ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাঙন

রোষানলে গ্রাম ছেড়েছেন জনপ্রতিনিধিরা

সিরাজগঞ্জ থেকে সৈয়দ শামীম শিরাজী | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী ৫টি জেলায় দূর্গম চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়নবোর্ড কার্যকর কোন ব্যবস্থা না করায় যেমন জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তেমনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন এলাকার মানুষের গালমন্দ ও রোষানলে পরে গ্রাম ছেড়েছেন। ফলে ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বর্ষাকাল আসতে না আসতেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার, কৈজুরি, জালালপুর, খুকনি, সোনাতুনি ও গালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চর এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকায় কিছুটা বালুর বস্তা ফেললেও অন্যান্য স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, ধীতপুর, মাকড়া, শ্রীপুর, ছোটচানতারা, বানতিয়ার গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, এই ইউনিয়নে হাটপাচিল, ভাটপাড়া, চরঠুটিয়া, গুধিবাড়ি, জগতলার চর এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে।

জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জানান, তার ইউনিয়নের পাকুরতলা, ভেকা এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গালা ইউনিয়নের চিথুলিয়া, তারটিয়া ও চরপাইখন্দ গ্রাম যমুনা নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে।

ওই সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খানের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। তাই এ ব্যাপারে এখন আর কাউকে কিছু বলি না। ভাঙণ রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় প্রতিদিন এলাকাবাসীর গালিমন্দ শুনতে হচ্ছে। ফলে এলাকাবাসীর গালাগালের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে শাহজাদপুর শহরে আশ্রয় নিয়েছি। তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যেই শতাধিক বাড়িঘর, গাছপালা ও ২০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ধীতপুর, শ্রীপুর, পাকুরতলা, হাটপাচিলচিথুলিয়া, পাইখন্দ গ্রাম বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া বানতিয়ার ও শ্রীপুর বাজার, ৫টি মসজিদ, ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩টি বিদ্যালয় ও অসংখ্য বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

শ্রীপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম, ছোটচানতারা গ্রামের জিয়াইল হক, এরশাদ আলী, পাকুরতলা গ্রামের এমদাদুল হক, হাটপাচিল গ্রামের রজব আলী, আবদুল আলীম, ধীতপুর গ্রামের আলমাস মন্ডল জানান, গত বছরের ভাঙনেই আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ বছরও যদি ভাঙন ঠেকানো না যায় তবে আমরা একেবারে পথে বসে যাব। তাই এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অপরদিকে, কাজিপুরের চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। এ অঞ্চলের পাটগ্রামের জুড়ান আলী বলেন আমার বাড়ি ছিল মাঝনদীতে। ভাঙতে ভাঙতে আজ তের বার বাড়ি বদল করেছি। এখন স্পারের গোড়ায় আশ্রয় নিয়েছি। এখানেও ভাঙণ চলে এসেছে। বাড়িঘর হারিয়ে আমার সব কিছু শেষ। ভাঙনরোধে বালির বস্তা ফেরার কথা, তাও খবর নাই।

এভাবে আমরা আর কতদিন থাকবো। আ. রশিদ বলেন, ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়েই জীবন চলছে। দেখার কেউ নাই। বর্তমানে যেখানে আছি সেখানে হুমকির মুখে। ঈদের আগে স্পারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ব্যপক ভাঙন দেখা যায়। তবে সরকারিভাবে ভাঙনরোধে জোড়েসোরে কোন কাজ লক্ষ করা যায় নাই। যা কিছুই করেছে খুবই হালকা ভাবে। লোক দেখানো মাত্র। বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তাতে দ্রুত কাজ না করলে স্পার ভেঙে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান বলেন, বিষয়টি ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন