রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

তিন বাদীসহ অস্তিত্ব মিলেছে ২০ জনের

কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ৪৯ গায়েবি মামলা হাইকোর্টে সিআইডি’র প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:১০ এএম

অর্ধশত ‘গায়েবি মামলা’র তিনজন বাদী ও সাক্ষীর নাম-ঠিকানাসহ পরিচয় পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়। এর মধ্যে চারটি মামলার বাদী এবং ১১টি মামলায় সাক্ষীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ওই তিনজন হলেন, শাখারুল কবীর ওরফে ইকবাল, ফারুকুর রহমান, মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে জামাই মফিজ। এর মধ্যে শাখারুল একটি মামলার বাদী এবং তিনটি মামলার সাক্ষী। ফারুকুর রহমান একটি মামলার বাদী, ৭টি মামলার সাক্ষী। এছাড়া মফিজুল দু’টি মামলার বাদী এবং একটি মামলার সাক্ষী। এছাড়া আরও অন্তত ২০ জন ব্যক্তি গায়েবি এসব মামলার সঙ্গে জড়িত মর্মে উল্লেখ করা হয় সিআইডি’র প্রতিবেদনে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে উত্থাপনের জন্য জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন কাঞ্চনের আইনজীবী এমাদুল হক বসির। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।
সিআইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রিট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ঢাকার ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি জিআর মামলা এবং ২৬টি সিআর মামলা। যার মধ্যে ৩৫টি মামলা থেকে আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চন খালাস পেয়েছেন। খালাস পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ১৫টি জিআর এবং ২০টি সিআর মামলা। বাকি ১৪টি মামলা বিচারাধীন। বিচার চলমান থাকা মামলাগুলোর মধ্যে ৮টি জিআর এবং ৬টি সিআর মামলা। এছাড়াও রিট পিটিশনে পক্ষভুক্ত ২০ জন ব্যক্তিসহ আরও অনেকের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হাইকোর্টে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় বাদী ও সাক্ষীর ভ‚মিকায় রয়েছেন।
এর আগে চলতিবছর ১৪ জুন গায়েবি মামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন হাইকোর্ট। এ প্রেক্ষিতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি জমা পড়ে। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছিল, থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করলে অভিযোগ দায়েরকারীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি) দেয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে রুল জারি করার পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্তিত্বহীন বাদীর করা ৪৯ মামলার ঘটনা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
রিটে বলা হয়, রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় তিনি ১ হাজার ৪৬৫ দিন কারাভোগ করেছেন। কিন্তু একটি মামলারও বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিবেচনায় তিনি অনেক মামলায় খালাস পেয়েছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তাকে রিট করতে হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এসবি), অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (সিআিইড), মহাপরিচালক র‌্যাব, ডিএমপি কমিশনারসহ ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Md. Shaikh Shahidur Rahaman ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৫৬ এএম says : 0
আশা করি মহামান্য হাইকোর্ট ,ভুতুড়ে ভূগান্তি নয় মানব জীবনের হুমকী,এক্টি পরিবারকে ধ্বংশ করার হাতিয়ার অবৈধ অর্থের জন্য এই সকল নকল মামলা বাজদের বিরুদ্ধে মাননীয় হাইকোর্ট জন দূর্ভোগ কমানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহন করিবেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন