ঢাকা, সোমবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি হবে

মন্ত্রিসভায় তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালার চ‚ড়ান্ত অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীন একটি কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক জাতীয় নীতি, ২০১৯-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৯ এবং বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কিভাবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে সেটা নিয়ে নীতিমালায় অনেকগুলো কথা আছে। বর্জ্য উৎপাদনকারী কারা কারা আছেন, তাদের উৎপাদিত তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি অর্থাৎ যে দূষণ করবে সে টাকা দেবে। এটা আন্তর্জাতিক নীতি। যে দূষণ করবে তাকে টাকা দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এটা হলো মূলনীতি। তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ যুক্তিসঙ্গতভাবে সীমিত রাখতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি অ্যাসেমবিø সিল করা বাক্সে সংরক্ষণসহ পরমাণু চুল্লির রিঅ্যাক্টর কোরের পরিচালন সময়কালে যে কোনো সময় আনলোড করতে হবে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায়। এটা যারা করবে তাদের জন্য বাইন্ডিং।

এ জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন একটা এজেন্সি নিয়োগ করবে। এটার নাম হলো তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি। অর্থাৎ আরডব্লিউএমসি নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করবে। এদের এক্সপার্টিজ থাকবে, এরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করবে। সারা বাংলাদেশে যত এটমিক এনার্জির বর্জ্য পাওয়া যাবে সেগুলো ব্যবস্থাপনা তারা করবে।

শফিউল আলম বলেন, আমরা যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করি, এগুলোর মধ্যেও সীমিত পরিসরে এটমিক এনার্জি ব্যবহার করা হয়। এগুলোর জন্য অত বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু এক সময় প্রয়োজন হবে। এ জন্য আগে থেকে নীতিমালাটি করা হয়েছে। এই নীতিমালা সব সেক্টর কাভার করবে। এ ক্ষেত্রে লিড মিনিস্ট্রি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের দেশে পাবনার রূপপুরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) আওতায়। আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী এগুলো পরিচালিত হবে। এটমিক এনার্জি যেহেতু একটি স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক এনার্জি। এটাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা গাইডলাইন দরকার। তিনি বলেন, আইএইএ’র যে গাইডলাইন আছে সেটার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সে অনুযায়ী এই নীতিমালাটা তৈরি করা হয়েছে। এটা দিয়ে যেন কোনো রকম দুর্ঘটনা বা বিপদের মধ্যে না পড়তে হয়, সেটার জন্য। বর্জ্যটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশাল গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

রূপপুরে দু’টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটার যে বর্জ্য তা চুক্তি অনুযায়ী সরাসরি রাশিয়া, এটা আমরা ডিসপোজ (ধ্বংস) করব না। তাদের সাথে চুক্তি হয়েছে যেহেতু তাদের বিশাল দেশ, ডিসপোজালের অনেক জায়গা আছে, আমাদের ওরকম জায়গা নেই, আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। চুক্তিতেই বলা হয়েছে, (পারমাণবিক বর্জ্য) তারা সিল করে নিয়ে যাবে এবং ওখানে নিয়ে ডিসপোজাল করবে।

শফিউল আলম বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষণা চুল্লি, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট অপারেশন, চিকিৎসা শিল্প, খনিজ সম্পদ আহরণ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার হয়। এসব ক্ষেত্রে এটমিক এনার্জি ব্যবহার করা হয়, আমরা হয়তো খবর রাখি না।

তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৯ এবং বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বিভিন্ন প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কাজগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, গবেষণায় পাওয়া ফলাফল বাণিজ্যিকীকরণসহ আমদানি করা প্রযুক্তি গ্রহণ, আত্তীকরণ ও অভিযোজনের জন্য প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রকৌশল কাউন্সিল গঠনের লক্ষ্যে এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ বাতিঘর আইন এতদিন ১৯২৭ সালের আইন দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বাংলাদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ এই বাতিঘর পরিচালনা করে থাকে। জাহাজ আগমন এবং প্রত্যাগমনের সুবিধার্থে বাতিঘর পরিচালিত হয়।

জাহাজ আগমন এবং প্রত্যাগমনের ক্ষেত্রে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে বাতিঘর মাশুল পরিশোধ করতে হবে। মাশুল কত হবে, তা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে। যে জাহাজ বাতিঘর মাশুল দেবে না, ওই জাহাজকে এই আইনের বলে আটক করা যাবে। তবে মাশুল পরিশোধ করলে জাহাজ ছেড়ে দেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
Rafiqur Rosul Belal ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৫ এএম says : 0
আমাদের সেই দায়িত্ব কে পালন করবে?
Total Reply(0)
Aminur Rahman Chowdhury ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৪ এএম says : 0
পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাওয়ার কঠোর গ্যারান্টি ক্লজ সংযুক্ত না করা গেলে ওরা মৌখিক ভাবে বললেও তা নিয়ে যাবে না। এগুলো অত্যন্ত স্পর্শ কাতর ইস্যু। বাংলাদেশের পক্ষে এগুলো প্রিজার্বড করে রাখা খুবি একটা কঠিন কাজ ও মারাত্মক ব্যয়বহুল আজীবনের জন্য। এগুলোর দায় দায়িত্ব বাংলাদেশ যেন না নেয় কোন ক্রমেই। চুক্তিতে থাকলেও বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাবার কঠিন মেন্ডাটরি গ্যারান্টি ক্লজ না সংযুক্ত থাকলে রাশিয়া নিবেই না। যেসব দেশে ওরা পারমাননিক বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি করে দিয়েছে, এসব পারমাণবিক বর্জ রাশিয়ার নিয়ে যাবার কোন রেকর্ড কি আছে? আমার অন্তত জানা নেই। আমার মেঝ মামা ওদের চেরনোবিল রিএক্টর ১, ২ দুটোতে কাজ করেছিলেন।ওনার বক্তব্য হলো যখন তিনি সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে এলেন,এনিয়ে জিজ্ঞেস করাতে বলেছিলেন," বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাবার কঠিন ক্লজ না থাকলে রাশিয়া এই বর্জ্য ফেরত নিয়ে নেবে না কখনোই। " এই ভূল যেন না করা হয়।পরে কিন্তু বাংলাদেশকে এসব বর্জ্য দারুণ ভোগাবে। খাজনার চেয়ে যাতনা হবে অসহনীয় মারাত্মক।
Total Reply(0)
মুক্তিকামী জনতা ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৬ এএম says : 0
ভালো খবর। এটা খুব জরুরি।
Total Reply(0)
নিশা চর ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৭ এএম says : 0
রাশিয়া যাতে বর্জ নিয়ে যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
Total Reply(0)
কাজল খান ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৮ এএম says : 0
রাশিয়ার সঙ্গে সাধারণ চুক্তি সই হওয়ার পর গণমাধ্যমে বর্জ্য ফেরত নেওয়া না-নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরও সরকার, রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কিংবা রাশিয়া—কোনো পক্ষ থেকেই বর্জ্য ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছিল, এ বিষয়টির নিরসন হবে অন্য একটি চুক্তির মাধ্যমে।
Total Reply(0)
কৃষ্ণপদ রায় ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম says : 0
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ফেরত নেওয়া না-নেওয়ার বিষয়টিই বর্তমানে প্রধান
Total Reply(0)
তাসলিমা বেগম ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০০ এএম says : 0
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য যখন রয়েছে, তখন তা অন্য দেশের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আলাদা মাথাব্যথার দায় রাশিয়া কেন নেবে? তার চেয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখাই নিরাপদ। তাই সংশ্লিষ্ট সব দেশ থেকেই রাশিয়া পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নেয়।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন