ঢাকা, রোববার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সম্রাট-শামীম-খালেদের টাকার সন্ধানে একাধিক সংস্থা

সম্রাট অসুস্থ, আদালতে হাজির করা হয়নি বিদেশ নেয়ার প্রয়োজন নেই : চিকিৎসক

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অবৈধ ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজিসহ দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া সম্রাট, জি কে শামীম-খালেদ মাহমুদের টাকার সন্ধানে র‌্যাবসহ একাধিক সংস্থা। এরই মধ্যে ওই তিনজনের সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছে একটি সংস্থা। রিমান্ডে খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট অসুস্থ হওয়ায় আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না বলে গতকাল আদালতকে প্রতিবেদন দিয়েছেন কারা কর্তৃৃপক্ষ। এদিকে সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এছাড়া সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা।

সম্রাটট অসুস্থ, আদালতে হাজির করা হয়নি
যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট অসুস্থ হওয়ায় আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না বলে আদালতকে প্রতিবেদন দিয়েছেন কারা কর্তৃৃপক্ষ। সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরাফুজ্জামান আনসারীর এজলাসে প্রতিবেদন দাখিল করে কারা কর্তৃৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাকে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক ও অস্ত্র মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত আরেক নেতা আরমানকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালত আরমানকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে সম্রাট ও আরমানের মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। শনিবার কুমিল্লা থেকে ক্যাসিনো কিং খ্যাত বহিষ্কৃত দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে আরমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্রাটকে বিদেশ নেয়ার প্রয়োজন নেই -চিকিৎসক
সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা। গতকাল দুপুরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিকিৎসক ডা. মহসীন আহমেদ বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। মঙ্গলবার যতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তার সবগুলো রিপোর্ট ভালো এসেছে। তবে রাতে তার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত ছিল। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। তাকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মহসীন বলেন, তার জীবনের কোনো ঝুঁকি নেই এবং তাকে বিদেশে নেয়ারও প্রয়োজন নেই। গতকাল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউিট ও হাসপাতালে পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিচালককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা সম্রাটকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন। গত মঙ্গলবার বুকে ব্যথা অনুভব করলে সকাল সাড়ে ৭টায় সম্রাটকে কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ঢামেক চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে আসে কারা কর্র্তৃৃপক্ষ।

সম্রাট-খালেদ-শামীমের তথ্য পর্যালোচনা
অবৈধ ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃত সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমের বক্তব্য পর্যালোচনা করছে গোয়েন্দারা। এদের মধ্যে সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। এ জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা খুবই জরুরি। একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে খালেদ ও জি কে শামীমকে। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, মতিঝিল এলাকায় ক্লাবপাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে নিয়োগ দেন সম্রাট। আর জি কে শামীম জানান, প্রায়ই বড় ধরনের কমিশন দিতেন তিনি সম্রাটকে। আর এর বিনিময়ে শত শত কোটি টাকার টেন্ডার পেতে সহযোগিতা করতেন সম্রাট।

টাকার সন্ধানে গোয়েন্দারা
একটি সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো, মাদক, অবৈধ মার্কেট-দোকান থেকে প্রতিদিনই প্রায় তিন কোটি টাকা চাঁদা আদায় হতো সম্রাটের। ভাগ-বাটোয়ারা শেষেও বিপুল টাকা থাকত তার। এসব টাকার একটা বড় অংশ সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াতে পাঠানোর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। দেশের বাইরে গেলেই সম্রাটের সঙ্গে থাকতেন যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ ও এনামুল হক আরমান। ক্যাসিনোতে খেলা, নারী সঙ্গ ও মদের আসরে আরমানকে পছন্দ করেন সম্রাট। দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করার কারণেই সম্রাটের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আরমান। অন্যদিকে, খালেদ ও সাঈদ ছিলেন সম্রাটের টাকা সংগ্রহ ও ভাগ-বাটোয়ারার দায়িত্বে। সম্রাটের পক্ষে এসবের হিসাব রাখতেন যুবলীগ দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক। প্রতি মাসে একাধিকবার সিঙ্গাপুরে যেতেন সম্রাট। সিঙ্গাপুরের অভিজাত মেরিনা বে স্যান্টস ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেন। সিঙ্গাপুরে তার এক গার্লফ্রেন্ডও রয়েছে। ওই ক্যাসিনোতে বিনিয়োগও রয়েছে সম্রাটের। শুধু তাই নয়, সিঙ্গাপুরে জনৈক বাংলাদেশি সাহেদের কাছে সম্রাটের বিনিয়োগ রয়েছে হাজার কোটি টাকা। শুধু সম্রাট নয়, সাহেদের কাছে বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতার হাজার কোটি টাকাও বিনিয়োগ রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমের কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য খতিয়ে দেখছে তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার কর্মকর্তারা। হুন্ডির মাধ্যমে এসব টাকা পাঠানো হতো বলে জানা গেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
MH Rubel ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৪ এএম says : 0
ওনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনো হাসপাতালে নেওয়া হোক।
Total Reply(0)
Md Sattar ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
শুরু হল আরাম আয়েশের জিন্দেগী!চিকিৎসার নাম করে মাসের পর মাস থাকবে শীততাপ নিয়ন্ত্রীত রুমে।খাবে বাসায় রান্না করা খাবার।স্বজনেরা করবে অবাধ যাতায়াত।থাকবে না কোন চিন্তা।আহা কি আনন্দ!
Total Reply(0)
Johnny Cynthea ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
উন্নত চিকিৎসার জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হোক। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এ করে। কিছু টাকা সাথে রাখলে ভালো সুস্থ্য হয়ে ক্যাসিনো ঘুরে আসবে।
Total Reply(0)
Kabeer Ahmed ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
সম্রাটকে নিয়ে আরও কত নাটক বাকি আছে। সম্রাটের চেহারা দেখলে বুঝা যায়, সরল সোজা মানুষ। শুধু ব্যবহার হওয়া একটা লোক।
Total Reply(0)
Adnan Habib ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
আরও কত নাটক অপেক্ষা করছে কে জানে ক্রসফায়ারে দিলে সব নাটক শেষ। সবার জন্য তখন শিক্ষা হবে অন্যায় করে দুনিয়াতে তো পার পাওয়া যায়না পরকালেও রয়েছে জাহান্নাম
Total Reply(0)
Emtiaj Ahmed Shoheal ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৬ এএম says : 0
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী সবর থাকলেও কোনো মন্ত্রী ,এমপি কে দেখা যায় নি সবর থাকতে এর কারণ কি ?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন