ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ইসলামপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল অবস্থা

প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইসলামপুর (জামালপুর) উপজেলা সংবাদদাতা

বেহালদশার মধ্যে দিয়ে চলছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত ইসলামপুর উপজেলার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। এলাকাবাসী এজন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ও কর্ম ফাঁকিসহ ২৮জন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকাকে দায়ী করেছেন। জানা যায়, উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও পৌর সভায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩৩টি এবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী চরাঞ্চলে অবস্থিত। ওই সব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষক থাকেন উপজেলা ও জেলা সদরে। তারা মাসের পর মাস কর্ম ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্য করছেন। শুধু মাস শেষে একদিন স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন নিয়ে যান। এমন শিক্ষকও রয়েছে মাসে একদিনও কর্মস্থলে যান না। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নতুন এসেছেন বলে জানান। তা ছাড়া তিনি সাংবাদিকদের নিকট ওই সব শিক্ষকের তালিকা চান। এলাকাবাসী শিক্ষকদের এ কর্মফাঁকির জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতাকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ বছরে দু’এক বারও স্কুলগুলোতে কর্মকর্তাদের পায়ে ধূলি পড়ে না। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাসোহারার মাধ্যমে শিক্ষকদের কর্মফাঁকি ও কোচিং বাণিজ্যের ব্যবস্থা করে দেয়া অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ চার চাকায় অফিস করের টঙ্গীর গাজীপুরা থেকে। তিনি তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট গাড়িতে করে দুপুর ১২টায় অফিসে আসেন আর বেলা ২টায় চলে যান। অপর দিকে ২৮টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন যাবত শূন্য রয়েছে। এতে ওই সব স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা উপবৃত্তি, স্কুল মেরামত ও স্লিপের টাকা আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতে জড়িয়ে পড়েছে।এর মধ্যে উপজেলার একমাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ডি-বালিয়মারীর স্কুলটিও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনসহ সকল শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এছাড়া সাজলেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালামের বিরুদ্ধে নামে মাত্র কাজ করে স্কুল মেরামতের এক লাখ ও স্লিপের ৪০ হাজারসহ বিভিন্ন কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা দিন দিন নি¤œ দিকে যাচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন