ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

তিন যুগেও সংস্কার হয়নি

মাগুরার পাল্লা-রাজধরপুর বেড়িবাঁধ সড়ক

সাইদুর রহমান, মাগুরা থেকে | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা থেকে রাজধরপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তাটি প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী চলাচল করে। তিন যুগেও সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি।

গত ১৯৮৬ সালে মধুমতি নদীর উপছেপড়া পানি থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জনগনের চলাচলের জন্য নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা থেকে মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব সীমান্ত হয়ে মাগুরা সদরের রাজধরপুর পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গিয়ে রাস্তাটি সংযুক্ত করা হয়। যা বেড়িবাঁধ নামে পরিচিত। যার দৈর্ঘ প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মহম্মদপুরের পাল্লা শীরগ্রাম থেকে রাজধরপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তার প্রায় ৮০ ভাগ ইট ওঠে গেছে। রাস্তাটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর থাকলেও তাদের ডাকে সাড়া দেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কেউ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাল্লা, কোমরপুর, দাতিয়াদহ, হরিনাডাঙা, রায়পুর, মাধবপুর, আকশার চর, চুড়ারগাতি, চরপুকুরিয়া, চরসেলামতপুর, রঘুনাথপুর, বাবুখালী, গয়েশপুর, চরগয়েশপুরসহ ২০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। এ ছাড়া পাশবর্তী উপজেলার লোকজনকে বাধ্য হয়েই এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে সাইকেল, মোটরসাইকেল বা ভ্যান তো দূরের কথা হেঁটেও চলাচল করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব এলাকার ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারে না। কারণ অনেক দূরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগের দুরাবস্থার কারণে অনেকের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকার মানুষ।
চরপুকুরিয়া গ্রামের অনেকেই জানান, তাদের ছেলেমেয়েরা স্থানীয় পাল্লা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় সময়মতো তারা স্কুলে পৌঁছতে পারে না। রাস্তা দিয়ে কোনো পরিবহন চলাচল না করায় হেটে তাদের স্কুলে যেতে হয়। রঘুনাথপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মনে হয় এই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই। তিনি বলেন, অফিসের লোকজন এসে কয়েকবার রাস্তা মেপে যাচ্ছে, কিন্তু সংস্কার হয় না।

দীঘা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরু মিয়া বলেন, রাস্তাটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। আমরা কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন