ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ শাবান ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি বিপুল অর্থের মালিক

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কার পাপিয়া

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

সদ্য বহিস্কৃৃত যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার নামে রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া শামীমা নূর পাপিয়া ও মতি সুমন দম্পতির ফার্মগেটের বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে বিদেশি অস্ত্র-গুলি ও ম্যাগজিন। শুধু তাই নয়, জব্দ করা হয়েছে বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা অর্থ আয়ের মাধ্যম ছিল তার। এছাড়া, রেলওয়ে ও পুলিশে চাকরির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে আটক করে র‌্যাব-১। আটক বাকিরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। অন্যদিকে গতকাল রোববার যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞত্তিতে জানানো হয়, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা, অর্থ পাচারসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, সকালে রাজধানীর ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দু’টি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৭টি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ফার্মগেটে পাপিয়ার দু’টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদী শহরে দু’টি ফ্ল্যাট, দুই কোটি টাকা মূল্যের দু’টি প্লাট, চারটি বিলাসবহুল গাড়ি ও গাড়ি ব্যবসায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে নামে-বেনামে অনেক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকার কথাও জানা যায়। পাপিয়া ও তার স্বামী মতি সুমন রেলওয়ে ও পুলিশের এসআইতে চাকরির প্রলোভনে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে তারা।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, পাপিয়ার আয়ের আরেকটি অন্যতম উৎস নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে কম বয়সী মেয়েদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো। যাদের অধিকাংশকেই নরসিংদী এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় আনা হয়েছিল। অনৈতিক কাজে বাধ্য না হলে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

পাপিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বিশিষ্টজনের ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে যদি কেউ কারো সঙ্গে ছবি তুলতে চায় তাহলে বিষয়টি সাধারণত এড়ানো যায় না। তাই কারো সঙ্গে ছবি থাকা মানেই পাপিয়ার সঙ্গে সখ্যতার বিষয়টি প্রমাণ করে না।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে সব সময় বুকড করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন পাপিয়া। যিনি হোটেলটির বারে বিলবাবদ প্রতিদিন পরিশোধ করতেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। বৈধ আয় অনুযায়ী পাপিয়ার বাৎসরিক আয় মাত্র ১৯ লাখ টাকা। অথচ হোটেল ওয়েস্টিনে শুধুমাত্র গত তিন মাসেই বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় ১কোটি ৩০লাখ টাকা। তিনি নারী সংক্রান্ত অপকর্ম ছাড়াও অস্ত্র-মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। স্বামীর সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। আটক মতি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা রয়েছে। আটক সাব্বির খন্দকার পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এবং আটক তায়্যিবা মতি সুমনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পাপিয়া ও মতি সুমনের ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষনাবেক্ষণসহ সকল অবৈধ ব্যবসায় এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে তারা সহযোগিতা করে আসছিলেন বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় রাজনীতিবিধ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমনের উত্থান শুরু। ছোট বেলা থেকেই চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্ল্যাকমেইল ছিল সুমনের প্রধান পেশা। দূরদর্শী চতুর ও মাস্টারমাইন্ড সুমন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা
নরসিংদী জেলা মহিলা যুবলীগের সদ্য বহিস্কৃৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল তাকেসহ গ্রেফতারকৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। আজ তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। জাল টাকা রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বিমানবন্দর থানায়। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
রিদওয়ান বিবেক ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১১ এএম says : 0
জামালপুরের জেলা প্রশাসকের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত ছিল যে, ভিডিও ক্লিপ ভয়ঙ্কর।
Total Reply(0)
NAhmed ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১১ এএম says : 0
এর চেয়েও আর বড় বড় নেতা আছে যারা অবৈধ ব্যবসায় জড়িত। গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির দেওয়া তথ্য মোতাবেক দেশ থেকে প্রতি বছর পাচার হয় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
Total Reply(0)
Jamil Hosen Jon ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১২ এএম says : 0
Can I please get some from here?
Total Reply(0)
Masud Parvez ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১২ এএম says : 0
যাকে ধরা হবে তার কাছ থেকেই বিপুল পরিমাণ উদ্ধার হবে এ আর নতুন কি! এটাতো এই গণতান্ত্রিক সরকারের আসল উন্নয়ন!
Total Reply(0)
সুহৃদ স্বরূপ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১২ এএম says : 0
৫৮ লাখ টাকা কি খুব বেশী ?
Total Reply(0)
Jafrul Kabir ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১২ এএম says : 0
এতো হিমশৈল চুড়ার সামান্য অংশ মাত্র। আওয়ামী লীগের সামান্য ওয়ার্ড কমিশনার বা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীর কাছে এর চেয়ে শতগুণ বেশি অর্থ আছে।
Total Reply(0)
Khan Ifteakhar ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৩ এএম says : 0
এই দরিদ্র দেশে কত মানুষ প্রতিদিন অর্থাভাবে কষ্ট করছে,চিকিৎসা করাতে পারছেন না,সন্তানকে ভালো স্কুলে পাঠাতে পারছেন না,পরিবারের সবাইকে পর্যাপ্ত পুষ্টির ব্যবস্থা করতে পারে না, বাড়ি ভাড়া দিলে বাজার করার অর্থ থাকে না,কঠিন অসুখ হলে কাউকে না জানিয়ে ধুঁকে মরে প্রতিদিন, অপরের দুঃখে কিছু করতে না পেরে অসহায় বোধ করে আর এইসব মানুষরূপী প্রাণীরা কোটি টাকা অবলীলায় ভোগ বিলাসের পেছনে খরচ করে দরিদ্রের হক মেরে। এদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করে তাদের অবৈধ সম্পদ সমাজের অবহেলিত মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবে ব্যয় করা উচিত।
Total Reply(0)
Kazi Hossain ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৩ এএম says : 0
তিনি রাজনীতি করে এতো টাকা করলেন কি করে? বোঝা যায় কি তাদের রাজনীতিতে গলদ আছে?
Total Reply(0)
jack ali ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৩ পিএম says : 0
She is just like a mosquito--- Our Head is corrupt as such all the supporter of the Head is absolutely corrupt... Days are numbered... Punishment will be coming soon....
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন