাহাত্ম্য অপরিসীম” (আল মাজালেসুস সুন্নিয়া)।
‘বিসমিল্লাহ’র অবমাননা আশঙ্কায় ‘বিসমিহী তা’লা’ বিভিন্ন চিঠি, প্রচারপত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলনটি অনুসরণীয় যুগের নয় বরং সাম্প্রতিকতম উদ্ভাবন। জাহিলিয়্যাতের যুগে লোকদের অভ্যাস ছিল সব কাজ তাদের দেব-দেবীর নামে শুরু করা। এ চেতনা রহিত করার জন্যই ‘বিসমিল্লাহ’র বিধান চালু হয়। পবিত্র কোরআনের প্রথম আদেশ “পাঠ করুন, আপনার প্রভুর নামে...” (আলাক : ১)। ইসলামের শুভ সূচনার যুগে প্রিয়নবী (সা.) সব কাজ ‘বি-ইস্মিকা আল্লাহুম্মা’ বলে আরম্ভ করতেন এবং লেখার সময় এ কথা লেখাতেন। কিন্তু ‘বিসমিল্লাহ’ নাজিল হওয়ায় সব কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ পূর্ণবাক্য ব্যবহারের নিয়ম প্রবর্তন করা হয় (কুরতুবী : রুহুল মা’আনী)।
পবিত্র কোরআনের বাণী ‘বিসমিল্লাহ’র অবমাননার আশঙ্কা রয়েছে এমন ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ ব্যবহার না করা উচিত। চিঠিপত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার কারণে অবমাননার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ না লিখে বরং লেখকের উচিত মনে মনে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে নেওয়া। তবে যেখানে অবমাননার আশঙ্কা নেই যেমনÑ মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী গেট, সাইনবোর্ড, অনারবোর্ড, স্মৃতিফলক, ভিত্তিপ্রস্তর, বাড়ি-গাড়ির সামনে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা অত্যন্ত বরকতময়। ‘বিসমিল্লাহ’ একটি পবিত্র সূচনাধ্বনী এবং পবিত্র কোরআনের অংশ। ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণে ‘আল্লাহ’ ‘রহমান’ ‘রাহীম’ তিনটি পবিত্র নাম সন্নিবেশিত। অথচ আল্লাহর নাম স¥রণের আকাক্সক্ষায় ব্যবহৃত ‘বিসমিহী তা’লা’র মধ্যে ‘আল্লাহ’ শব্দটিও অনুপস্থিত!!
সাবার রানী বিলকিসের সঙ্গে সোলেমানের (আ.) পত্রালাপে ‘বিসমিল্লাহ’র উল্লেখ রয়েছে। সুরা নামলের- ২৯-৩৪ আয়াতের আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’র শক্তি ও রানীর অসহায়ত্ব প্রমাণিত হয়েছে। সোলেমানের (আ.) চিঠি এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) চিঠির সূচনায় মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা প্রমাণ করে যে, চিঠিপত্রের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা নবীদের সুন্নাত। সাবার রানী বিলকিসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা ছিল, আর রানী ছিলেন অমুসলিম। মিসরীয় গবেষক ড. হামিদুল্লাহর মতে প্রিয়নবী (সা.) যাদের কাছে পত্র পাঠিয়ে ছিলেন তাদের সংখ্যা দুই-আড়াই শ’র কম নয়। প্রিয়নবী (সা.) যেসব শাসকের কাছে পত্র দিয়েছিলেন তারাও ছিলেন অমুসলিম। এ ক্ষেত্রে অবমাননার আশঙ্কা, এমন কি দু-একটি ক্ষেত্রে দুঃখজনক ঘটনাও ঘটে। অথচ প্রিয়নবীর (সা.) প্রত্যেকটি চিঠির শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পূর্ণ বাক্যটি পবিত্র কোরআনের ভাষাÑ আরবিতে লেখা ছিল।
ইসলাম সব সময় সহজ, স্বাভাবিক ও সত্যের পথে সামগ্রিক ঐক্যের চেতনা দান করে। কিন্তু বর্তমানে ইসলামের কিছু বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষকে অবাক করে। যেমনÑ (ক) কেউ কেউ ইদানীং চিঠিপত্রের সূচনায় ‘আসসালামু আলাইকুমে’র স্থলে লেখেন ‘মা’স্সালামাহ্’। (খ) তারাবিহ নামাজের রাকাআ’ত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক (গ) নামাজের পরে মোনাজাত করা বা না করা (ঘ) মিলাদ ও দরূদ শরিফ পড়া না পড়া (ঙ) একই দিনে ঈদ বা রোজার সম্ভাব্যতা প্রচলন (চ) কেউ বা বলেন মাযহাবের প্রয়োজন কী? ইত্যাদি। কেউ কেউ সূত্র ও প্রমাণ হিসেবে মক্কা-মদিনা ও আরব দেশের উদাহরণ টানেন। যার ফলে বিতর্ক-বিভ্রান্তি শুধু বাড়েই। এমন ক্ষেত্রে দাঁড়ালো কীÑ তারাবিহ, মোনাজাত, মিলাদ, ‘বিসমিল্লাহ’ সবকিছু প্রশ্নবিদ্ধ এবং বিতর্কিত! আর এর সবই যদি মানা শুরু করা হয় তবে ইসলাম ও মুসলমানিত্ব কেমন রূপ পাবে? আমরা জানি, বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বুজুর্গ আলিম, ওলি-আউলিয়া ও স্বনামধন্য পীর-মুর্শিদের মাধ্যমে। তবে কি তাঁদের দেখানো-শিখানো পথ-পদ্ধতি ভুল ছিল?
মাজার, ফতোয়া, জিহাদ ইত্যাদি আজ ব্যবহার দোষে বিতর্কিত পরিভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সত্য কথা হলো জঙ্গিবাদ বলতে প্রচলিত অর্থে যা বোঝায় ইসলামের পবিত্র পরিভাষা জিহাদ বলতে তা বোঝায় না। জাতীয় জীবনে বহুল আলোচিত ‘ফতোয়াবাজি’ এবং ইসলামী অনুশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘ফতোয়া’ এক বিষয় নয়। আর মাজার ও উরস- জিয়ারত ইত্যাদি নিয়ে যত কটাক্ষ তার জবাবে বলা যায়, ওইসব মাজারে যারা শুয়ে আছেন তাঁরাই তো আমাদের জন্য ইসলাম নিয়ে এদেশে এসেছিলেন। যদি তাঁদের আদর্শ চর্চা করা হতো তবে বিতর্কের অবসান হতো। কেননা, ইসলামের সব তৎপরতার মূল শক্তি হলো পরকালমুখিতা কিন্তু বর্তমানে চলছে ইবাদত ও আমল বিমুখিতার প্রতিযোগিতা।
বস্তুত হঠকারিতা ও অতি ভক্তিবাদের স্থলে সত্য, সহজ, স্বাভাবিকতার মধ্যম পন্থাই হলো প্রকৃত ইসলাম। প্রিয়নবী (সা.) বলেন, “মধ্যম পন্থাই সর্বোত্তম পন্থা”। তাই সব বিভ্রান্তি ও বিতর্কের স্থলে ঐক্য, সম্প্রীতি, শ্রদ্ধা, স্বীকৃতির আদর্শে আল্লাহমুখী চেতনায় সব ধরনের ইবাদত বিমুখ ও আমল বিনষ্টকারী নতুনত্বের পথ পরিহার করাই হলো ইসলাম ও মুসলমানের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এবং জরুরি কর্তব্য। মহান আল্লাহ বলেন, “আল্লাহকে ভয় কর, যে রূপ ভয় করা উচিত এবং প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না, আর আল্লাহর (বিধানের) রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না” (আল-ইমরান : ১০২)।
পরিশেষে কামনা, ইসলামী মূল্যবোধে প্রচলিত বিভ্রান্তিগুলোর অবসান হোক। দুর্বিনীতার স্থলে সবিনয়ভাবই হলো ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার পূর্বশর্ত। নিজেকে নগণ্য, নিঃশর্ত, নাজুক, নিঃসম্বল হিসেবে মহাপ্রভুর দরবারে নিবেদন করাই হলো ইবাদতকারী সুলভ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। কেননা, ইবাদতে নিবেদিত হওয়ার শিক্ষা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, “বল আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ সবকিছুই বিশ্বপ্রভু আল্লাহর জন্য” (আনআম : ১৬৫)।
ষ লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন