ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

গণপরিবহনে কম্পানির অধীনে মাসিক বেতনে চালক নিয়োগে হাইকোর্টের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:৫৬ এএম

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে একটি কম্পানির অধীনে গণপরিবহনে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর জীবন হারানো রাজিবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের ক্ষতিপূরণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আজ রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে বলা হয়, বাস কোম্পানি ও চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে বিদ্যমান সকল বাস কোম্পানিগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে আনতে হবে। সকল মহানগরে জোন বা লাইন ভিত্তিক বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ করতে হবে। যেখানে সমস্ত গাড়িকে একটি কোম্পানির অধীনে নিয়ে একেকটি রুটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাস সার্ভিস চালু করবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তি ও ডোপ টেস্ট করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে।

পাশাপাশি মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিটি ক্রসিংয়ে ও বাস স্টপেজে চালকরা বেপরোয়াভাবে গণপরিবহন চালাচ্ছে কি-না তা নজরদারি করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে বলেও রায়ে বলা হয়েছে।

এছাড়া রায়ে যত্রতত্র বাসে যাত্রী না তোলা, চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা সংরক্ষিত ও আবাসিক এলাকার সামনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের হর্ন না বাজাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বিবাদীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর জীবন হারানো রাজিবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।

রায়ে আরও বলা হয়, বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের চালকের বেপরোয়ার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। হালকা যানচালনার লাইসেন্স থাকার পরও তারা ভারি যান চালাচ্ছিল। তাদেরকে এ ভারি যান চালনার অনুমতি দিয়েছিল বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই দুর্ঘটনার দায় কোনোভাবেই দুটি পরিবহন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন