ঢাকা, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

নতুন মেয়রের দুর্নীতিবিরোধী অ্যাকশন

ডিএসসিসিতে চাকরি হারানোর আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২০, ১২:১৭ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি’র) দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে চাকরি হারানোর অতঙ্ক বিরাজ করছে। ডিএসসিসি’র নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থাটির দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ‚্যত করেন। এর দুইদিন পর আরও একজন মধ্যসারির কর্মকতাকে একই অভিযোগে চাকরিচ‚্যত করেন। যে কারণে বর্তমানে ডিএসসিসি’র সর্বোচ্চ লেভেলের কর্মকর্তা থেকে সর্বোনি¤œ পর্যায়ের কর্মচারিদের মধ্যেও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে, কখন কার চাকরি যায়।
গত ১৭ মে ডিএসসিসি নতুন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ডিএসসিসিতে নানা দুর্নীতি, আনিয়ম আর লুটপাটরে অভিযোগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারকে তিন মাসের বেতন দিয়ে চাকরি থেকে অপসারণ করেন। এর দুইদিন পর কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানকেও একই অভিযোগে অপসারন করেন। যে কারণে এখন ডিএসসিসিতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ভয়াবহতার আকঙ্কের সাথে যোগ হয়েছে নতুন মেয়রের দুর্নীতি বিরোধী অ্যাকশন আতঙ্ক।
এমন অ্যাকশন ঢাকার দুই সিটিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। সারা জীবন চাকরি করে জীবনের শেষ সময়ে এসে মাত্র ৩ মাসের বেতন-ভাতা নিয়ে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের এবিষয়ে সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, অপসারনের আদেশে বলা হয়েছে, নিজস্ব পাওনাদি ডিএসসিসির হিসাব শাখা থেকে বুঝে নেয়ার জন্য। তবে মেয়রের দায়িত্বের শেষান্তে সাবেক সাঈদ খোকন স্বেচ্ছায় কঠিন নিরবতা পালন করছেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তিনি এতোটাই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন যে, গত ১৬ মে ডিএসসিসির নির্বাচিত নতুন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে দায়িত্ব পর্যন্ত হস্তান্তর করতে নগরভবনে আসেননি। পরে ওই দিন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ ইমদাদুল হকের কাছ থেকে নতুন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণের পর শেখ ফজলে নূর তাপস গত ১৭ মে, প্রথম কর্মদিবসে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের সিন্ডিকেটের শীর্ষ স্থানীয় দুই কর্মকর্তাকে পৃথক আদেশে চাকরি থেকে অপসারন করেন। এই দুই জন হলেন, ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার। মেয়র ১৭ মে বিভাগীয় প্রধান ও আঞ্চালক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় ঘোষণা দিয়েছেন, দুর্নীতি এবং দায়িত্ব পালনে কোনরূপ শৈথিল্য বরদাশত করবেন না। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ধরনের কোন কিছু নজরে আসার সাথে সাথেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় কর্মকর্তাই হোক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য যদি কাউকে বিদায় দিতে হয়, তাতেও তিনি পিছপা হবেন না।
গত ২০ মে মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস অপর এক আদেশে অঞ্চল-৩ এর কর কর্মকর্তা (টিও) সংযুক্ত নগর পরিকল্পনা বিভাগের আতাহার আলী খানকে চাকরি থেকে অপসারন করেন। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরী বিধিমালা ২০১৯ এর বিধি ৬৪ (২) মোতাবেক জনস্বার্থে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর স্বার্থ রক্ষার্থে চাকরী হতে অপসারন করা হলো।
জানা যায়, ৮ বছর আগে ডিএসসিসির প্রথম প্রশাসক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান দুদকের এক মামলা রেফারেন্স এবং চাকরিতে নিয়োগ পাওয়াকালে জালিয়াতির অভিযোগে ডিএসসিসি’র এই কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে ছিলেন। পরে আতাহার আলী খান তাকে বরখাস্তের প্রতিবাদে উচ্চ আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘদিন পরে হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে মামলায় জয়ী হন তিনি (আতাহার)। এরপরে মেয়র সাঈদ খোকন বরখাস্ত কর কর্মকর্তা আতাহারকে অঞ্চল-৩ এ সংযুক্ত করে ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে পদায়ন করেন। তবে দুদকের দায়ের করা মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসসিসির একাধিক সাধারণ কর্মচারী জানান, বর্তমানে ডিএসসিসিতে প্রধান ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশীর দপ্তর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, সচিবের দপ্তর, রাজস্ব বিভাগ, বাজার শাখা, স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ক্রয় ও ভান্ডার বিভাগ, হিসাব বিভাগ, সম্পত্তি বিভাগ এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে মহা আতঙ্ক বিরাজ করছে। না জানি আবার কখন কার চাকরি থেকে অপসারনের চিঠি জারি হয়।
লুটপাটের সিন্ডিকেট কৌশলে এই কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রকল্প দেখান। তবে প্রতিটি প্রকল্প, কবে, কত টাকা, কি কাজ এবং কোথায় বাস্তবায়ন হয়েছে এসব তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে জানান সাধারণ কর্মচারীরা। রাজস্ব বিভাগের বাজার শাখার প্রতিটি মার্কেটের নথি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে কত কোটি টাকা কারা কিভাবে লুটপাট করেছেন। একইভাবে ক্রয় এবং ভান্ডারের নথি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে পুকুর চুরির সব ঘটনা।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৯ মে, ২০২০, ১:৩৫ এএম says : 0
অভিনন্দন। আশা করি পরিবর্তন আনবেন এবং অন্তত ডেঙ্গু মুক্ত ঢাকা দিবেন।
Total Reply(0)
কে এম শাকীর ২৯ মে, ২০২০, ১:৩৫ এএম says : 0
আজব দেশ!!! নির্বাচন জালিয়াতি করে নির্বাচিত হলে কি তাকে নিয়ে নিউজ করতে হবে? এটা এক প্রকার বৈধতা দেয়ার মত। হলফ করে বলেন নির্বাচন কেমন হয়েছে?
Total Reply(0)
Md. Monirul Islam ২৯ মে, ২০২০, ১:৩৫ এএম says : 0
Congratulation. Well done. May Allah will help you.
Total Reply(0)
সজল মোল্লা ২৯ মে, ২০২০, ১:৩৭ এএম says : 0
যত গর্জে তত বর্ষে না রে বাবারা। কদিন পরেই সব বোঝা যাবে।
Total Reply(0)
চাদের আলো ২৯ মে, ২০২০, ১:৩৭ এএম says : 0
দুর্নীতি করে নির্বাচিত হয়ে কিইবা দুর্নীতিবিরোধী অ্যাকশন নেবে???
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন