ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

তিস্তার বুকে সবুজের সমারোহ

পীরগাছা (রংপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বছরের পর বছর ধরে নদী শাসন ও ড্রেজিং না করায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে এক সময়ের খরগ্রোতা তিস্তা আবাদি জমিতে রূপ নিয়েছে। তাই তিস্তার ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। চরাঞ্চলের পলি ও দো-আঁশ মাটিতে চাষাবাদ করে আলোর মুখ দেখছে কৃষকেরা। চরাঞ্চল জুড়ে সবুজের সমারোহে আলু, মিষ্টি কুমড়া, স্ট্রবেরি, তরমুজ, বাঙ্গি, ভুট্টা, গম, পিঁয়াজ, রসুন ও বাদামসহ নানা জাতের ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে রবি শস্যের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শাক শবজি ১ হাজার ৫০ হেক্টর, আলু ৯ হাজার ৩’শ হেক্টর, ভুট্টা ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর, সরিষা ৫শ’ ১০ হেক্টর, গম ২৬০ হেক্টর, মরিচ, পিয়াজ ও রসুন ৩২৫ হেক্টর। এছাড়া চরাঞ্চলে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে রবি শস্যের আবাদ হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে শুধুই সবুজের সমারোহ। চরে চাষাবাদ হচ্ছে আলু, পিঁয়াজ, রসুন, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, গম, তামাকসহ নানা জাতের ফসল। কৃষকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল পরিচর্যায়।
কৃষকরা জানান, এক সময় দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করতো তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষ। চরে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাল্টে গেছে এখানকার জীবনযাত্রা।
উপজেলার চর ছাওলার কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, বছর কয়েক আগেও তারা অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছেন। এখন তারা তিস্তার বুকে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান জানান, চরের পতিত জমিগুলো দিন দিন চাষাবাদের আওতায় আসছে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসলের রোগবালাই কম হয় এবং সার ও কীটনাশক কম দিতে হয়। ফলনও খুব ভালো হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন