ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগ কমেনি বাসভাসিদের

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২০, ৯:৩৯ এএম

কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি দুগর্ত মানুষদের। সত্তরভাগ বানভাসীদের কাছে পৌছায়নি ত্রাণ সামগ্রী। আশ্রয়স্থান গুলোতে নেই বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধাদি। টানা ৭দিন ধরে ব্রহ্মপূত্র,দুধকুমর ও ধরলা নদী অববাহিকায় পানিবন্দী প্রায় ২ লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছে। ধরলা, দুধকুমর ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ধরলার পানি ব্রীজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৩উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে গিয়ে দেখা যায় বানভাসীদের সীমাহীন দুর্ভোগ। হাতিয়ার বাবুরচর গ্রামের বিধবা রুপালী ও তার পরিবারের একমাত্র নলকুপটি বন্যায় তলিয়ে যাওয়া বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। হাতিয়ার নীলকণ্ঠ গ্রামের ৫শতাধিক পরিবার খোলা বাঁধে আশ্রয় নিলেও পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাধ্য হয়ে ¯্রােতের সাথে লড়াই করে ডুবন্ত বাড়িতে এসেই পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ সাড়তে হচ্ছে তাদেরকে। অপরদিকে চর ভেলাকোপার অটো ড্রাইভার মেহেদী হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িতে থাকতে না পেয়ে ৯ মাসের গর্ভবতী মুক্তাকে নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। হাঁপানিতে আক্রান্ত বৃদ্ধ গহুর আলীকে অনেক কষ্টে উজানে ছোট বোন শেফালীর বাড়িতে নিয়ে গেছে বড় বোন বিজলী।
একই এলাকার উমর ফারুক (৪২) জানান, মাটি কাটা, বালু তোলার কাজ করি। বন্যার ফলে কাজ নাই। যা আছে তাই দিয়ে চলছে সংসার। কামাই না হওয়ায় কিছু কেনাকাটাও করা যাচ্ছে না। ভালমন্দ খাওয়ার জন্য বাচ্চাগুলো কাঁন্দে।
কলাতিপাড়ার মনোয়ারা (৪০) জানান, হামরাগুলা ত্রাণ পাই নাই। মুই বিধবা বেটিছওয়া। বেটাক নিয়া থাকং। এলাও চুলাত আগুন জ¦লে নাই। হামাকগুলাক কাঁইয়ো দেখে না।
এমন নানান অভিযোগ আর অনুযোগ রয়েছে বন্যার্তদের মাঝে। জনপ্রতিনিধিদের সীমাবদ্ধতা থাকায় সবার কাছে পৌঁছতে পারছেন না। ফলে তারাও রয়েছেন প্রচন্ড চাপে।
হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বি এম আবুল হোসেন জানান, ইউনিয়নে ২৫ গ্রামের সাড়ে ৩হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। জিআর চাল এবং জিআর ক্যাশ থেকে শুকনো খাবার কিনে সাড়ে শত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয় বুধবার। ফলে বাকী ৩হাজার ২৫০ পরিবার রয়েছে ত্রাণ সেবার বাইরে। ফলে ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট চলছে। দুর্গত মানুষরা দিনে-রাতে ইউনিয়ন পরিষদ ও বাড়িতে এসে ত্রাণের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গুজিমারী, দাগারকুটি, গাবুরজান, নয়াডারা, বাবুরচর, নীলকণ্ঠ, কলাতিপাড়া আর শ্যামপুর এলাকার।
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, চলতি বন্যায় ৩টি পৌরসভাসহ ৫৫টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ভাঙনে বিলিন হয়েছে ২ হাজার পরিবার। বন্যার ফলে ৬ হাজার ৮৮০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ১শ’টি। এছাড়াও প্রায় ৩০ কিলোমিটার বাঁধ ও ৩৭ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন