ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

উল্টাপাল্টা আচরণ পুঁজিবাজারের

একগুচ্ছ সুবিধায়ও ফিরছেনা বাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) বাড়ানোর পর গ্রামীণফোনের সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এতে পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ভর করছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজার ভালো করার জন্য সরকার যে আন্তরিক তা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এরপর অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন আলোচনার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের বকেয়া আদায় করা হবে।

এসব পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে শেয়ারবাজার ভালো করার জন্য। এর আগেও একগুচ্ছ সুবিধা দেওয়া হয় শেয়ারবাজারের জন্য। কিন্তু বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং শেয়ারবাজার উল্টাপাল্টা আচরণ করছে। যেখানে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী বণতা দেখার কথা, সেখানে উল্টো টানা বড় দরপতন হচ্ছে। এটা কিছুতেই স্বাপভাবিক আচরণ হতে পারে না- এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাজারের যে আচরণ তাতে বোঝা যাচ্ছে টাকার অভাব। যারা শেয়ার কিনবে তাদের কাছে টাকার অভাব আছে। ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে নগদ টাকার সংকট আছে। বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বাজারে টাকার ফ্লো বাড়লে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে। তখন সমস্যাও কেটে যাবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬৯টির। ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৩২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের মতো ১ হাজার ৭৩৫ পয়েন্টে রয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস দরপতন হলো।

এমন টানা দরপতন হলেও শেয়ারবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত সোমবার অংশীজনদের সঙ্গে বেঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রীর ওই বৈঠকের খবরে রোববার ও সোমবার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দেয়। এরপর মঙ্গলবার আবার দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকালে ব্যাংকের এডিআর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপরও বুধবার দরপতন অব্যাহত থাকে। এর মধ্যেই অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা আসে আলোচনার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের বকেয়া টাকা আদায় করা হবে। এতদিন ধরে যে কথা বলে আসছিল গ্রামীণফোন, অর্থমন্ত্রীর কথায় তারও সুর পাওয়া যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছিল শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বৃহস্পতিবারও দরপতন হলো।

এ বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বাজার ভালো করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এটা সত্য। কিন্তু যারা বাজারে বিনিয়োগ করবে তাদের কাছে তো টাকা নেই। আইসিসিবি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ সবার টাকার সংকট রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বাজারে তারল্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে মূল্য সূচকের পতন হলেও বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বাজারে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফরচুন সুজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- মুন্নু জুট স্টাফলার্স, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, লিগাসি ফুটওয়্যার, মুন্নু সিরামিক এবং ন্যাশনাল পলিমার।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ১৯০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন