মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মুক্তাঙ্গন

মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাবাজার এবং বাঙালির পান খাওয়া

প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আব্দুল্লাহ আল শাহীন : উন্নত দেশের প্রথম পরিচিতি হচ্ছে তার সার্বিক রূপ। আর সেটা হতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাতও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে অন্যান্য দেশ থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আমিরতের প্রতিটি স্টেটের বিশেষ স্থানসমূহ সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের ন্যায়। এছাড়া এমনিতেই দেশের সব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ত্রুটি নেই। আমিরাত শাসকের আলাদা বাৎসরিক বাজেট থাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য। আমিরাতে প্রায় ১৪০ দেশের অভিবাসী রয়েছে যাদের বেশিরভাগই উন্নত দেশের।
একটা বিষয় খেয়াল করলেই বুঝা যাবে, আমিরাত সরকার পরিষ্কারের বিষয়ে কতটা সোচ্চার। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য কর্মী আনার চুক্তি হয়। এছাড়া নেপাল, পাকিস্থান, ভারত, শ্রীলংকা থেকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কর্মী আনা হয় আমিরাতে। যারা বলদিয়ার অধীনে কাজ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সাপ্লাই কোম্পানিও একই কাজের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসে। সাপ্লাইয়ের কর্মীরা বিভিন্ন কোম্পানিতে বাৎসরিক বা মাসিক চুক্তিতে কাজ করেন।
বাংলাদেশী প্রবাসীরা আমিরাতে নানা পেশায় রয়েছেন তবে অধিকাংশই সাধারণ কর্মী। এখানে আমরা বাংলাদেশী প্রবাসীরাও পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু প্রবাসীর কারণে আমাদের দেশের দুর্নাম হচ্ছে। এমনকি বিদেশীদের মুখে সরাসরি শুনতে হয় দুর্নামের কথা। অনেক সময় কিছু প্রবাসী ভাইদের অসচেতনতার জন্য সবাইকে লজ্জিত হতে হয়। দুবাই, শারজাহ শহরে রয়েছে বাংলা বাজার, মূলত বাংলাদেশীদের লোকসংখ্যা বেশি বলে লোক মুখে স্থানের নাম হয়েগেছে বাংলাবাজার। দুবাই, শারজাহ ছাড়া আরো দু’একটা স্থান এমনটা রয়েছে। এসব বাংলা বাজারে গেলে বুঝাই যায় না বাংলাদেশ নাকি আমিরাত? পানের পিক, পানের কাগজের পেকেট, হাকিম পুরী আর মিষ্টি জর্দার ক্যানে ভরপুর পুরো বাজার। বাজারের যে প্রান্তেই যাবেন দেয়ালে পানের পিকের দাগ পাবেন। আমিরতের পথে পথে আবর্জনা ফেলার জন্য চোখে পড়ার মতো বড় বড় রঙিন ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী অনেক প্রবাসী সেটা ব্যবহার না করে দেখা যায় রাস্তার মধ্যেই আবর্জনা ফেলেন। এসবের কারণে যেমনটা পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি দেশের মান, বাংলাদেশী প্রবাসীদের ছোট করা হচ্ছে।
সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ক্লিন থাকাটা নিজের জন্য অন্তত জরুরি। কর্মস্থলে নিজের কাপড় যেন পরিষ্কার থাকে সেই দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কাপড় পুরোনো কিংবা নতুন বিষয় সেটা নয় পরিষ্কার থাকা হচ্ছে আসল। শরীরে কোনো রকম দুর্গন্ধ থাকা ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক কিছু কাজ রয়েছে পরিষ্কার থাকা যায় না তবুও নিজের মতো করে সোচ্চার থাকতে হবে। সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ালে নিজেকে যেন কখনো দুর্বল মনে না হয়। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার কারণে অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। যেমন সহকর্মীদের ভালো ব্যবহার উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার ভালো ব্যবহার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আমার পরিচত এক প্রবাসী গত ৫ বছর থেকে একটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছেন। উনার কাজ হচ্ছে অফিস পিয়নের। বিভিন্ন ফাইলপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আনা-নেওয়া করেন। দীর্ঘ ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় সহজেই নিজের কাজ করতে পারেন, কোনো রকম সমস্যা হয় না। কিন্তু একদিন এক অফিসার উনাকে তার অফিসে যেতে নিষেধ করেছেন। উনি কষ্ট পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কষ্ট না পেয়ে বরং লজ্জিত হলেন। এর পেছনে একমাত্র কারণ উনি কখনো কখনো পান খেয়ে অফিসে যেতেন। আমার সাথে ভালো পরিচয় ছিল, উনি যখন পান খেতেন বাহারি রকমের জর্দা পানের সাথে লাগিয়ে খেতেন। খাওয়ার সময় অনেক দিন শার্টের মধ্যে পানের দাগ লেগে যেত। এসব জর্দার মধ্যে অন্য রকম একটা গন্ধ রয়েছে নতুন কেউ পাশে থাকলে খারাপ লাগতেই পারে। সেদিনও হয়তো এমন কোনো জর্দা পানের সাথে খেয়েছেন আর অফিসারের সেটা খারাপ লেগেছে। উনি আমাকে বলেছেন, পূর্বেও নাকি অনেকবার উনাকে পান খেয়ে অফিসে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা আমলে নেননি। যার ফলে এরকম সমস্যায় পরেছিলেন। বেশ কিছু দিন এভাবে চলার পর একদিন সেই অফিসার ডেকে নিয়ে থাকে বলেছেন সেদিন উনার মাথা ব্যথা করেছিল পানের গন্ধে তাই তিনি বাধ্য হয়ে অফিস যেতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, পানের পিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য অন্যতম বাধা। এরপর থেকে উনি আর পান খেয়ে অফিসে যান না, এমনকি আগের মতো পান খাওয়ার অভ্যাস নেই।
প্রবাস জীবনে একাকিত্বের প্রধান নমুনা হচ্ছে নিজের কাজ নিজে করতে হয়। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ নিজেই করতে হয়। প্রবাস জীবনকে যে ভাবেই চিন্তা করবেন কষ্টের সেটা মানতেই হবে। প্রবাস জীবন কষ্টের হলেও নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে আর সে জন্য সোচ্চার হতে হবে।
ষ লেখক : আরব আমিরাত প্রবাসী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন