বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

বিদ্যালয় মাঠে চাষাবাদ

আবুল হাসান সোহেল, মাদারীপুর থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রায়পুর কাচারীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ দখল করে ধান ও কলাগাছ রোপন করার অভিযোগ ওঠেছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের জমি দাবি করেছেন। আর শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নে রায়পুর কাচারীকান্দি গ্রামের ইসমাঈস সরদার ও তার স্ত্রী ময়মুন নেছা ২২ শতাংশ এবং মনির সরদার ১১ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দলিল করে দেয়। বিদ্যালয়ের জমিদাতা হিসেবে মনির সরদার দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মনির সরদারকে শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে সভাপতি থেকে বাদ দেয়া হলে তার আপন ভাই ছোট আক্তার সরদার বিদ্যালয় মাঠ দখল করে ধান ও কলা গাছ রোপন করে। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর মাঠে ধান ও কলাগাছ রোপনের ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে জমিতে মাটি সীমানা দিচ্ছেন কিছু ব্যক্তি। মাটি কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্তার সরদার বলেন, ‘আমার জমিতে আমি মাটি কাটতেছি। স্কুলে যদি জমি পায় নিবে। আমার ভাই দলিল দিলে তারটুকু দিতে পারে, আমাদের অন্য ভাই-বোনদের জমি দলিল দিতে পারে না। ১৪ শতাংশ জমির ১১ শতাংশ জমি আমার ভাই দলিল দিতে পারে না। কারণ আমারা পাঁচ ভাই-বোন। তারটুকু দিতে পারে আমাদেরটা না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমি আমার শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে তিনি ইউএনও স্যারের কাছে নিয়ে গিয়ে দরখাস্ত দিতে বললে আমি সেখানেও দরখাস্ত দিয়েছি দেখি ইউএনও স্যার কি করে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সাবেক সভাপতি মনির সরদার জমিদাতা হয়েও বিদ্যালয়ের জমি তার ভাই দিয়ে দখল করে আছে। কিছু বললেই লোক পাঠায় মারতে। আবার মামলা করার ণ্ডমকি দেয়। আমি এর সঠিক বিচার ও সমাধান চাই। যাতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে।’
অভিযোগের বিষয় বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির সরদার বলেন, ‘আমি ১১ শতাংশ জমির দলিল দিয়েছি, আমার ভাইদের জায়গায় তারা কি করলো, সেটা তাদের বিষয়, আমার নয়। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখে আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন দিন-তারিখ ঠিক করে জায়গাটা পরিমাপ করলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।’
এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর তহশিলদারকে পাঠিয়ে মাটিকাটার কাজ বন্ধ করেছি এবং উভয় পক্ষকে জমির দলিলপত্র আনতে বলেছি। কার কি সত্ত্ব আছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিবো। আপাতত বেড়া ছাড়া যে স্থান আছে, ওখান দিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে বলেছি।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন