ঢাকা, শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে মানুষ

বিবিসির সরেজমিন প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বহু মানুষ বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত এক মাসে শুধু ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত থেকে তিন শতাধিক মানুষকে আটক করেছে বিজিবি। তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, যে সংখ্যায় মানুষ আটক হচ্ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। ‘বাঙালিগে ধরায় দিচ্ছে : সীমান্তে ধরা পড়ে বলছেন অনুপ্রবেশকারী’ শিরোনামে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক সরেজমিন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়,অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানার চেষ্টা করেছে এদের পরিচয় কী এবং কেন এই অনুপ্রবেশ? গত ৯ ডিসেম্বর রাতে মহেশপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় ৫৮ বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হয় ১২ জন। এর মধ্যে রবু নামের একজন ছোট ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। সপরিবারে থাকতেন ভারতের মুম্বাই শহরে। তার দাবি, ভাল কাজের সুযোগ পেতে বাংলাদেশ থেকে তিনি কয়েক বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন।

অবৈধ নাগরিক হিসেবে আটক হয়ে তার স্ত্রী ছ›মাস ধরে এখন ভারতের কারাগারে রয়েছেন। ‘ওখানে ধরা পড়ে যাচ্ছে, বাঙালিগে ধরায় দিচ্ছে, রাখতি চাচ্ছে না। এজন্য মানুষজন ওদেশে থাকতি চায় না কেউ। ওদেশে যে কামাই এদেশেও সেই কামাই। এদেশেও এহন রুজি রোজগার করে খাওয়া যাবে’- বলছেন রবু। দুই সন্তান নিয়ে আটক হয়েছেন রাবেয়া হাওলাদার। আট বছর ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার ছেলের জন্ম হয়েছে ভারতে। বাংলাদেশে নড়াইল জেলার কালিয়াতে তার বাড়ি বলে দাবি করলেন। স্বেচ্ছায় এসেছেন নাকি কেউ আসতে বাধ্য করেছে এ প্রশ্নে রাবেয়া বলেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় চলে আসছি। এখন সবকিছু হয়ে গেছে। এখানে বাড়ি করেছি। স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি।’

বিজিবি›র হাতে আটক ক্ষিতীশ বসু ভারতের নাগরিক। তার কাছে পাওয়া গেল ভারতীয় পরিচয়পত্র। তার দাবি ১৯৮৮ সালে তিনি দেশান্তরী হয়েছেন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ থেকে। এবার অসুস্থ ভাইকে দেখতে এসেছেন অবৈধ পথে। তিনি বলেন, ‘এখানে আসছি বেড়াতে। বেড়ায়ে আবার চলে যাব। ওখানে আমার পরিবার আছে, ছেলে, মেয়ে আছে।’

বিজিবি স‚ত্র জানাচ্ছে, এরা অনুপ্রবেশকারী। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী গ্রামে ঘুরে জানা যায়, এরকম প্রতিদিনই বহু মানুষ ঢুকছে যাদের ধরা যাচ্ছে না। সীমান্তবর্তী এলাকার নেপা বাজারে এমন একজনকে পাওয়া গেল যার পরিচয় উদ্ঘাটনে ভিড় জমিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী। তার দাবি, ভারতে দালালকে ১০ হাজার রুপি দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ঢুকেছেন। বাংলাদেশে ঢোকার পর এপারের দালালরা তার মোবাইল ও টাকাপয়সা সব ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানালেন। সবুজ নামের এক তরুণ জানান তিনি ব্যাঙ্গালুরু থেকে এসেছেন। তার মতো আরো অনেকেই ১০ ডিসেম্বর রাতে সীমান্ত পার হয়েছেন। কিন্তু ঐ দিন বিজিবির হাতে কেউ আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বললেন, ‘আমরা একসাথে ঢুকছি চারজন। অন্য লাইনেও দেখছি ঢুকতে। পঞ্চাশ জনের মতো’।

মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের কথায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক, এবং আগে কখনোই ভারত থেকে এরকম মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখেননি তারা। সীমান্তবর্তী নেপা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বাবু শেখ বলেন, প্রতিদিনই মানুষ ঢুকছে। একশ্রেণীর দালাল চক্র এখন খুবই তৎপর বলেও তিনি দাবি করেন। ‘পঞ্চাশ-একশ প্রত্যেক দিনই আসতেছে। এ এলাকারই লোকজন আছে তারাই শেল্টার দেয়’ বলছেন বাবু শেখ। তিনি আরো বলেন, ‘এজন্যই মনে করেন, আমাদের আইনরক্ষকরা ব্যর্থ হয়। কারণ এদের ধরার জন্য বিজিবি বসে থাকে, আর বিজিবিকে পাহারা দেয়ার জন্য থাকে আমাদের লোকজন।’

মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশের বিষয়টি শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আব্দুর রহমান। বিজিবির হাতে আটক অনেকের সঙ্গেই তার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এমন অনেকেও এসেছে যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন। যারা ধরা পড়ছে তার তিনগুণ বেশি ধরা পড়েনি। তারা যে বর্ণনা দিচ্ছে তাদের নাম ঠিকানায় যা জানা যাচ্ছে তারা বেশিরভাগই মুসলিম। তারা আতঙ্কগ্রস্ত। এবং আমার যেটা মনে হচ্ছে যে ভারতের এনআরসির প্রভাবেই তারা এখন সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে ফিরে আসছে। আমরা যেটা খবর পাচ্ছি আমাদের সোর্সের মাধ্যমে সেটা হচ্ছে যে বিএসএফ এই সমস্ত মানুষদের বর্ডার ক্রস করার জন্য সহযোগিতাও করছে’।

ভারত থেকে বাংলাদেশে গোপনে জোরপ‚র্বক ‘পুশব্যাক’’ চলছে এমন অভিযোগ নিয়ে ভারতের মানবাধিকার কর্মীরাই সোচ্চার হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী অন্যান্য জেলায় অনুপ্রবেশের খবর আসছে। মাঠ পর্যায়ে বিজিবি এসব তথ্য জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোনো কথাই বলতে রাজি না। বিজিবি সদরদপ্তরে যোগাযোগ করেও এ নিয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
ওদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Abir Ahmed ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
ভারত যা চাপিয়ে দিবে বাংলাদেশ তা মেনে নিতে বাধ্য কারন বাংলাদেশ ভারতের পা চাটা গোলাম দেশে পরিণত হয়েছে।কেন হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যেক টা সাধারণ মানুষ তা জানে।
Total Reply(0)
Harian Askot ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
আমাদের জিনিস আমাদের নিতে সমস্যা কি? সকল বাঙ্গালীরা একসময় একসঙ্গেই বসবাস করতো, তখন এই বাংলার আয়তনও ছিলো বৃহৎ! এখন বাংলার সে সকল বাঙ্গালীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাংলার সে সকল আয়তন ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। সত্যি বলতে আমাদের এই বাংলার আয়তন আদেও এতটুকু?
Total Reply(0)
Alamgir Hasan Sam ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
ভারত বাংলাদেশের শক্তুতে পরিনিত হয়ছে এটা এখন আয়নার মত পরিস্কার? সরকার কি করে দেখার বিষয় এখন পাকিস্তানের সাথে বন্দ্বুত্ব করা উচিত ভারত কে বাশ দেওয়ার জন্য!
Total Reply(0)
মোঃ রাজিবুল হাসান ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
তারা যদি বাংলাদেশীই হয়, প্রমাণও থাকে তবে ভারত রাতের অাঁধারে না পাঠিয়ে দিনের অালোয় অফিসিয়ালি পাঠাতে ভয় পাচ্ছে কেন???
Total Reply(0)
Shahabuddin Biswas ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র যদি হয় তাহলে মায়ানমারকেও তাই বলা উচিত।যে বৈরিতা মায়ানমার করেছে সেই বিরধীতাই ভারত করছে।মায়ানমার শত্রু রাষ্ট্র হয়ে করছে ভারত বন্ধুত্বের সুযোগে।তাই ভারতের সাথে সম্পর্কের পুন:মূল্যায়ন জরুরি ।
Total Reply(0)
Foysal Hasan ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
বাংলাদেশ ১০লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে কাজ করছে তাদের কেউ দরে দরে ফিরত পাঠান হক
Total Reply(0)
Md Sha Alam ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
কি শুরু হলো বাংলাদেশে চারে দিক থেকে শুধু অনুপ্রবেশ কারি এইটা শুনতে শুনতে কান ঝালা পালা হয়ে গেছে যারা সিমানাই পাহারাই আছে তারা করে কি সরাসরি গুলি করেনা কেন
Total Reply(1)
oti_shadharon ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৯:০৯ এএম says : 0
ওরা আইন ভঙ্গকারী, কিন্তু সন্ত্রাসবাদী নয়। ওদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা যেতে পারে, কিন্তু নির্বিচারে ওদেরকে গুলি করার অধিকার কারো নেই।
Roy Subir ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 1
বাংলাদেশের এত মানুষ ভারতে বছরের পর বছর থাকছে খাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে ভোট হচ্চে, জরিপ হচ্চে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই লোক গুলোর ঘাটতি ইচ্চে করেই প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক চিটিং আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে চিটিং করার অপরাধে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন