ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু

বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০২০, ১২:০২ এএম

বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন এবং প্রায় ৯০ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করে। এরমধ্যে ৮০ লাখ মারা যায় প্রত্যক্ষভাবে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের ফলে। আর ১০ লাখ মারা যায় ধূমপায়ীর পাশে থেকে অর্থাৎ পরোক্ষভাবে ধূমপানের ফলে। সারা বিশ্বে তামাক ব্যবহারজনিত রোগ, পঙ্গুত্ব, অক্ষমতা ও মৃত্যুর কারণে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক মানব দেহের জন্য একটি ভয়ঙ্কর বিষাক্ত পদার্থ। মানব দেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে বিদ্যমান। সিগারেটে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। আর ৭০টি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিতে সক্ষম যেমন নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, বেনজোপাইরিন, ফরমালডেহাইড, এমোনিয়া, পোলোনিয়াম- ২১০ এদের মধ্যে উল্ল­খযোগ্য। ধূমপান ও তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বিশ্বে ক্যান্সার, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগের এবং মৃত্যুর কারণ।

তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের করাল গ্রাস থেকে মানব জাতিকে রক্ষার নিমিত্তে ১৯৮৭ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনে প্রতি বছরের একটি দিনকে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস হিসাবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ’৮৮ সাল থেকে ৩১ মে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস প্রতি বছর আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘তামাক কোম্পানির কূটচাল রুখে দাও, তামাক ও নিকোটিন থেকে তরুণদের বাঁচাও’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৃথিবীর প্রায় এক পঞ্চমাংশ ধূমপায়ী। অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ বয়স্ক ধূমপায়ী বসবাস করে। বিশ্বে যত ধোয়াবিহীন তামাক সেবন করে, তার ৮২ শতাংশ অর্থাৎ ৩ কোটি ১ লাখ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যুবকরা আসক্ত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ লোক মারা যায় শুধু তামাকের কারণে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক প্রফেসর ডা. ওবায়েদুল­াহ বাকী বলেন, বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে প্রতীয়মান, তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের মাঝে ধূমপান ও তামাক সেবন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবার জন্য বিভিন্ন কলা কৌশল অবলম্বন করেছে। ফলশ্রুতিতে তরুণদের মাঝে ব্যাপক হারে তামাক সেবনের আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে। এ মূহূর্তে তামাক কোম্পানির ক‚টচাল রুখতে না পারলে তামাক ও নিকোটিনের করাল গ্রাস থেকে তরুণদের বাঁচানো দূরহ হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন