শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

যেনতেন সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়-ববিতা

বিনোদন রিপোর্ট: | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০২১, ১২:০২ এএম

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা এখন কানাডায় আছেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর তিনি কানাডায় ছেলে অনিকের কাছে গিয়েছেন। করোনার কারণে তিনি ছেলেকে দেখতে যেতে পারেননি। এ নিয়ে তিনি বিষন্ন ছিলেন। অবশেষে তিনি ছেলের কাছে যেতে পেরেছেন। কানাডা থেকে ববিতা জানান, আমার ছেলে অনিকই আমার জীবনের সবকিছু। ওকে ছাড়া দূরে থাকা কষ্টের। করোনা পরিস্থিতির কারণে ওর কাছে আসতে পারছিলাম না। তাছাড়া আমার ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। অনেক কষ্টে ভিসা পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা আমার ছেলের কাছে আসতে পেরেছি। এখন মা ও ছেলে একসঙ্গে থাকতে পারছি। এর চেয়ে সুখের আর কিছু নেই। অনিক একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস। ও অফিস করে আমি বাসায় রান্না-বান্না করি। ওর অফিস শেষ হলে বিকেলে হাটতে বের হই। ববিতা বলেন, একটা সময় প্রাকৃতিক নিয়মেই মানুষের কর্মজীবন শেষ হয়। অবসর সময় পার করতে হয়। আমিও এই অবস্থায় আছি। করোনা এসে অবসর সময়কে আরও দীর্ঘ করে দিয়েছে। চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন চলচ্চিত্রে অভিনয় করব? এখন কি চলচ্চিত্র হচ্ছে? চলচ্চিত্রের নামে যা হচ্ছে, তা কি চলচ্চিত্র? তিনি বলেন, আমরা যখন চলচ্চিত্রে ব্যস্ত ছিলাম, তখন প্রতিটি চলচ্চিত্র ছিল একেকটি গবেষণার ফসল। ভাল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে থাকতাম। অর্থ-কড়ির কথা চিন্তা করতাম না। লক্ষ্য থাকত, ভাল চলচ্চিত্র কিভাবে দর্শককে দেয়া যায়। এমনও হয়েছে ভাল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। বাণিজ্যিক বিষয়টি মূল লক্ষ্য ছিল না। এখন আমাদের চলচ্চিত্রে ভাল সিনেমার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে না। এ ধরনের চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। এই যে আমি ববিতা, চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও মানুষ আমাকে এই নামেই সম্মান করবে। এখন অনেক নায়িকা রয়েছে যারা সম্মান পেতে নয়, কিভাবে দ্রুত অর্থ-কড়ির মালিক হওয়া যায়, এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। অল্প সময়েই বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে চায়। তারা একবারও ভাবে না, তাদের পূর্বসূরিরা কিভাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছে, তাদের চিন্তাধারা কি ছিল। তাদের মধ্যে এ সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই। এমনিতেই আমাদের চলচ্চিত্রে অত্যন্ত দুর্দশা পরিস্থিতি চলছে। তার উপর করোনা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। চলচ্চিত্রকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার ভাল গল্পের বিকল্প নেই। যেনতেনভাবে সিনেমা নির্মাণ করে চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়া যাবে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন