ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

মহানগর

মাদরাসার শিক্ষার সমস্যা তুলে ধরলো জমিয়াত

কারিগরি ও মাদরাসা সচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৯, ৮:২৪ পিএম

মাদরাসার ইবতেদায়ী স্তরে জনবল সঙ্কট, বিনা বেতনে শিক্ষকদের মানবেতর জীবন-যাপন, উপবৃত্তি ও টিফিন না দেয়া, নতুন জনবল কাঠামোর নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়া, মাদরাসা ও একাডেমি স্বীকৃতির ধীরগতিসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। মাদরাসা শিক্ষকদের একক ও একমাত্র অরাজনৈতিক সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকারকে। রোববার ( ৭ জুলাই) বিকেলে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের কনফারেন্স রুমে ওই বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

সভায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী সংগঠনটির সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীনের পক্ষ থেকে সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মাদরাসা শিক্ষার জন্য ধারাবাহিক কাজ করে যাচ্ছে। জমিয়াতের দীর্ঘদিনের দাবি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণসহ বড় বড় সব দাবি ও সমস্যার সমাধান হয়েছে। এজন্য জমিয়াতুল মোদার্রেছীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শিক্ষা পরিবারের সকলকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানাচ্ছে। তবে এখনো ছোটখাট কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। যেসব সমাধানে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতার।

এসময় তিনি কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিবের কাছে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে ৭টি সমস্যা এবং এর সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে- প্রথম সম্যায় বলা হয়: ২০১৮ জনবল কাঠামোতে ইবতেদায়ী স্তরে একজন শিক্ষক বৃদ্ধি করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বহু বছর থেকে সরকারী কোন উপবৃত্তি কিংবা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। দেশের ৬ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার মাত্র ৩ হাজার শিক্ষক নামে মাত্র সরকারী বেতন পাচ্ছেন, বাকী শিক্ষকগণ মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দীর্ঘদিনের দাবি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনার জনবল কাঠামো এবং বেতন ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১৮ অনুমোদন হলেও এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

দ্বিতীয় সমস্যা: বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের এখনো ১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামোই বলবৎ রয়েছে। তাতে সকল স্তরের শিক্ষক কর্মচারী সংকট এতই প্রকট যে, কোন ভাবেই মান সম্পন্ন শিক্ষা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ নীতিমালা জারী করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তৃতীয় সমস্যা: অজ্ঞাত কারণে বেশ কয়েক বছর যাবৎ মাদরাসার স্বীকৃতি ও একাডেমিক স্বীকৃতির কার্যক্রম ধীর গতিতে হওয়ায় অনেক মাদরাসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

চতুর্থ সমস্যা: জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য মাদরাসায় সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগের ন্যায় মাদরাসার মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে কারিগরি শাখা চালু করা সময়ের দাবী। তাতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষম জনসম্পদে পরিণত হবে।

পঞ্চম: ২০১৮ সালে ঘোষিত জনবল কাঠামোতে অস্পষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ষষ্ঠ: মাদরাসা বোর্ডের অডিন্যান্সে যেন মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা যেন বজায় থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বশেষ, মাদরাসা শিক্ষা ধারায় ৩০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা ধারায় ৩০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিধান থাকলেও ধর্মীয় বিষয়সমূহে এ আদেশ শিথিল রয়েছে। অনেক মাদরাসায় এখনও মহিলা শিক্ষকের অভাবে শূণ্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। লেখাপড়ার স্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।

জমিয়াত নেতৃবৃন্দের কাছে মাদরাসার সমস্যাগুলো শুনে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুনসী শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, জমিয়াতের দাবির সবগুলোই যৌক্তিক। তবে রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে আমরা চেষ্টা করবো সেসব সমাধান করার। তবে সময় লাগবে। তিনি জানান, তার বিভাগ মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিক। এছাড়া আগামী বছর থেকে ৯০টি মাদরাসায় কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সৈয়দ শরাফত আলী, মাওলানা মোসাদ্দিকবিল্লা আল-মাদানী, মাওলানা অছিয়র রহমান, পীরজাদা শাহ নেছার উদ্দীন, মাওলানা নুরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আ.ন.ম হাদিউজ্জামান, মাওলানা আ.খ.ম আবু বকর সিদ্দিক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক, সহকারী মহাসচিব মাওলানা কাযী আবুল বয়ান হাশেমী, ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মারুফ, মাওলানা মোঃ আনছারউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাছান মাসুদ, ড. মাওলানা মোঃ ঈদ্রিস খান, মাওলানা মোঃ জাকারিয়া, মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, মাওলানা আবু ইউসুফ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা আব্দুল হান্নান আজিজী, জনকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফুর মিঞা, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা আবুল ইরশাদ মোঃ সিরাজুম মুনির, পাঠ্যক্রম পাঠ্যসূচি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর মোঃ ছালেহ প্রমূখ।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মহাখালীস্থ গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা কবি রুহুল আমিন খান। সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- অধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম আবু বকর সিদ্দীক (ঢাকা), অধ্যক্ষ মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান (চাঁদপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক (ঢাকা), অধ্যক্ষ মাওলানা নূরুল ইসলাম (যশোর), অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ইউছুফ মৃধা (ফরিদপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল ইরশাদ সিরাজুম মনির (রাজবাড়ী), অধ্যক্ষ মাওলানা ইদ্রিস খান (ময়মনসিংহ), অধ্যক্ষ মাওলানা হুসাইন আহমদ (ফেনী), অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কাইয়ুম (গোপালগঞ্জ), অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল বাতেন (নেত্রকোণা), অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারউদ্দীন (কুমিল্লা), অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল আলম (মৌলভীবাজার), অধ্যক্ষ মাওলানা মোখতার আহমদ (চট্টগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিউর রহমান (চট্টগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা ওজায়ের আহমেদ (সাতক্ষীরা), অধ্যক্ষ মাওলানা নিজামুদ্দীন (লহ্মীপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ শারাফাত আলী, অধ্যক্ষ মাওলানা আনসারুল্লাহ (পাবনা), অধ্যক্ষ মাওলানা আখতার হোসেন (নাটোর), অধ্যক্ষ মাওলানা এ কে এম জাকারিয়া (খুলনা), অধ্যক্ষ মাওলানা মোবাশ্বেরুল হক নাঈম (ভোলা), অধ্যক্ষ মাওলানা নূর বখত (কুড়িগ্রাম), অধ্যক্ষ মাওলানা ছরওয়ার জাহান (সিলেট), অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুদ আলম (কিশোরগঞ্জ) ও অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক আহমদ (পিরোজপুর)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন