ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় জরুরি তহবিল চায় ঢাকা চেম্বার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ এপ্রিল, ২০২০, ৮:৪৫ পিএম

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের (এমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তহবিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, এসএমই সেক্টর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও করোনার প্রভাবে তাদের ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, সংকটে আছে তারা। এজন্য যে সকল এমএসএমই সরকারি জায়গায় ভাড়া থাকে সেখানের ছয় মাসের জন্য মওকুফ করা, এমএসএমইর জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদ আগামী এক বছরের জন্য মওকুফ করা, ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর জমাদান এ বছর স্থগিত রাখাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রেখেছে সংগঠনটি।

ডিসিসিআই জানায়, অর্থনীতির সকল স্তরে এমএসএমই’র অর্ন্তভুক্ত সকল খাত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক এমএসএমই সীমিত বেচাকেনা ও পুঁজি সংকটের কারণে খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। তাদের অনেকেই সময়মত শ্রমিক এবং কর্মচারীদের বেতনাদি পরিশোধ করতে পারছে না যা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশংকা তৈরি করেছে। এ দুঃসময়ে ঢাকা চেম্বার সরকারকে স্থানীয় এমএসএমইর ব্যবসায়িক কর্মকাÐকে স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা ও এমএসএমই সুরক্ষায় স্বল্প এবং মধ্যমেয়াদি আর্থিক, অনার্থিক নীতিপরিকল্পনানির্ভর সহায়তা প্রদান করার জন্য আহŸান জানাচ্ছে।

এ জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এমএসএমই এবং অপ্রচলিত খাতের সুরক্ষায় বেতনাদি পরিশোধের সুযোগ করে দিতে ডিসিসিআই সরকারকে ১ শতাংশ সুদে তিন বছরমেয়াদি একটি জরুরি তহবিল গঠন করতে বিশেষভাবে আহŸান জানাচ্ছে। যে সকল এমএসএমই’র বার্ষিক টার্নওভার এক কোটি টাকা তাদের জন্য ১ শতাংশ আর যে সকল এমএসএমইর বার্ষিক টার্নওভার এক কোটি টাকার ওপর তাদের জন্য দুই শতাংশ সুদ হারে উক্ত তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

সারা দেশে বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভুক্ত কারখানাসমূহও এ বিশেষ জরুরি তহবিলের আওতায় আসতে পারে। আর এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এমএসএমইর জন্য এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা যেতে পারে।

ডিসিসিআই জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে তাই ডিসিসিআই সরকারকে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে আলোচনায় আমেরিকা থেকে জিএসপি সুবিধা পুণঃবহাল ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার সুপারিশ জানাচ্ছে। ডিসিসিআই মনে করে, উক্ত সুপারিশসমূহ কার্যকর করা হলে এমএসএমই খাত এই কঠিন সময়ের মধ্যেও টিকে থাকতে পারবে এবং ভবিষৎ অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত রচনায় সহযোগী হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অপ্রচলিত ব্যবসায়িক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ খাতের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা তাদের পুঁজি ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় পুঁজি ও চাকরি হারানো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ডিসিসিআই সরকারকে আহŸান জানাচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন