ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নিম্নচাপের উপকূল অতিক্রম

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

গভীর নিম্নচাপটি আর ঘনীভ‚ত হয়নি। বরং দুর্বল স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনার মাঝামাঝি উপক‚ল অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এটি স্থল নিম্নচাপ আকারে ফরিদপুর-মাদারীপুর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিম্নচাপের সাথে মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। কার্তিক মাসের এই হেমন্তকালে বর্ষাকালীন অবস্থা বিরাজ করছে। সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় বরিশালে ১৬৯ মিলিমিটার। এ সময় ঢাকায় ৫৪, চট্টগ্রামে ১৩৫, সিলেটে ২৩, ময়মনসিংহে ৩৮, রাজশাহীতে ৪, রংপুরে ২, খুলনায় ১৫ মিলিমিটারসহ সমগ্র দেশে কমবেশি বর্ষণ হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ডিমলায় ৩০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৫ এবং সর্বনিম্ন ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, দেশের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ী দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা দেয়া হয়েছে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং রাতের তাপমাত্রা এক থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে। এরপরের ৫ দিনে আবহাওয়ার আরও উন্নতি হতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু গত দুই দিনে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও বিদায় নেবে। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ বছর দেশে মৌসুমী বায়ু দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বন্দরে ৩ নম্বর সঙ্কেত : গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালে গভীর নিম্নচাপটি গতকাল দুপুর নাগাদ কিছুটা শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়। নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার পাশ দিয়ে গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপক‚ল অতিক্রম করেছে। এটি সন্ধ্যায় স্থল নিম্নচাপ আকারে ফরিদপুর-মাদারীপুর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপটির প্রভাবে উপক‚লীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৪ ফুট উঁচু বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ¡াসে প্লাবিত হতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেই সাথে ট্রলার-নৌযানসমূহকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন