বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উৎকোচ দাবির তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে : | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামে একটি হত্যা মামলায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এর বরাবরে অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে তৌহিদ হাসানের অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সুবাস চন্দ্র দাস (৪২) নামে একজন জেলে নিখোঁজ হন। এর ছয়দিন পর একটি পুকুরের পাশের জমি থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়। সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই বাবুল মামলাটি তদন্ত করেন। কিন্তু দু’মাস পর গাইবান্ধা পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই’র উপ-পরিদর্শক জুলফিকার আলী। পরবর্তীতে তিনি বদলী হওয়ায় মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি এই হত্যা মামলায় তৌহিদ হাসানের পিতা সিরাজুল ইসলামের বন্ধু আসগর আলীর মাধ্যমে অনৈতিক উৎকোচের প্রস্তাব দেন। তিনি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি পুকুরের লিজ গ্রহণকারী মো. রাঙা মিয়াকে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর গ্রেফতার করেন। তাকে নির্যাতন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে তৌহিদ হাসানের পিতা সিরাজুল ইসলাম ও বড় ভাই তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তি দিতে বলেন। তদন্তকারী শফিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তৌহিদ হাসান, বড় ভাই তাজুল ইসলাম ও পিতা সিরাজুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে গাইবান্ধা পিবিআই অফিসে ডেকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তার পর তৌহিদ হাসান ও সিরাজুল ইসলামকে ছেড়ে দিয়ে তাজুল ইসলামকে আটক করেন। তিনি আবারও তাদের উৎকোচের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা এতে রাজি না হওয়ায় এবং সুষ্ঠু তদন্ত চাওয়ায় তাজুল ইসলামকে দুইদিন আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোষ স্বীকারে বাধ্য করেন।
ওই গ্রামের ইদ্রিস আলী জানান, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর পাশের পুকুর ও ফসলী জমির মালিক ইঁদুর মারার জন্য কারেন্টের ফাঁদ পেতে রাখে। ওই ফাঁদ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুবাস চন্দ্র দাস মারা যেতে পারে বলে গ্রামবাসিরা ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে তৌহিদ হাসান তার ভাইকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো এবং মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবরে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. আবু খায়ের জানান, মামলাটি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্ত পিবিআই’র উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, অভিযোগকারী তৌহিদ হাসান হত্যা মামলা থেকে নিজের ভাইকে বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। গ্রেফতার তাজুল ইসলামকে সুবাস চন্দ্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি কারো কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেননি এবং কাউকে প্রস্তাবও দেননি বলে জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন