ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

রাজস্ব আসতে পারে পাবনার দর্শনীয় স্থানেও

মুরশাদ সুবহানী, পাবনা থেকে | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

পাবনা জেলা খুব বড় নয়, পদ্মা-যমুনা বিধৌত এই জেলায় রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। অনেক দর্শনীয় স্থানের সাথে জড়িয়ে আছে অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। পাবনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনাকে শিক্ষা নগরী মর্যাদা দিয়েছেন। এই স্থানগুলোকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। পর্যটকরা জানতে পারবেন এই ছোট জেলার নতুন-পুরাতন জানা-অজানা তথ্যের এক ভান্ডার। শেখ সাদী (রহ.) বলেছেন ‘যিনি ভ্রমণ করছেন, তিনি দরবেশ হয়েছেন।’ পৃথিবী জুড়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ছুটে চলেছেন এক দেশ থেকে আর এক দেশে। সম্রাট শাহজাহান যখন তাঁর স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসায় তাজমহল নির্মাণ করেন, তখন বলা হচ্ছিল, কোষাগারের অর্থের অপচয়। স্ত্রীর প্রতি অন্ধ ভালোবাসায় তাজমহল নির্মাণ করা ঠিক হয়নি। এই তাজমহল ভারতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে, দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থ আয় করছেন, সরকার। নেপালে ভূমিকম্প হয়, তারপরও হিমালয়কন্যার দেশে মানুষ ছুটে যান, পর্যটন ঐ দেশের মূল আয়। সব দেশের পর্যটন কথা টেনে কথা লম্বা করার দরকার নেই। ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক মানুষ মাত্রেই এসব দেখছেন প্রতিনিয়ত। 

আমাদের দেশে অনেক জেলা আছে, সেখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক স্থান রয়েছে। পাবনা জেলা তার মধ্যে একটি। এগুলোকে আরও সুসজ্জিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হলে সরকারের রাজম্ব আয় বাড়বে, ভ্রমণ ও জ্ঞান পিপাসু মানুষজন জানতে পারবেন অনেক ইতিহাস-ঐহিত্যর কথা।
পাবনায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অনেক স্থানের মধ্যে সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম হার্ডিঞ্জব্রিজ, লালন শাহ সেতু, পদ্মা-যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া নদ-নদী। এর মধ্যে বড়াল, আত্রাই, চিকনাই, মরা পদ্মা, হুরাসাগরসহ অনেক নদী। এই নদী থেকে চলমান বিল-বাওড় রয়েছে, যা দৃষ্টি নন্দন। বিস্তৃত চলনবিল, গাজনার বিল প্রভৃতি। ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে চাটমোহরে মাসুম খাঁ কাবুলী নির্মিত মসজিদ, হান্ডিয়ালে শাহ সলিম কর্তৃক নির্মিত মসজিদ, হান্ডিয়ালের জগন্নাথ মন্দির, চাটমোহরে রয়েছে সাহিত্যিক ও জমিদার প্রমথ নাথ চৌধুরীর বাড়ি, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়লা ব্রিজ ও নদী, পাবনা শহরে অদূরে কিংবদিন্তর ভাড়ারা মসজিদ, শহরে প্রাচীন জোড় বাংলা মন্দির, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের কিশোর কালের স্মৃতি বিজড়িত হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়ি, রাধানগরে ময়না মতি চরখ্যাত কবি বন্দে আলী মিয়ার বাড়ি, শহরের তাড়াশ বিøডিং (জমিদার বাড়ি), সঙ্গীত শিল্পী বারিন মজুমদারের বাড়ি এবং এখানে অনেক গুণি জনের বসত ভিটা রয়েছে।
পাবনা সুজানগরের সন্তান স্বনাখ্যাত কবি আবদুল গণি হাজারী ভিটে। দেশের একমাত্র স্পেশালাইজড মানসিক হাসপাতাল পাবনায় অবস্থিত। এর পাশেই পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগীর অভিভাবক ছাড়াও প্রতিদিন বিকেলে দর্শানার্থীরা আসেন দেখতে। এটি পর্যটন শিল্পের আওতায় নিয়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সরকার রাজস্ব আয় করতে পারেন। যা হাসপাতালের ও রোগীদের কল্যাণে কাজে আসতে পারে। দেশে সরকারি হাসপাতালগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সরকারকে বছরে ভর্তূকি দিতে হয়। হাসপাতালের আউট ডোরের টিকিট বিক্রি টাকা তেমন কোনো আয় নয়। অন্তত: মানসিক হাসপাতাল থেকে আয় করা যেতে পারে পর্যটন রাজস্ব আয়। এই হাসপাতালের পাশেই শ্রী ঠাকুর অনুক‚ল চন্দ্রের সেবা আশ্রম।
সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, হাইওয়ে থেকে টোল আদায়ের। তেমনি দৃষ্টি নন্দন পদ্মা, যমুনা, চলনবিল, গাজনার বিলে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছ থেকে থেকে পর্যটন শিল্পে আয় করা যেতে পারে। হার্ডিঞ্জব্রিজে প্রতি ঈদের ছুটিতে শত শত মানুষ আসেন। পর্যটন আয় হতে পারে এই ঐতিহাসিক ব্রিজ থেকে। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পর্যটন শিল্পের মধ্যে এই সব স্থানকে নিয়ে আসলে দেশী-বিদেশীদের ভিড় বাড়বে, আয় হবে রাজস্ব। পর্যটন এলাকার বাইরে রেখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দূর্জয়’ পাবনা, শেখ রাসেল শিশু পার্ক, বৃটিশ-ভারতের আমলে নির্মিত পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ দর্শানার্থীদের জন্য দেখার মতো স্থান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন