ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রাতের কাশ্মীরে আর্তনাদ

ভারতীয় সেনাদের বর্বরতা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে গত ৫ আগষ্ট থেকে উপত্যকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ভারত। সেখানকার স্বাধীনতাকামী জনগণ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য চালানো হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন। পুরো এলাকাটি দখল করে রেখেছে ভারতের সেনাবাহিনী। স্থানীয়দের মধ্যে যাকে সন্দেহ হচ্ছে তাকেই ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তারা। ভয়ে মুখ খুলছেন না সাধারণ মানুষ। পুরো উপত্যকায় বিরাজ করছে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ। আর্ন্তজাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।

অধিকৃত কাশ্মীরের একটি গ্রামেই প্রায় চব্বিশজন তরুণ সেনাবহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন শোপিয়ান জেলার হিরপোরা গ্রামের ২৬ বছর বয়সী আবিদ খান। এএফপি’কে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তার হাত দুইটি প্রচন্ড কাঁপছিল। তিনি জানান, ১৪ আগস্ট মাঝরাতের পরে এসেছিল সেনারা। তাকে তার ভাইসহ চোখ বেঁধে টেনেহিচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাইয়ের কিছু মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাইরে রাস্তার উপরেই আমার ভাইকে বিদ্যুতের শক দেয় তারা। চরম যন্ত্রণায় কাতরাতে শুনেছি আমি তাকে।’ এএফপি’র সংবাদদাতাকে নিজের বাহুতে, পায়ে এবং নিতম্বে বিদ্যুৎ শক দেয়ার চিহ্ন দেখিয়েছেন আবিদ খান। এ বিষয়ে তিনি জানান, চাওগাম সেনা ক্যাম্পে নেয়ার পর সেনারা তাকে উলঙ্গ করে হাতের কবজি ও পা বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পের মেজর বলেছে যে, আমি নাকি হিজবুল মুজাহিদিনের রিয়াজ নাইকুকে আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমি বারবার বলেছি যে, এটা সত্য নয়। এরপর তারা আবার আমার পুরুষাঙ্গ ও ক্ষতস্থানগুলোতে বিদ্যুতের শক দেয়। তাদের একজন বলে, আমাকে পুরুষত্বহীন করে দেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোরে ছেড়ে দেয়ার পর দাঁড়ানোর মতো শক্তিও আমার ছিল না এবং এরপর ১০ দিন ধরে আমি বমি করেছি। ২০ দিন পরে কোনরকমে চলাফেরা করতে পেরেছি আমি। এখনও ঠিকমতো খেতে পারি না। আমার স্ত্রী যে কক্ষে ঘুমায়, সেখানে আমি যাই না...এ ধরনের নির্যাতনের চেয়ে গুলি খেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।’

স্থানীয় অধিবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর সেখানকার জনগণের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার জন্যই এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গত মাস থেকে কাশ্মীরে যে অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঠেকাতেই এটা করা হয়েছে বলে দাবি করছে নয়াদিল্লি। কাশ্মীরে সামরিক বাহিনীর কোন ধরনের বর্বরতা চালানোর কথা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অস্বীকার করেছেন। একইভাবে অস্বীকার করেছেন কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়াও। এএফপি’কে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস-বিরোধী যে সব অভিযান চালানো হচ্ছে, এগুলো পেশাদার পন্থায় ও জন-বান্ধব প্রক্রিয়ায় চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

কিন্তু হিরপোরা এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন যে, তারা রাতে প্রায়ই সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে আর্তচিৎকার শুনতে পান। আরো তিনজন গ্রামবাসী এএফপিকে বলেছেন যে, তাদের উপরও নির্যাতন করা হয়েছে। শোপিয়ানের গ্রামগুলোর প্রায় দুই ডজন তরুণ একই নির্যাতনের কথা জানিয়েছে।

গুগলুরা গ্রামের ২১ বছর বয়সী ওবাইদ খান জানান, ২৬ আগস্ট আইডি ও ফোন ফেরত পেতে তাকে ওই একই ক্যাম্পে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আট সেনা আমাকে রড দিয়ে দীর্ঘসময় ধরে পেটায়। আমাকে ছেড়ে দেয়ার আগে তারা আমাকে বলে আমার গ্রামে যারা পাথর ছুঁড়েছে, তাদের নাম নিয়ে যেন পরের বার ফেরত আসি।’
পিঞ্জুরা গ্রামের স্থানীয় এক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার খান এএফপিকে বলেন, তিনি ১৮০০ মানুষের একটি তালিকা দেখেছেন, যাদেরকে শুধু শোপিয়ান থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের চারটি জেলার একটি এই শোপিয়ান। শোপিয়ান শহরে তার বাড়ি থেকে কিছু দূরেই পাঁচজন সেনাসদস্য কালো পোষাকে ফিরে এসেছে। তাদের বাহুতে লেখা ‘কমান্ডো’ এবং তারা অ্যাসল্ট রাইফেল বহন করছে। প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে তারা অধিবাসীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। পিঞ্জুরা কর্মকর্তা খান বলেন, ‘আমি যতটুকু বলতে পারি কেউ যাতে বিক্ষোভ করতে না পারে, সে জন্য এই চাপ দেয়া হচ্ছে। এবং এতে কাজ হয়েছে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (11)
লোকমান ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২০ এএম says : 0
কাশ্মীরের মুসলমান আজ এত অসহায়, আল্লাহ আপনি কাশ্মীরের মুসলমানদের হেফাজত করুন
Total Reply(0)
Billal ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২১ এএম says : 0
হেফাজতের মালিক আল্লাহ
Total Reply(0)
Sheikh Zinnah ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২১ এএম says : 0
একমাত্র আল্লাহ পারেন এই বিপদ থেকে রক্ষা করিতে কারন তিনি সর্ব শক্তিমান
Total Reply(0)
Nozrul Islam ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২১ এএম says : 0
Allah Borosha Allah Hefajote karega Insha Allah. Allah ki upor Borosha Rakho
Total Reply(0)
Salem Molla ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২২ এএম says : 0
হে আল্লাহ কাশ্মীরের মুসলিম ভাই বোনদেরকে আপনি আপনার রহমত দিয়ে হেফাজত করুন আমিন,,
Total Reply(0)
Fahim Bhuiya Fahim ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৩ এএম says : 1
এত অত্যাচার চালাচ্ছে মুদি সরকার, আর আমাদের দেশের সরকার বলে কিনা এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়!
Total Reply(0)
Emrul Kayes Emrul ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:২৪ এএম says : 0
হে আল্লাহ আপনি কাশ্মীরকে জালিমের হাত থেকে রক্ষা করুন। (আমিন)
Total Reply(0)
যদি কখনো সুযোগ হয় এই মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করবো। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:৫৭ এএম says : 0
খুব খারাপ লাগছে মুসলমানদের এ অবস্থা দেখে।
Total Reply(0)
Arafat ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৫৮ এএম says : 0
Allah help them help all Muslim
Total Reply(0)
Arafat ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৫৮ এএম says : 0
Allah help them help all Muslim
Total Reply(0)
Jahangir ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:১৯ পিএম says : 0
Why Allah will help them Allah gives powers to Muslim but all powerful Muslim country misuses their powers they wants money . they did not think if they fall that type of problem no one helps them. In the world lot of Muslim country they are silent they think silence is the best way to save friendship with Hindu. They forget Hindu killing Muslim . Kashmiri Muslim is not Arabic Muslim . They died what can we do but when they effect they will realized what we do no one is crying for us. USA attack Iraq they need oil. Not for to help quait. UN organization working very very very slowly for Muslim. Only the request government don't do this and they think we completed our work. It is true see what happened with rohinga? They can not do anything in last Two years. Because they are Muslim. So why Allah help theme if we don't help them at first we take actions Allah will help to make a independent Kashmir. Allah kobul korun.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন