ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে যশোরের চাষিরা

প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

রেবা রহমান, যশোর থেকে

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ভাসছে, বর্ষায় নিম্নাঞ্ছল ডুবে যাওয়ায় চাষাবাদ বিঘিত হচ্ছে চরমভাবে। বন্যামুক্ত উঁচু এলাকা হিসেবে চিহ্নিত যশোরের মাঠে মাঠে চলছে চাষাবাদ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমেও সবজি উৎপাদনের রেকর্ড সৃষ্টির যশোরে নানা ধরনের সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা। বছরের বারোমাসেই মানুষ এখন প্রায় সব ধরনের সবজির স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। খাদ্য তালিকায় সবজি অত্যাবশ্যকীয়। সেজন্য প্রয়োজনের তাগিদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষিরা সবজির আবাদ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে পাল্টে দিচ্ছে শীতকাল আর গ্রীষ্মকালের মধ্যকার পার্থক্য। মুলা, লাউ, বেগুন ও শিমসহ অনেক শীতকালীন সবজি এখন সবসময়ই আবাদ ও উৎপাদন করা যাচ্ছে। শুধুমাত্র ফুলকপি ছাড়া এমন কোনো শাক-সবজি নেই যা শীতকাল আর গ্রীষ্মকালে সমানতালে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে না যশোর অঞ্চলে। সারাদেশের মধ্যে সবজি উৎপাদনে এ অঞ্চল শীর্ষে রয়েছে। দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজি সরবরাহ হচ্ছে। শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার জন্য চাষিরাও প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন। নতুন নতুন ফর্মুলায় মুলা, লাউ, বেগুন, শিম, টমেটো, ঢ়েড়স, কাঁকরোল, বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, করলা, পুইশাক, ডাটাশাক, পটল, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, উচ্ছে, লালশাক ও সবুজ শাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজি যশোরে মাঠের পর মাঠ আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মূল্যও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। অবশ্য যশোরের সবজি বিপ্লব ও চাষিদের বিরাট সাফল্যের পেছনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং আছে সবজিকে ঘিরে কৃষিভিত্তিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা। আরো ব্যর্থতা হচ্ছে চাষি পরিশ্রম করে সবজি উৎপাদন করে কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় উপযুক্ত মূল্য পান না। তারা বরাবরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নানাভাবে। বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সবজি চাষিরা পিছিয়ে থাকছেন। সরকার দৃষ্টি দিলে সবজি আবাদ ও উৎপাদনে আরো গতি সৃষ্টি হতো। যশোরের সবজি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারত। যশোরের বারীনগর, চুড়ামনকাঠি, আমবটতলা, সাজিয়ালি, দোগাছিয়া, তীরেরহাট, মানিকদিহী, মথুরাপুর, ছাতিয়ানতলা, সানতলা, খাজুরা, বাহাদুরপুর, হাশিমপুর, নূরপুর ও মনোহরপুর এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে অন্যান্য ফসলের চেয়ে সবজির আবাদ বেশি। এখন বর্ষাকালেও সবজি চাষিরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন সবজি আবাদ ও উৎপাদনে। চাষিরা গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এখন চাষ পদ্ধতি ভিন্ন। বর্ষায় নিচু জমিতে সবজি উৎপাদন সম্ভব হত না। মাটির বেড উঁচু করে নানা সবজি আবাদ করছেন। মাচা করেও বিভিন্ন সবজি আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মাঠের বাইরেও বাড়ির আঙ্গিনায় এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখছেন না সবজি চাষিরা। যশোরের মাটি আসলে সবজি আবাদ ও উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। সব ধরনের সবজিরই বাম্পার ফলন হয়। বিশেষ করে বর্তমানে শীতকাল ছাড়া যেসব সবজি আবাদ হত না। এখন তা পুরোপুরি পাল্টে গেছে গ্রীষ্মকালেও হচ্ছে শীতকালীন সবজি। তবে শীতকালের মতো গ্রীষ্মকালের সবজির ফলন তুলনামূলকভাবে একটু কম হয় বলে চাষি ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিন্তু মানুষ সবসময়ে সবধরনের সবজির স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন। যা কয়েক বছর আগেও ছিল না। যশোর অঞ্চলের হাটবাজারে শাক-সবজির পাহাড় জমছে প্রতিদিন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর বাকি সবজি চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে বাংলাদেশের সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র ব্যবস্থাপনার অভাবে সবজি রফতানি জোরালো হচ্ছে না। আবার বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বলের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। ঠকছেন উৎপাদক চাষি ও ভোক্তারা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন