ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাড়ছে নদীভাঙন

২,৩৬৫ হেক্টর এলাকা বিলীন এবং ২৩ হাজার মানুষ গৃহহীনের আশঙ্কা পাউবোর কাজে বেশি জবাবদিহিতার প্রয়োজন : ড. আইনুন নিশাত

রফিক মুহাম্মদ | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

ভারি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের সব কটি নদ-নদীর পানি দ্রæত বাড়ছে। সেই সাথে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। বিভিন্ন স্থানে নদী কেড়ে নিচ্ছে মানুষের আশ্রয়স্থল। নদী গর্ভে ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ।
গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) বলছে, এ বছর নদীভাঙনে ২ হাজার ৩৬৫ হেক্টর এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। আর এতে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হবে।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিমলায় যমুনার স্পার বাঁধের প্রায় ২১ মিটার ধ্বস নেমে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে চৌহালী উপজেলাতে যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তীব্র ভাঙনের ফলে এ উপজেলাটি ক্রমেই সিরাজগঞ্জ জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার নগরপুর উপজেলায়ও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসত-ভিটা ও ফসলি জমি। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙনে শতাধিক একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রামের উলিপুরে নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টংগীবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে মসজিদ, বসতবাড়ি ও ফসলিজমি বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনায় পানি বৃদ্ধির ফলে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার হানারচর এলাকার গোবিন্দিয়া গ্রাম থেকে আখনের হাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা ভাঙছে। এতে হুমকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালাসহ অন্য অনেক স্থাপনা। নেত্রকোনার খালিয়াাজুরী উপজেলায় খরস্রোতা ধনু নদীতে ব্যাপক ভাঙনে শতাধিক পরিবারে ঘর-বাড়ি, জমি-জমা বিলীন হয়ে গেছে।

সিইজিআইএসের হিসাবে, চলতি বছর দেশের ১৬টি এলাকায় নদীভাঙন বেশি হবে। তার মধ্যে রয়েছে- সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনিকটা, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সলিমাবাদ চর, পদ্মা নদীর অংশে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট ও রাজবাড়ীর পাংশা। এসব এলাকার অনেক স্থানে ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ফরিদপুরে নদীভাঙন হবে।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, কবলিত এলাকায় ভাঙন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে এমন আশ্বাসের বাণী বছরের পর বছর শুনিয়ে যাচ্ছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধে কোন কার্যকর উদ্যোগ আর দেখা যায় না। আর যেসব স্থানে বাঁধ বা স্পার নির্মাণ করা হয় সেগুলো দুর্নীতির কারণে নিম্নমানের হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে তা ভেঙে যায়।
পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে নদীতীর রক্ষায় ও বাঁধ নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। তবে বিনিয়োগ অনুপাতে সাফল্য পাওয়া যায় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের আরও বেশি জবাবদিহিতার প্রয়োজন। জবাবদিহিতার মধ্যে থাকলে যেনতেন ভাবে বাঁধ নির্মাণ বা বালির বস্তা না ফেলেই বিল উত্তোলন করা সম্ভব হত না।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকার নদীভাঙন কমিয়ে আনব। নড়িয়ায় ২০১৭ সালে ৫ হাজারের বেশি ভবন ভাঙতে হয়েছে। এবার কোনো ভবন তো দূরে থাক, এক ইঞ্চি মাটিও ভাঙবে না। নড়িয়ার মতো জটিল এলাকার ভাঙন থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে অন্য এলাকার ভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি করছি। আশা করি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সব ভাঙন রোধ করতে পারব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন