ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দায় নিয়ে ভিসির পদত্যাগ দাবি

সারাদেশে বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:২৩ এএম, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা-ইনকিলাব


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে ভিসির পদত্যাগসহ ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধে ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত চাপের মুখে বুধবার সকালে পদত্যাগ করেছেন বুয়েট শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল। বুয়েটের আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিয়ে দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। একই দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিক্ষোভ মিছিলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০ দফা দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে এতে যোগ দেয় শিক্ষক সমিতি। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বুয়েট শিক্ষক সমিতির ৩০০ শিক্ষকের সমন্বয়ে এক বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ এ ঘোষণা দেন। এ সময় অদক্ষতা ও নানা অনিয়মে নির্লিপ্ততার প্রেক্ষিতে ভিসির পদত্যাগ চান শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল পদত্যাগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ।
শিক্ষক সমিতির ৮ দফা
একজন অদক্ষ ভিসির কারণে আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট হতে দেবো না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেন, আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আমরা অপরাধী। বুয়েট শিক্ষকসমাজ আবরারের বাবা-মার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে যাচ্ছি আমরা। তিনি বলেন, তিনশ’ শিক্ষকের সমন্বয়ে মিটিং হয়েছে। সে মিটিংয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত আমরা লিখিত আকারে সুপারিশ করব। এছাড়া বুয়েটের স্বার্থে কোনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পরোক্ষ রাজনীতিতে জড়িত হবে না বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভিসির পদত্যাগসহ শিক্ষকদের অন্য দাবিগুলো হলো- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, হত্যাকারীদের বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, বুয়েটের সব আবাসিক হল থেকে বহিরাগতদের সরিয়ে হলের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরোক্ষ রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, র‌্যাগিং ও নির্যাতন বন্ধে আগের সব র‌্যাগিং ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, বুয়েটের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ফাহাদকে ‘শহীদ’ বললেন ঢাবি সাদা দল
বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ‘দেশের স্বার্থে’ জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে ঢাবি বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের শিক্ষকেরা। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব কথা বলেন সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদের হত্যায় আজ আমরা স্তম্ভিত। আজ আমরা লজ্জিত আমাদের একটা ছেলেকে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার জন্য জীবন দিতে হয়েছে। আমরা মনে করি, এ জীবন হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য। সে শহীদের মর্যাদা পাবে’। অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবির শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
‘টর্চার সেল’ বন্ধে গণতদন্ত কমিশন করার আহ্বান
এদিকে বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতনের বিষয়ে গণতদন্ত কমিশন গঠন করার আহ্বান জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আনু মুহাম্মদ। বুধবার দুপুরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিপীড়নবিরোধী অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নির্যাতনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী আমাকে তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার কথা বলেছে। কিন্তু আমি ঘোষণা করতে চাই শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, পাশাপাশি এ কমিটিতে শিক্ষকরাও অংশ নেবে। সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এম এম আকাশ বলেন, আমরা সবাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেস্টরুমের কথা জানি। বুয়েটে প্রায় প্রতিদিন রাতেই কাউকে না কাউকে টর্চাল সেলে অত্যাচার করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অবস্থা। আমরা জানি যে, এই সমাবেশের পর গণরুম গেস্টরুম বন্ধ হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরগণ বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। তারা সরকারের কথা অনুযায়ীই চলবেন।
আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান নুরের
এদিকে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। দুপুর দেড়টা দিকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এরপর সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদ প্রথম নয়। ২০০২ সালে বুয়েটে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হয়েছে, ঢাকা মেডিক্যালে রাজীবকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দখলদারিত্ব চলছে। তারা জোর করে শিক্ষার্থীদের মিটিং-মিছিলে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।’ ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা অনুভ‚তির জায়গা থেকে আপনাদের এখানে এসেছি। আপনাদের যে দলবাজ প্রশাসন রয়েছে তারা একটি সন্তানের মৃত্যুর পরও ঘটনাস্থলে আসতে পারে না। এর জবাবদিহিতা আপনারা নিশ্চিত করবেন। আমার আহ্বান থাকবে, আপনাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা যেন এই আন্দোলন বন্ধ না করেন। এ সময় নুরের সাথে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এবং বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
লজ্জিত ছাত্রলীগ
আবরার হত্যায় লজ্জা প্রকাশ করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছে ছাত্রলীগ। আবরার হত্যাকান্ডের পর গৃহীত পদক্ষেপের পর্যালোচনা ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এসব কথা বলেন। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘দ্রæততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যেন হত্যা মামলাটি দ্রæত বিচার আইনের আওতায় আনা হয়। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় সে উপযোগী করে পুরো মামলাটি পরিচালনা করা হয়।’ ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনোই কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। সংগঠনের পরিচয়-পদবী ব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তি অতি-উৎসাহী হয়ে সংঘটিত কোনো কর্মকান্ডকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অতীতের মতো বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও প্রশ্রয় দেবে না।’ জয় এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ জনের বাইরে আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও যেন অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হয় সে দাবি করেন। একই সাথে এ ঘটনায় কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবি রিপোর্টার জানান, আবরার হত্যার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। এতে গুরুতর আহত ছাত্রদলের দুই কর্মীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় ছাত্রদলের অপর দুই কর্মীকে আটক করে থানায় দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ছাত্রদল সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় সমবেত হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কলা ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি অবকাশ ভবনের সামনে এলে পেছন থেকে শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক আলী হাওলাদার ও ছাত্রদল কর্মী জাহিদকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করে। এছাড়াও জবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান শরীফকে সুমনা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
শাখা ছাত্রদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে নিয়মিত যাওয়ার কর্মসূচি হিসেবে ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা করে। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের ক্যাম্পাস, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসব। এতে কেউ বাধা দিলে এর জবাব ক্যাম্পাসেই দেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মওদুদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হচ্ছিল তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা ছাত্রদলের দুইজনকে আটক করেছি। তারা আমাদের হেফাজতে রয়েছে। জবি প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল ইনকিলাবকে বলেন, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া সংঘটিত হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে আনা হলে প্রক্টোরিয়াল বডির সহযোগিতায় তাদের বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে পাঠানো হয়। পরে একজনকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যে কারণেই হোক অপর কোনো শিক্ষার্থীকে থাপ্পরও দেয় তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।
চবি সংবাদদাতা জানান, আবরার ফরহাদ হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে সকালে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে (চবি) ছাত্রদল।
রাবি : ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজশাহী : আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। সেখান থেকে মিছিল বের করতে গেলে পুলিশী বাধার মুখে পড়ে তারা। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
গোপালগঞ্জ :একই দাবিতে মানবন্ধন করেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড বহন করেন
বগুড়া : বুয়েট ছাত্র ফাহাদ আরবার হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিলে মুখরিত ছিল বগুড়া । বুধবার বেলা ১২টায় সরকারি আজিজুল হক কলেজ,সারকারি শাহ সুলতান কলেজ, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজসহ বগুড়ার অনেক স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে জড়ো হয়ে মিছিলে অংশ নেয়। এছাড়াও সাতমাথায় জাসদ ছাত্রলীগের এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোটের উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিনাজপুর : দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাজ ও বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
ফরিদপুর : ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাগুরা : মাগুরা জেলা ছাত্রদল সকালে মাগুরা শহরের ভায়না মোড় থেকে বিক্ষাভ মিছিল বের করে। মিছিলে জেলা উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মীরা অংশ নেয়।
মৌলভীবাজার: ফাহাদ হত্যার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং প্রশাসনের অপসারনের দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুবিনয় রায় শুভ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতীক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মুুন্সীগঞ্জ : ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা ঘটনার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘণ্টাবাপী মানববন্ধনে আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।
নাটোর : ফাহাত হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নাটোর জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে।
নীলফামারী : কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল। আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবীতে পাবনায় ছাত্রদল ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন শহরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
পাবনা : পাবনায় পৃথক পৃথক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে পাবনা জেলা ছাত্রদল ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। বৃষ্টি উপক্ষা করে শহরের বাংলাদেশ ঈদগাহ ময়দান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা ছাত্রদল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Asif Ahmed ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 1
আবরার হত্যা নিয়ে জামাত-বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি!!
Total Reply(0)
Bonna Siddiqui ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
সারাদেশ থেকে দলীয় ছাত্র / শিক্ষকের রাজনীতি বন্ধ হোক
Total Reply(0)
Ismail Ahmed ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৭ এএম says : 0
প্রত্যেক মা বাবাদের উচিত শিশু জন্মের পর ৬টি টিকার পাশাপাশি আরও একটি বাড়তি টিকা দেওয়া। সেটি হলো "ছাত্রলীগ নিরোধক টিকা" যাতে আপনাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হয়।
Total Reply(0)
তরিকুল ইসলাম রিপন ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৭ এএম says : 0
শুধু পদত্যাগ? দায়েত্বে অবহেলার জন্য বিচার করা উচিৎ।
Total Reply(0)
Maruf Uddin Nirub ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড,। ছাত্র রাজনীতি জাতির মৃত্যুদণ্ড!
Total Reply(0)
Shaila Khanam Shuvra ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
আপনি না বুয়েটের শিক্ষার্থী দের অভিভাবক আপনি কিভাবে সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে ও ঘরে বসে থাকলেন? অসুস্থতার দোহাই দিচ্ছেন ? আপনার সদিচ্ছা থাকলে আপনার ছেলেরা আপনাকে কোলে করে নিয়ে আসত।
Total Reply(0)
Sultana Rajia ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
একদম ঠিক।ভিসি হবার কোনো যোগ্যতাই ওনার নেই।তিনি ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।হলে এত কিছু হয় উনি জানেনইনা।দায়িত্ব পালন করেন কী?
Total Reply(0)
Ehteshamul Haque ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
প্রতিটি হলে সিসিটিভি আছে।ইচ্ছে থাকলেই জানা যায়। ঘরে বসেও হলগুলোতে কি ঘটনা ঘটছে মোবাইল ফোনে দেখা যায়।প্রভোস্টরা দেখতে পারেন।তবে কেন বলেন যে কেউ জানায়নি কখনও!
Total Reply(0)
MD Nabab Hossain ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
দাবি করেন । এগুলো কোন দাবি ? মৌলিক ইস্যুতে পরিবর্তন দাবি করেন । আইনের পরিবর্তন চান । সকল প্রকৌশল শিক্ষক, ছাত্র সংঘবদ্ধ হন । দাবি করেন প্রোকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনীতিমুক্তের ।
Total Reply(0)
Ubeda Haque ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
এসব মেরুদণ্ডহীন প্রানী কোথা থেকে যে খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসে আল্লাহ্ জানেন।
Total Reply(0)
শফিউর রহমান ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৯:৪০ এএম says : 0
লজ্জাবোধ আমাদের কাছ থেকে লজ্জা পেয়ে সরে গেছে । পদের দরকার পদ নিয়ে বসে আছি । দেশ ও দশের বারোটা বাজুক আমার যায় আসে কি ? হায়রে মানুষ আমরা কত নিচু মন বাপা পন্ন । জীবনটা এত সহজ । কেন আমরা এত খারাপ হয়ে গেলাম দেশ ও জাতির চিন্তা আমাদের মাথায় রেখে ভিসির পদত্যাগ করলে কি হবে সবার কছে এবং দেশের কাছে ভাল হতো এবং হবে । এটা মাথায় রাখতে হবে ।
Total Reply(0)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:০৯ এএম says : 0
শিবির মনে করে জানাজার নামাজে যাওয়া হলো না। আবার মুসলমান মনে করে বেহায়া নিলজ্জ ভিসি কবরের পাশে অভিনয় করতে গেছেন। এটি কবর জিয়ারত নয় শয়তান চরিত্রের নমুনা। ভদ্রলোকের আড়ালে ইবলিশ শয়তানের গোষ্ঠী। আবরার এর ভয়ংকর হত্যাকান্ড শোকাহত দেশের ছাত্র সমাজের আন্দোলন দেশের সকল পেশার মানুষের আশা ও প্রত্যাশা নিরাপদ হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক পরিবর্তন আসবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন