ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কিভাবে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়

অধিকাংশতেই শিক্ষার মান তলানিতে

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, অর্থ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়ে ভিসিকে। তার মাধ্যমেই এসব কমিটির সদস্য মনোনীত, ডীন, বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু যাদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে সেই শীর্ষ পদগুলোই থাকছে দীর্ঘ সময় ধরে ফাঁকা। একটি দুটি নয়, তিনটি পদই ফাঁকা রয়েছে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়।

ভিসি ছাড়াই চলছে ২০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রো-ভিসি নেই ৭০টিতে। আর ট্রেজারার ছাড়া চলছে ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা রয়েছে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিনটি পদই। কোন কোনটিতে আবার শুধু ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারারের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।
অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুসারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে পূর্ণকালীন নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামূলক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই করুণ চিত্র দেখে অবাক হয়েছেন শিক্ষাবিদেরাও। তাদের প্রশ্ন, শীর্ষ পদগুলো ফাঁকা রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে কিভাবে চলে শিক্ষা কার্যক্রম? আর শিক্ষার্থীরাও কিভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে? শিক্ষাদান নয়, মুনাফার উদ্দেশ্য নিয়ে চলা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনা ব্যয় কমানোর জন্যই শীর্ষ পদগুলো ফাঁকা রেখে পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

বড় অঙ্কের বেতনের খরচ বাঁচাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকপক্ষ শীর্ষ পদগুলো খালি রেখে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান তলানিতে নামছে। উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ বিক্রির ব্যবসায় নেমেছে বলে অনেকের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য মতে, বর্তমানে অনুমোদিত ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে ৯২টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কেবল ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিন পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভিসি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ২০টিতে, প্রো-ভিসি নেই ৭০টির। আর ট্রেজারার ছাড়া চলছে ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা রয়েছে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিনটি পদই।

যদিও এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রির মূল সনদ ভিসি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত হতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চার বছর মেয়াদে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি, এবং ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেবেন। কাজেই উক্ত পদে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া আইনের পরিপন্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সূত্র মতে, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার না থাকা আরেকটি বড় সমস্যা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের অনাগ্রহেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পদে কাউকে নিয়োগ না দেয়ায় থাকছে না জবাবদিহিতা ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও। ট্রেজারার না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।
ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগ্রহ কম। তবে অবশ্যই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক অবস্থা প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইউজিসি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব সময় আইন মেনে চলার জন্য বলা হয়। তবে অনেক সময় নির্দিষ্ট পদের জন্য যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যায় না। এজন্য কিছুদিন পদশূণ্য থাকে।

তিনটি পদই শূণ্য : বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদের একটিতেই নিয়োগ দেয়নি ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যাদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত, নিয়ন্ত্রিত এবং পর্যবেক্ষণ করা হবে তাদের ছাড়া কিভাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় চলছে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পদই শূণ্য রয়েছে সেগুলো হলো- ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগাং, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), কাদিরাবাদ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি), দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, আনোয়ার খান মডার্ণ ইউনিভার্সিটি ও বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়।

এর মধ্যে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি কাদিরাবাদ এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই তিনটি পদ শূণ্য রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।

ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নেই : শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা ৯২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে প্রো-ভিসি ও ৫০টিতে নেই ট্রেজারার। এসব বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল উইমেন’স ইউনিভার্সিটি, আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ণ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রীণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজী এন্ড সায়েন্সেস, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি, নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঈশাখাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, জেডএইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ফেনী ইউনিভার্সিটি, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী সাইন্স এন্ড টেকনোলজী ইউনিভার্সিটি (আরএসটিইউ), কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি) সৈয়দপুর, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনা, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রাম, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ। এদিকে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ভিসি, প্রো-ভিসি ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি চলছে ভিসি ছাড়া।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
jack ali ২৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:২০ পিএম says : 0
Government don't know how to run a country as such we are free to do everything's which destroy our countries backbone.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন