ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

মেঘনার চরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

এস এম বাবুল (বাবর), লক্ষীপুর থেকে | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

লক্ষীপুর সদর উপজেলার চর রমণী মোহন ইউনিয়নের মেঘনারয় নতুন করে জেগে উঠা চর মেঘা এবং কমলনগর উপজেলার কালকিনি ইউনিয়নের চর কাকড়া ও চর শামছুদ্দিনসহ জেগে উঠা ৩টি নতুন চরে রয়েছে পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনা।
বনায়নের ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে অন্য দিকে ভূমি ক্ষয়রোধ কমবে এবং উপক‚লীয় এলাকার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দূর্যোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। চরগুলো বনায়নের জন্য উপযোগী বলে স্থানীয়রা মনে করে।

পাশাপাশি ভোলা, বরিশাল, হাতিয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষেরা বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে চরগুলি। লক্ষীপুর জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আন্তরিকতা থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চর রমণী মোহন ইউনিয়নে নতুন করে জেগে উঠা চর মেঘা ও কমলনগর উপজেলার চর কাকড়া ও চর শামছুদ্দিন। ৩ টি চরের আয়তন প্রায় ১২ হাজার একর। ইতোমধ্যে মেঘনার অব্যাহত ভাঙণে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার প্রায় ৬ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় নদীতে তলিয়ে গেছে। নতুন চরগুলিতে ভাঙন কবলিন পরিবারের মধ্যে বরাদ্ধ দিয়ে তাদেরকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সামাজিক বনায়নের আওতায় এনে চরগুলিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন অথবা ঝাউ বাগান করলে পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠবে নতুন এই ৩টি চর।

সূত্র আরও জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে যখন বাংলাদেশের বিরাট অংশ সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে ঠিক সে লক্ষীপুরে মেঘনানদীর অথৈ জলে প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল চর জেগেছে, গড়ে উঠেছে মাইলের পর মাইল ভূখন্ড। দীর্ঘদিন ধরে শুধুই ডোবা চর হিসেবে বেশ কয়েকটি চর ভূমি ইতিমধ্যে স্থায়ী ভ‚খন্ডে পরিণত হয়েছে। লক্ষীপুরের নতুন জেগে উঠা এসব চর বিগত ২-৩ বছর ধরে জেগে থাকা ভরা জোয়ারেও আর তলিয়ে যাচ্ছে না। বরং দিন দিন বেড়ে চলছে এর আয়তন।

কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আফজাল কালাম বলেন, উপজেলার মেঘনা নদীতে চর কাকড়া নামক নতুন একটি ডুবো চর তৈরি হয়। এতে ৭ হাজার ৪ একর ভূমি রয়েছে। এসব ভূমি বর্তমানে জরিপে খাস জমি হিসেবে অর্šÍভুক্ত রয়েছে।
সরকারি ইচ্ছা করলে এই চরে নতুন কিছু করতে পারে। পাশাপাশি চর শামছুদ্দিন ও বনায়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্তি করতে পারে।

লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররমণী মোহন সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) জহির উদ্দিন বলেন, সদরের মেঘনা নদী সংলগ্ন নতুন করে চর মেঘা ও পুরাতন মেঘা মিলে প্রায় ৬ হাজার একর ভূমি রয়েছে। ভূমি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা থাকায় কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। ফলে খাস ভূমি হিসেবে চরগুলো পড়ে আছে।

লক্ষীপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব এলাহী সানি বলেন, আমি সম্প্রতি চর মেঘা ও চর শামছুদ্দিন ঘুরে এসেছি। খুব ভালো লেগেছে। সরকারি যদি এখানে ম্যানগ্রোভ বনায়ন অথবা ঝাউ বাগান করার উদ্যোগ নেয় তা হলে প্রতিদিন বিকেল বেলায় শত শত পর্যটক ওই স্থানে ঘুরতে যাবে। এতে করে মানুষের একটি বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হবে।

লক্ষীপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, আমি লক্ষীপুরে যোগদানের পর নতুন চর দেখতে চাই। আমার মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষ চর মেঘা ঘুরতে যেতে চায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঠামো, নিরাপত্তা ও দর্শনের কিছু থাকলে তা সম্ভব হবে। বনায়নের মতো এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা তা আমরা ভাবছি।

বৃহত্তম নোয়াখালী অঞ্চলের উপূকলীয় বন বিভাগের (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) বিপুল কৃজ্ঞ দাস জানান, চর অঞ্চল গুলোতে বনায়ন কর্মসূচি করলে সরকার অর্থনেতিক ভাবে লাভবান হবে। অন্য দিকে নদীর ভাঙণ রোধ হয়। পাশাপাশি বিনোদন ও পর্যটনের ওই সব এলাকা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আমরা বিষয়টি দেখবো। জেগে উঠা চরগুলো বনায়নের উপযোগী কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
লক্ষীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, নতুন ৩টি চর বনায়ন কর্মসূচির আওতায় আনা যায় কিনা আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখবো। উপযোগী হলে মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা র বন বিভাগ কে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলবো।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন