ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

রাষ্ট্র, জনগণ ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ

তৈমূর আলম খন্দকার | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

রাষ্ট্র এবং এর গঠন প্রকৃতি, কার্যপরিধি, জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের আচরণ, রাষ্ট্রের কর্মকান্ড প্রভৃতি নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অনেক মতবাদ প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। রাষ্ট্রের প্রকার ভেদ ও রাষ্ট্রের গতিশীলতা, সীমাবদ্ধতা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক রচনাবলী, থিসিস, আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া একটি রাষ্ট্রের নায়ক, খলনায়ক ও ভিলেন নির্ধারণ সম্পর্কে যুগ গড়িয়ে যায় কিন্তু আলোচনা সমালোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে পৌছায় না। সংক্ষিপ্ত আকারে একটি রাষ্ট্রীয় সঙ্গা এই যে, নির্দিষ্ট ভূ-খন্ডের একটি জনগোষ্ঠী যা স্বার্ভভৌম একটি সরকার দ্বারা পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত। কিভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নির্ধারিত না হলেও জনগণের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার (জন্মগত অধিকার) নিশ্চয়তার বিধান করাই রাষ্ট্রীয় মূল দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্র চলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে বা চাহিদা মতে রাষ্ট্র জনগণের পকেট কাটে। বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা ভূ-খন্ড হয়েও সেন্ট-মার্টিন (পূর্বনাম নারিকেল জিঞ্জিরা) প্রবাল দ্বীপ কিন্তু রাষ্ট্র নহে বরং রাষ্ট্রের একটি অংশ মাত্র। পৃথিবীতে অনেক অনেক স্বতন্ত্র ভূ-খন্ড রয়েছে যাদের আধিবাসীগণ সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম প্রভৃতি দিক দিয়ে মূলভ‚খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও আলাদা কোন রাষ্ট্র নহে যাদের সার্বভৌমিকতা নাই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১/২ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, (১) প্রজাতন্ত্র - বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হইবে এবং (২) প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত হইবে “(ক) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে যে সকল এলাকা লইয়া পূর্ব পাকিস্তান গঠিত ছিল এবং সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪-এ অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলিয়া উল্লিখিত এলাকা, কিন্তু উক্ত আইনে বহির্ভূত এলাকা বলিয়া উল্লিখিত এলাকা তদবহিভর্‚ত এবং (খ) যে সকল এলাকা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সীমানাভুক্ত হইতে পারে।”
একটি রাষ্ট্রে সবকিছু থাকে, যেমন-রাষ্ট্র প্রধান, রাষ্ট্রীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় সংগীত, রাষ্ট্রীয় ভাষা, রাষ্ট্রীয় ধর্ম, রাষ্ট্রীয় মুদ্রা, রাষ্ট্রের নিজস্ব সম্পত্তি, রাষ্ট্রীয় উপাধি প্রদানের এখতিয়ার, অন্যদিকে কাউকে যে কোন অপরাধ বা সংবিধান লংঘনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়ার ক্ষমতাসহ সকল আইন, ক্ষমতা প্রভৃতির উৎস রাষ্ট্র। একজন নাগরিকের দন্ডমুন্ডের কর্তা হচ্ছে রাষ্ট্র, যেহেতু স্বীকৃত মতে State is the Source of law. এখানে পর্যালোচনার বিষয় হলো জনগণের রক্ষাকর্তা রাষ্ট্র কি অপরাধ করতে পারে? বা নিয়মিত/অনিয়মিত অপরাধ করে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Poul Tappan এর লেখা থেকে অপরাধের সংঙ্গা হিসাবে বলা হয়েছে যে, “Crime is an intentional act in violation of the Criminal Law committed without defence or excuse and penalige by the State as faloney”. রাষ্ট্রের কার্যত: তিনটি স্তম্ভ, যথা-আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। মূলত: সমাজ ও জনগণের চাহিদা মিটানোর জন্য আইন প্রনয়ন (আইন বিভাগ), আইন ভঙ্গকারীকে প্রতিরোধ বা চিহ্নিত করে বিচারের সম্মূখীন করা এবং আইন পর্যালোচনাপূর্বক ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তার বিধান (বিচার বিভাগ) প্রভৃতি রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব যা রাষ্ট্র উক্ত তিন বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভ‚মিকা কার্যকর করে। রাষ্ট্র যেখানে অপরাধের বিষয়গুলি নির্ধারণ করে এবং অপরাধীকে শাস্তি দেয়, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যদি নিজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তখন রাষ্ট্রকে শাস্তির আওতায় আনার দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে কার উপর বর্তাবে? রাষ্ট্র বিজ্ঞানী Chambliss (1989) বলেছেন যে, রাষ্ট্র দু’ভাবে অপরাধ করে। যথা-State Organized Crime এবং State Sponsered Crime| । অর্থাৎ রাষ্ট্র নিজেই অপরাধকে সংগঠিত করে অথবা রাষ্ট্র অপরাধের যোগান দেয় বা পৃষ্ঠপোষকতা করে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মতে “State Crimes are committed by, or on behalf of States and Governments in order to execute their further policles” অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নীতিমালাকে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র অপরাধ করে।
“ভবিষ্যত নীতিমালা” বলতে কি বুঝায়? ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে রাখাই “ভবিষ্যত নীতিমালার” বাস্তবায়নের প্রধান উদ্দেশ্য। ২০০৪ ইং সনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Green & Ward প্রনীত “State Crime: Government, violance and corruption” বইতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “State Crime is “illegal or deviant activities perpetrated by, or with the complicity of State agencies”, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় অপরাধ সে সকল বেআইনী ও অসৌজন্যমূলক কর্মকান্ড যা রাষ্ট্র নিযুক্ত বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দ্বারা সংগঠিত হয়ে থাকে।
অযৌক্তিক, অসৌজন্যমূলক ও বেআইনী ভাবে অথবা আইনকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য কর্মকান্ডই রাষ্ট্র কর্তৃক সংগঠিত অপরাধ। যথা- গণহত্যা, নির্যাতন, বিনা বিচারে আটক, প্রহসনমূলক বিচার, একতরফা বিচার, হত্যা, গুম, বৈষম্যমূলকভাবে আইন প্রয়োগ, ন্যায্য অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় এজেন্সীগুলিকে অসৌজন্যমূলকভাবে লেলিয়ে দেয়া, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার প্রপাগান্ডারের জন্য ব্যয় করা, কৃত্রিম দূভিক্ষ সৃষ্টি করা প্রভৃতি।
বিগত ১০০ বৎসরে ৫০ মিলিয়ন মানুষকে রাষ্ট্র কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। জোর গলায় দাবী করা হয় যে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতা বিংশ শতাব্দীতে মানব সমাজ অনেক এগিয়ে আছে। অথচ এই বিংশ শতাব্দীতেই অধিক মাত্রায় রক্তপাত হয়েছে। ইতোপূর্বে কোন শতাব্দীতে এতো রক্তপাত সংগঠিত হয় নাই। জাতিগত নিধন, নৃগোষ্টিকে নিমূল, বা ধর্ম ও বর্ন বিভেদের কারণে নর হত্যা সংগঠিত হলেও শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য লক্ষ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। রক্তপাত হয় নাই এমন কোন সিংহাসন খুঁজে পাওযা অত্যান্ত দুষ্কর। (১) ১২২৯ থেকে ১৯২৩ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত তুর্কির অটোম্যান সম্রাট দুই মিলিয়ন মানুষকে নির্যাতন করে দেশ থেকে বিতারিত ও ১.৫ মিলিয়ন নর-নারী, শিশু এমন কি নিজ পরিবারের সদস্যদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, (২) ১৯৩২ ইং সনে মাত্র ৪৪% খাদ্য উৎপাদন করে সোভিয়েত সরকার কৃত্রিম দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করেছে। এ সময় স্টালিন বলেছেন যে, “The Great Bulk (of the 10 million) were very unpopular and were wiped out by their labourers”, (৩) Holocaust চলার সময়ে হিটলারের নেতৃতাধীন নাজীরা গ্যাস চেম্বার, প্রকাশ্যে হত্যার মাধ্যমে ১১ লক্ষ জিউকে হত্যা করে, (৪) হালে মিয়ানমারে গণহত্যা চালাচ্ছে বৌদ্ধ সেনাবাহিনী। “জীব হত্যা মহাপাপ” বৌদ্ধ ধর্মের মূলমন্ত্র হলেও রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যাকে বৌদ্ধরা পাপ মনে করছে না। ১৯৪৮ ইং সনে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সেনাপ্রধান General Newin এর নেতৃত্বে উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে গণহত্যা শুরু করে যা এখনো বিদ্যমান, যার ফলশ্রুতিতে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। রোহিঙ্গারা মুসলমান বিধায় মিয়ানমারের এ হত্যাকান্ডের সমর্থন জানাচ্ছে চীন ও ভারত। রোহিঙ্গা জন সংখ্যাকে রোধ করার জন্য ২০০৫ ইং সনে মিয়ানমার সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, কোন রোহিঙ্গা নারী তিন সন্তানের বেশী গ্রহণ করতে পারবে না, ২০০৭ ইং সনে আইনকে সংশোধন করে বলা হয় যে, ২ সন্তানের বেশী গ্রহণ করতে পারবে না, যদি তৃতীয় সন্তান গ্রহণ করে তবে মিয়ানমার পেনাল কোডের ১৮৮ ধারা মোতাবেক ৩য় সন্তান জন্মদাত্রীকে ৬ মাসের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘের Fact Finding Mission মিয়ানমার সরকারের উক্ত কর্মকান্ডকে গণহত্যা হিসাবে নির্ধারণ করেছে। উক্ত মিশনের প্রতিনিধি ক্রিষ্টেফাল সিগোতি ১৪/৫/২০১৯ ইং সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, রোহিঙ্গাদের পূণর্বাসন সম্পর্কে জাতিসংঘ ঘোষিত কোন নীতিমালা মিয়ানমার কর্নপাত করছে না। অথচ সেনাবাহিনীর মূখপাত্র General Tun Tun জাতিসংঘ ঘোষিত সকল কার্যক্রম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একটি রাষ্ট্র এ ভাবেই অপরাধ করে যা প্রতিকারে জাতিসংঘ একটি ঠুঁটো জগন্নাথ মাত্র। পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলির তাবেদারী করাই জাতিসংঘের প্রধান কাজ। পৃথিবীতে ৫৬টি মুসলিম রাষ্ট্র থাকা সত্বেও পৃথিবীতে মুসলমানরাই সবচেয়ে অবহেলিত। মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংগঠক Organiatizou of Islamic Cooperatdin OIC একটি মৃত প্রায় সংগঠন যাদের নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ ছাড়া অন্য কোন ভূমিকা নাই।
১৯৭১ ইং সনে পাকিস্তান যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা করে তখনো চীন ও আমেরিকা পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছে। আমেরিকার 7-Fleet যুদ্ধ জাহাজ যদি যথা সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়তো তবে হয়তো মুক্তিযুদ্ধ অনেক দীর্ঘ স্থায়ী হতো। ঐ সময়ের গণহত্যার সময় জাতিসংঘের ভূমিকাও ছিল ঠুঁটো জগন্নাথের মত।
রাষ্ট্রের অপরাধের রকম বিভিন্ন ধরনের। রাষ্ট্রীয় অপরাধ ঠেকানোর একমাত্র ঔষধ “গণতন্ত্র”। গণতন্ত্র যেখানে নাই সেখানে প্রতিবাদের কন্ঠ যায় হারিয়ে এবং গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম স্বৈরাচারী স্রোতের টানে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এবং প্ল্যাট ফর্মের নিষ্ক্রিয়তাও যথাযথ কারণে গণতান্ত্রিক কর্মীরা নানা কারণে ঝিমিয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের ঘাড়ে চেপে যারা ক্ষমতায় একবার বসে তারাই গণতন্ত্র হত্যার কুট কৌশল খোজে। কৌশলকে সমর্থন দেয়ার জন্য কেনা গোলাম অর্থাৎ ফরমায়েসী বুদ্ধিজীবীর অভাব হয় না। রক্তের বিনিময়ে কেনা সাধের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ কি এর ব্যতিক্রম?
বাংলাদেশে রাষ্ট্র যন্ত্র দ্বারা কি গণ মানুষ নির্যাতিত? সংবিধানের উল্লেখিত মৌলিক অধিকার কি জনগণ ভোগ করছে? সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হচ্ছে? সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রীয় কর্মচারীরা কি জনগণের সেবায় নিয়োজিত না জনগণকে হয়রানী ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে? সরকার কি ঘোর দলীয় করণের ঊর্দ্ধে? আমলাতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কি সাধারণ গণ মানুষের জন্য আদর্শ না অভিশাপ? সংবিধান লংঘনকারীদের কোন দিন কি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে? এ সকল প্রশ্নের জবাব খোঁজার জন্য জনগণ যাবে কোথায়?
রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মতে State crimes are as acts defined by law as criminal and committed by state officials in the pursuit of their job as representative of the state অর্থাৎ রাষ্ট্র অপরাধ সংগঠিত করে তাদের নিযুক্ত কর্মচারী (রাষ্ট্রযন্ত্র) দ্বারা যারা বিভিন্ন কর্মে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
লেখক: কলামিস্ট ও আইনজীবী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন