মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

শাহবাগে শিক্ষার্থী-ইসকনভক্তদের বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলায় জড়িদের গ্রেপ্তার করে সবোর্চ্চ শাস্তি এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমের ভক্তরা। দাবি পূরণে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে মোড় অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমের ভক্তরা। টানা তিন ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর বেলা সোয়া ২টার দিকে সাত দফা দাবি ঘোষণা করে তারা শাহবাগ ত্যাগ করেন। তাদের অবরোধের কারণে পুরো সময় শাহবাগ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শাহবাগ এলাকার আশপাশ, পল্টন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাংলা মোটর ও টিএসসিমুখী সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বিপাকে পড়েন ওই সড়কে আটকে পড়া এবং চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড় ত্যাগ করলে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

কর্মসূচিতে সাত দফা দাবি ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক ও আন্দোলনের সমন্বয়ক জয়দীপ দত্ত। দাবিগুলো হল- সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার মন্দিরগুলোর সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, জাতীয় সংসদে আইন করে মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হবে, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন করতে হব, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করতে হবে, জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে।

জয়দীপ দত্ত বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ দাবিগুলো যদি মেনে নেওয়া না হয়, অথবা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেন, তাহলে আগামীকাল (আজ) বিকেলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। এই কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।

আন্দোলনে যোগ দিয়ে রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি উৎপল দাস বলেন, কুমিল্লার হামলা থেকে শুরু করে রংপুরের হামলার ঘটনা আমরা দেখেছি এবং ভবিষ্যতে কী হবে সেটা আমরা কেউই জানি না। আমরা এদেশে যে সনাতন ধর্মী মানুষ রয়েছি এবং আমাদের যে অধিকারের কথা আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি সে অধিকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কুসল রায় চক্রবর্তী বলেন, সারাদেশে যেসব সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ পরিকল্পতভাবে এসব ঘটানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মমিতা বলেন, সংখ্যালঘু হয়ে যেকোনো দেশেই জন্মগ্রহণ করা পাপ। কিন্তু সবদেশেই তারা সমানভাবে নিগৃহীত হয় না যেমনটা হচ্ছে বাংলাদেশে। আজকে নানুয়া দীঘীর ঘটনাটা একটা বালকও বুঝতে পারবে যে এটা একটা পরিকল্পিত ঘটনা। এদেশের হিন্দু মন্দিরগুলোতে নিজেদের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি শেখ হাসিনার জন্যও পার্থনা করা হয় উল্লেখ করে মাতৃরূপী মা বলে শেখ হাসিনাকে সম্বোধন করে মমিতা বলেন, সেদিন (২০১৩ সালের ৫ মে) যখন পল্টন ময়দানে হেফাজত আন্দোলনে নেমেছিল মাত্র ৫ ঘণ্টায় আপনি তার সমাধান করেছেন; সুতরাং আপনার যদি স্বদিচ্ছা থাকে তো ৫ ঘণ্টা কেন, ১ ঘণ্টায় আপনি এ ঘটনার সুরাহা করতে পারেন। আমরা আপনার জন্য পার্থনা করি। আমরা চাই আপনার ভাবমূর্তি যেন নষ্ট হয়ে না যায়। সুতরাং আপনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দিন।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় ঢাবির সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ক্ষমতাসীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে কুমিল্লা সহ সারাদেশে সংগঠিত দাঙ্গার দায় এড়াতে পারে না আওয়ামীলীগ সরকার। এসময় তিনি একদল অন্য দলের উপর দায় চাপানো বক্তব্য পরিহার করে বিচারবিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন