ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

থমথমে ভোলা

সভা সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা : দু’জনের লাশ দাফন

ভোলা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

ভোলায় পুলিশের গুলিতে হতাহতের প্রতিবাদে গতকাল ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল পুরানা পল্টন মোড়ে আটকে দেয় পুলিশ -এস এ মাসুম


মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে তৌহিদি জনতার সংঘর্ষে ৪ জন গতকাল ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে শত শত মুসলিম জনতা সংবাদ সম্মেলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন -ইনকিলাব ও পুলিশসহ প্রায় দুই শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ৬ দফা দাবিতে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দেয় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিন থানার ওসির অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এসময় তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ভোলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
এদিকে, বোরহানউদ্দিনে গতকালও পরিস্থিতি থমথমে ছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান বাস মালিক সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন। তবে বিকেলের দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকি গতকাল সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ভোলায় শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য সকল সভা সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে বোরহানউদ্দিনে ৪ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড মোতায়েন রয়েছে। আরো ৪ প্লাটুন বিজিবি আসতেছে। এদিকে সকাল থেকেই বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে। দোকান পাট অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে।
মুসলিম ঐক্য পরিষদ সদস্য মাওলানা তরিকুল ইসলাম জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রশাসনের আমাদের অনুমতি না দেয়া দুঃখজনক। একটা গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে কোন সভা সমাবেশ না করতে দেয়া অগণতান্ত্রিক আচরণ। সরকারি স্কুল মাঠে ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ঐক্য পরিষদের কোন লোকজন দেখা যায়নি। ফাঁকা মাঠে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির উপস্থিতি দেখা গেছে।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে কট‚ক্তি করা বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাসির দাবি, প্রতিবাদী মুসলিম জনতার উপর পুলিশ কর্তৃক বর্বরোচিত হামলায় চার জন শহীদ হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। সকাল ১১.৪০টায় ভোলা জেলা প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য রাখেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা মিজানুর রহমান, যুগ্ন আহ্বায়ক মাওলানা তৈয়বুর রহমান, মাওলানা বশির উদ্দিন, মাওলানা তাজ উদ্দিন ফারুকি প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, এসপি ও ওসির অপসারণসহ তাদের ৬ দফা দাবি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরণের সার্বিক ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে না করা হলে তারা আরো কঠিন আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তারা নতুন করে আরো কিছু কর্মসূচির ঘোষণা দেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ বিকেলে প্রতি উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, জেলা শহরে মানববন্ধন, বৃহস্পতি ও শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে দোয়া করা।
ঘটনার সঠিক তথ্য উৎঘাটন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তারা। এক্ষেত্রে সাংবাদিক ও প্রশাসনকে সঠিক ভ‚মিকা পালনের আহবান জানান। তারা বলেন, পুলিশ গুলি না করে কাদুনে গ্যাস বা টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে তারা গুলি করে চারটা তাজা প্রাণ কেড়ে নিল। এর দায়ভার কে নেবে? একজন প্রকৃত মুসলমান কখনও কোন ফেসবুক আইডি হ্যাক করে মোহাম্মদ (স.) এর নামে কট‚ক্তি করতে পারেনা। সঠিক মুসলমান কখনও কোন সন্ত্রাসী বা অন্যায় কাজের সাথে জড়িত হতে পারে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, একদল সুযোগ সন্ধানী লোক থাকতে পারে হিন্দু ভাইদের উপর বা তাদের ধর্মীয় উপাসানালয়ে হামলা করে মুসলিমদের উপর দোষ চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে অন্যদিকে চাপানোর চেস্টা করতে পারে। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের যাতে কোন রকম সমস্যা না হয় সেদিকে সকল মুসলিমদের খেয়াল রাখার কথা বলেন।
প্রেসক্লাবের সামনে শত শত মুসলিম জনতা সংবাদ সম্মেলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে যে ৬ দফা দাবি করা হয় সেগুলো হল, অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার, বোরহানউদ্দিনের ওসি এবং তদন্ত সাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলি বর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে, মহান আল্লাহ তায়ালা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ও ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ এবং কট‚ক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে, মহানবী (স.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কট‚ক্তিকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে, বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী ব্যক্তিদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক মামলা বা গ্রেফতার করা যাবে না।
এদিকে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নিহতদের দু’জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। বাকি দুইজনের লাশ এখনও সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানান ঐক্য পরিষদের নেতা তাজ উদ্দিন ফারুকি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক আমাদের দাবি মেনে নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছেন।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউসার জানান, ফেসবুকে এ কট‚ক্তির ঘটনায় বিপ্লব চন্দ্র শুভ, মো. শাকিব ও লিমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত বোরহানউদ্দিনে বিকেল থেকে কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। ভোলায় মোতায়েনকৃত বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ রাস্তায় টহল দিচ্ছে। ভোলা শহরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিতে দেখা গেছে। দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি ডিআইজিকে প্রধান করে অন্যটি ভোলা ডিডিএলজিকে প্রধান করে।
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় একাধিক তদন্ত টিম কাজ করছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পুলিশ সুপার, ওসির অপসারণসহ ৬ দফা দাবির বিষয় বলেন, এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে তারা দেখবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন।
আত্মরক্ষার্থে ভোলায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কিংবা অন্য কারও দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি অবশ্য ওসি এবং এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়াকে কেন্দ্র করে তারা ( তৌহিদি জনতা) সমাবেশ করে। একটা পর্যায়ে সমাবেশ শেষ তারা চলে গিয়েছিলেন। এই সমাবেশের ২০০ থেকে ৩০০ লোক এসে পুলিশ এবং ইউএনও যেখানে ছিলেন সে জায়গাটি এসে মারমুখি আচরণ শুরু করেন। একই সঙ্গে দরজা ভাঙা শুরু করেন। তখন ইউএনও গুলি বর্ষণ করতে বলেন। এটাও অবশ্য শোনা কথা। তবে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলেই বুঝা যাবে কে গুলি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনাটা ঘটার পর পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য ওপেন গুলি করে। সেই গুলিতে একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহতসহ একজন পুলিশও আহত হন। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, ওই এলাকার সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিক ওখানে যান। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং যারা মৃত্যুবরণ করেন তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ বিষয়ে সরকার আরও ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাতে করে তারা আর্থিক সহযোগিতা পায়। তারা (তৌহিদি জনতা) যে সব দাবি করছে তার ভিত্তিতে এক্ষেত্রে কেউ (ওসি এবং এসপি) যদি কর্তব্যে অবহেলা করে থাকে অবশ্যই তার বিচার হবে। তাকে সরিয়ে দেবো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
এদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, ভোলায় পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত এ পর্যন্ত ৩১ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক আহত গুলিবিদ্ধ মানুষকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।
এদিকে, ভোলায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের নিন্দা জানিয়ে গতকাল বরিশালে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিএম কলেজ শাখা। মিছিলকারীরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে নগরীর কয়েকটি সড়কেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ইসলামী শাষনতন্ত্র আন্দোলন বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ ভোলায় নিরীহ তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Kala Pahar ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৩ এএম says : 1
ভোলার ঘটনা তো দেখলেন।কীভাবে নির্বিচারে গুলি করে মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে।এভাবেই মদীনা সনদ বাস্তবায়ন করা হয়।এসব ঘটনা সরকারের জন্য খুবই লাভজনক।পাশ্চাত্যকে বুঝানো যাবেঃদেখুন জঙ্গি দমনে আমরাই শেষ ভরসা এ দেশে আর হিন্দুত্ববাদী মোদীকে বুঝানো যাবে দেখুন একজন হিন্দুকে ডিফেন্ড করতে আমরা যুদ্ধের মতো গুলি চালিয়ে মুসলমান মারি।সুতরাং অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে আমাদেরকে নিঃসংশয়ে সমর্থন দিন। বাংলার মুসলমানরা অপেক্ষা করুন।আপনারা মনে করেছিলেন বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন।কিন্তু না,এটা ছিল দেশ বাঁচাও এর আন্দোলন,মানুষ বাঁচাও এর আন্দোলন।দেশ যেহেতু বাঁচেনি,আপনারাও বাঁচার অধিকার হারিয়েছেন।এখন এভাবে আবরারের মতো পিটুনি খেয়ে মরবেন, পুলিশের গুলিতে মরবেন।এটাই আপনাদের বিধিলিপি।
Total Reply(0)
Ranjay Podder ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 2
সংঘাতে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সেই সাথে আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ পাক এর দেখানো পথে চলা, নবী রাসুল এর শিক্ষায় চলা, এখন যুগ ও প্রযুক্তি যত আধুনিক হচ্ছে তেমনি বাড়ছে অযথা জঞ্জাল। বাড়ছে সাইবার ক্রাইম অপরাধ গুলো । তাই সবাই কে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে, ফেইসবুকে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা ই উত্তম । তা ছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সবার প্রিয় নবী ওনার নামে কুৎসা ছড়িয়ে মুসলিম বিদ্বেষী বানিয়ে দিলে ই তো শত্রু পক্ষের কেল্লা ফতে, এই দিক টা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কেউ যেন নবী করীম ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে সে ব‍্যাপারে সবাই কে সজাগ থাকতে হবে। আইনের মাধ্যমে সঠিক অপরাধীকে শাস্তির দাবি করছি। আমরা আশরাফুল মাখলুকাত আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি স্বয়ং আল্লাহ পাক দিয়ে তৈরি, আমরা কেন অবুঝ হবো। কেউ যেন অযথা আঘাত না করি, মহান আল্লাহ সব কিছু ই নিশ্চয়ই হিসেবে রাখছেন, ঐ পাড়ে অপরাধের সাজা রেডি আছে। কেউ অতি উৎসাহী না হয়ে সঠিক পথে পরিচালিত হই, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করোন।
Total Reply(0)
Nurunnabi Gazi ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 1
আইডি হ্যাকড হয়েছে মেনে নিলাম, কিন্তুু কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত তা জানতে পারলাম না । ঘটনাটা নিয়ে যখন উত্তেজনা চরমে তখন পুলিশ প্রেস বৃফিং এর মাধ্যমে সবাইকে সত্যটা জানাতে পারতো, তা হলে তো এত বড় অনাকাংখিত ঘটনায় এতগুলো তাজা প্রান ঝরে যেত না । পুলিশ আত্নরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে, শুধু এগুলো বলে আমাদের দেশে পার পাওয়া সম্ভব । কারন সব সম্ভবের দেশ সে তো আমার বাংলাদেশ ।
Total Reply(0)
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 2
এর আগে এমন একটা ঘটনা হয়েছিল , ছেলেটা মোবাইল চালাতে পারে না কিন্তু ছেলেটার ফেইসবুক থেকে নাকি কাবা শরীপ কে অপমান করা হয়েছে !! পরে জানা গেলো ফেইসবুক কি সেটা জানেই না ! কিছু অসাধু লোক আছে শত্রুতা করে এই গুলা করে , আমাদের দেশে সবি সম্ভব !!
Total Reply(1)
kuli ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:৩৯ পিএম says : 0
এটা মিথ্যা কথা।ছেলেটা মোবাইল চালাতে পারে।কথা গুলি তার মোবাইল থেকেই পোস্ট করা হইছিল।এগুলি হচ্ছে ফালতু অজুহাত।প্রথমে খারাপ পোস্ট করে তারপর বলে আমি কিছু চালাইতে পারিনা।জনগন এত বকা না।হাসিনাকে নিয়ে খারাপ পোস্ট করলে সেটা কিন্তু আইডি হেক বলে ধরা হয়না।
Nur Mohammad Ali Nipun ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 1
ইসলামের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ নিয়ে ঠাট্টা মস্কারা করবে আবার আশা করবে সবাই সেটা ঠাণ্ডা মাথায় নিবে ? যারা করেছে অবশ্যই ঘৃণ্য একটি কাজ ছিল । কিন্তু ৪ জনকে ওপেন ফায়ার করা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের কাজ হতে প্পারে না । সরকারের উচিত এগুলোকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করা বিশেষ ভাবে পুলিশ দের । জনগনের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নেয় আবার তাদের দিকে গুলি চালায় ।
Total Reply(0)
Abid Hassan ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 1
এই বাংলাদেশে, প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে কটুক্তি করলে ৭ বছরের জেল,কিন্তু রাসুল(সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করলে কিছু তো হয় ই না,উল্টো তার প্রতিবাদ করলে রক্ত ঝরে। এ কোন দেশে আছি আমরা?
Total Reply(0)
Kazal Islam ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 1
পুলিশ কেন গুলি করলো, এর চেয়ে বড় বড় সমাবেশে পরিস্থিতি অবনতির আশংকা থাকলে পুলিশ রাবার বুলেট, জলকামান এগুলা ছুড়ে। কিন্তু সরাসরি বুলেট দিয়ে দেশের জনগন মেরে ফেলা পুলিশের কাজ নয়। অবশ্যই পুলিশকে জবাব দিহিতার আওতায় আনতে হবে
Total Reply(0)
Md Rubel Islam ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 1
রক্তে রঞ্জিত মুসলমান l বন্দুকের নল দিয়ে , গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখা যায় l ইসলাম ধর্মকে নয় l ইসলাম ধর্ম কোনো রাজনৈতিক দল নয় l এটা আমার জন্মগত পরিচয় , আমি মুসলমান l আমি আমার ধর্ম ইসলাম কে রক্ষার জন্য l সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত l এটা সরকারকে মনে রাখতে হবে l
Total Reply(0)
Md Zohor Ali ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 1
"তাওহিদি জনতা" নামে সংগঠন নয় বরং এটা পুরো মুসলিম জাতির আন্দোলনের ডাক! ব্লাসফেমি অপরাধের জন্য বর্তমান সরকার সব সময়ই অপরাধিদের কে আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা দেয় পক্ষান্তরে দু একজন অপরাধী কে রক্ষা করতে গিয়ে ঘটানো হয় গণহত্যা! যার উদাহরণ ৫ মে!
Total Reply(0)
Hawlader Tushar ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 1
ওই ছেলে অপরাধ করছে কিনা সেটা আগে তো প্রমানিত হওয়া উচিত। এতে যেন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি না হয় সেদিকেও খেয়াল করা উচিত। সবাই যে যার যায়গা হতে সচেতন হওয়াটা জরুরী।
Total Reply(0)
Moshiur Rahman ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৮ এএম says : 1
কোন ধর্মের বিষয়ে খারাপ মন্তব্য করা ঠিক নয়। বিশ্বাস একটি অদ্ভুত বিষয় যা থেকে মানুষকে অন্য পথে নিয়ে আসা কঠিন। সুতরাং সবাই যার যার বিশ্বাস নিয়ে সঠিক পথে চলার চেষ্টা করতে হবে। তবে ধর্মের ব্যাপারে কটূক্তিকারীর যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত এটাতে কোন ধর্মের লোকেরই দ্বিমত থাকা উচিত নয়। কটূক্তিকারী যত বড় ক্ষমতাধর হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
Total Reply(1)
Yourchoice51 ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ৯:৪২ এএম says : 1
পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন যে, আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম (দীন) হলো ইসলাম; অন্যসব ধর্ম হলো তাগুত। ইসলামে শান্তি ও সাফল্য; ত্বাগুতে অশান্তি ও ধ্বংস। এটা মহান আল্লাহ্পাকের দেয়া গ্যারান্টী; কেউ তা বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক, মহান আল্লাহতালার তাতে কিছু আসে যায় না। ইসলামের জন্য যাঁরা প্রাণ দিলেন এঁরা শহীদ; আর যেসব কুলাঙ্গার এদের প্রতি গুলি ছুড়েছে, তারা তাগুতের ধ্বজাধারী।
নূরুল্লাহ ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:৩৬ এএম says : 0
অপরাধীর বিচার হলো না কিন্তু যারা প্রতিবাদ করলো তাদের গুলি করে হত্যা করা হলো!
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন