ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে

লালপুর (নাটোর) থেকে মো.আশিকুর রহমান টুটুল | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজি বসন্থ কবি সুভাস মুখোপাধ্যায়ের এই অমর পঙক্তিটি ও ‘নারী হয় লজ্জাতে লাল, ফাল্গুনে লাল শিমুল বন’ নারীর সাথে বসন্তের তুলনা করে বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখ থেকে শোনা কবীর ভাষায় এই পঙক্তিটি বাঙ্গালির জীবনে আবার ফিরে এসেছে। মাঘ মাস শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে বইতে শরু করেছে ফাল্গুনের হাওয়া। ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে। বছর ঘুরে প্রকৃতির তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে নতুন রূপে। বসন্তের আগমনে শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে ফাগুনের আগুনে মানুষের মন আর প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। বসন্তের রঙ্গ ও রূপে নিজেকে সাজাতে প্রকৃতি এখন মেতে উঠেছে। প্রকৃতি ধারণ করছে রূপলাবণ্যে ভরা মনোহর পরিবেশ। ফাল্গুনের আগুনে শীতের তীব্র রুক্ষতা কেটে পাতা ঝড়া বৃক্ষগুলির মাথায় দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা, কুলি ও ফুল। প্রকৃতিতে বসন্তের সাজ সাজ রব শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।
সরেজমিনে নাটোরের লালপুর উপজেলার (ওয়ালিয়া-দয়ারাপুর) সড়কের গিয়ে দেখা যায় ফুলবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার ধারের নতুন কুড়ি ও ফুলে কয়েকটি শিমুল গাছে রঙিন হয়ে আছে। শীতের খোলসে ঢেকে থাকা ফলজ বাগান গুলিও এখন মুকুলে ভরপুর। রাস্তার দুই ধার দিয়ে মেহগুনি ও কড়ই গাছ গুলি প্রকৃতির আদরমাখা স্পর্শে জেগে উঠেছে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি ফিরে পেতে চলছে ফুল, ফল ও সবুজের এক অপরূপ সমারহ যা এনে দিয়েছে বসন্ত। পলাশ ও শিমুলের প্রস্ফুটিত হাসিতে শিমুল বনে যেন লেগেছে লেলিহান লাল রঙ্গের আগুনের ছোয়া। বসন্তের কোকিলও তার মিষ্টি কুহুতানে মাতাল করতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্তের সবুজ-শ্যামল বাংলায়।
নিয়ম অনুসারে ছয় মাস অন্তর অন্তর ঋতু বদলায় তার রূপ, রং আর সৌন্দর্য। ছয় মাস আগের প্রকৃতি আর আজকের প্রকৃতির মধ্যে অনেক পার্থক্য। প্রকৃতির নিয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখ থেকে শোনা যায় এক ঋতুর আবহাওয়া আর এক ঋতুর ১৫ দিন আগেই বিস্তার লাভ করে। তাই তো মাঘ মাস শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে বইতে শরু করেছে ফাল্গুনের হাওয়া। বসন্তের হাওয়ায় শিমুল ও পলাশ গাছে ফুটতে শুরু করেছে ফুল। বসন্তের বার্তা নিয়ে পলাশ গাছের কলি খাওয়ায় মেতে উঠেছে রাঙ্গা টিয়া। সেই সাথে আম, লিচু, জাম ও বেল গাছে গুলিতে মুকুলে ভরপুর। লালপুর উপজেলার বনপাড়া-গোপালপুর, বনপাড়া-দয়রামপুর সড়কের দুই ধারের শিমুল গাছগুলি নতুন কুড়ি ও লাল ফুলে প্রকৃতি যেন অনাবিল আনন্দ ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভ‚মিতে পরিনত হয়েছে। ইট-কাঠের এই যুগে বসন্তে প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে। নতুন কুঁড়িতে ছেয়ে গেছে উপজেলার ফলজ বাগানের বৃক্ষরাজি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন