ঢাকা, মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৭ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

একটি দলকে কব্জায় রেখে বাংলাদেশে আধিপত্য বজায় রেখেছে ভারত- রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৫:৪৯ পিএম

একটি রাজনৈতিক দলকে কব্জায় নিয়ে বাংলাদেশে ভারত তাদের আধিপত্য বজায় রেখে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না থামার কারণেই নাকি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি এনেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি বিএনপি’র নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অনেক বেশি হয়েছে। অমিত শাহ সত্যভ্রষ্ট। অমিত শাহ’র এই দায়িত্বজ্ঞানহীন জঘন্য মিথ্যা অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। ভিত্তিহীন এই অভিযোগ প্রত্যাহারের আহŸান জানাচ্ছি। রিজভী বলেন, অমিত শাহদের আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগের সময়ে এদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বেশী নির্যাতন হয়েছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ অচিরেই নাগরিকত্ববিহীন ভারতীয় মুসলিম নাগরিকের ভয়ঙ্কর পুশইন তাÐবের শিকারে পরিণত হবে আশঙ্কা প্রকাশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সোমবার ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব বিল পাস হয়, ‘যাতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদেরকে কোন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, এর আগে আসামে এনআরসির ফলে প্রায় ১৯ লাখ ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখের বেশী হিন্দু স¤প্রদায়ের নাগরিককে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন এই বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের ফলে সেই ১৪ লাখেরও বেশী হিন্দু স¤প্রদায়কে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। বাকী প্রায় ৫ লাখ মুসলিম, যাদেরকে ইতোমধ্যেই ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই বিল পাশের মাধ্যমে তাদেরকে নাগরিকহীন করে দেয়া হলো।

ভারতের এই আচরণকে ফ্যাসিবাদের নব্য সংস্করণ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন থেকে তারা ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বলে ভারতের মাটিতে অবৈধ হয়ে গেলো। এরপর তাদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকানো হবে। রাতারাতি ভারতের এই মুসলিম নাগরিকরা রাস্তার ফকিরে পরিণত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পের বদ্ধ কারাগারে থাকতে বাধ্য হবেন। এটাতো শুধুমাত্র এক আসাম রাজ্যের ঘটনা। এরপর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র ঘোষণা মতে পুরো ভারতজুড়ে তারা এনআরসি করতে চান। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকদের পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আগত ‘অনুপ্রবেশকারী’ ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে নাগরিকত্বহীন করার মাধ্যমে তাদের বাড়ি-ঘর ক্রোক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকানো হবে। তবে, ভারতের এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে শুধুমাত্র ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকরা একাই ভয়াবহ সংকটে পড়বে না, আমরা আশংকা করছি, বরং এতে ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ অচিরেই নাগরিকত্ববিহীন ভারতীয় মুসলিম নাগরিকের ভয়ংকর পুশইন তাÐবের শিকারে পরিণত হতে পারে।

বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, ইতোমধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের গণহারে পুশইন করা শুরু হয়ে গেছে। সীমান্তে বিজিবি কয়েক দফা এদেরকে গ্রেফতার করে জেলেও পাঠিয়েছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ অবধি এটা জানেনই না বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন! অন্যদিকে ভারতের নানা প্রান্ত থেকে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে অসংখ্য মুসলিম নারী-পুরুষদের আটক করে দলে দলে কলকাতায় নিয়ে এসে গোপনে ও জোর করে সীমান্ত পার করে দেয়া হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে। যা খোদ ভারতের সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে।

অমিত শাহের বক্তব্য অশুভ ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র এই বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং সৎ প্রতিবেশীসূলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অশুভ ইঙ্গিতবাহী। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশী জনগণকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করা। একটি দলকে কব্জায় নিয়ে বাংলাদেশে তারা যে আধিপত্য বজায় রেখেছেন, অমিত শাহ’র এই বক্তব্য সেটির সুষ্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, বিএনপি সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতিতে বিশ্বাসী। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মপালনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজনে বিশ্বাসী নই। আমাদের সরকারের সময় আমরা কখনো কোনো নাগরিককে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতন, অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কিংবা ধর্মাচরণে বাধা দিতে দিইনি। আইনের শাসনকে কঠোরভাবে বলবৎ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের নেত্রী বিএনপি সরকারের আমলে কোথাও আইন হাতে তুলে না নেয়ার কঠোর আহŸান জানান। সর্বত্র সার্বিক স¤প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহনের সাথে সাথে শান্তি-শৃঙ্খলা কঠোর ভাবে বলবৎ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্বাচনী সহিংসতার সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকেও তদন্ত ও আইনের আওতায় আনা হয়। কোথাও অমুসলিম নাগরিকদের ওপর কোনো রকম অত্যাচার চালাবার সুযোগ কাউকে দেয়া হয়নি। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী আওয়ামী শাসনামলেই সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির ওপর আঘাত এসেছে।

রিজভী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ড. আবুল বারাকাতের গবেষনা ‘বাংলাদেশে কৃষি ভূমি জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি-২০১৬’ ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, স্বাধীনতার পর থেকে এইদেশের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের ওপর যত অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ণ হয়েছে এবং তাদের যত জায়গা-জমি-সহায় সম্পদ দখল হয়েছে তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Miah Muhammad Adel ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:৩৮ পিএম says : 0
Albeit true.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন