শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কোটিপতি

নার্সারিতেই ভাগ্য বদল

মো. ওমর ফারুক, ফেনী থেকে | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

ফেনী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড সুলতানপুর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক। ফেনী মহিলা গার্লস ক্যাডেট কলেজের অদূরে তাদের বাড়ি। পিতা-মাতার বড় ছেলে। পৈত্রিক বসত বাড়ি ছাড়া তেমন কোন জমিজমা নেই। ২০১৩ সালের শুরুতে বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশী থেকে এক খন্ড জমি লিজ নিয়ে সামান্য পুঁজিতে নিজেই নতুন করে নার্সারি তৈরির কাজ শুরু করেন। সাথে ছোট ভাই মো. এয়াছিনকেও কাজে লাগান। দুই ভাই এক যোগে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে থাকেন। তাদেরকে আর পেছন তাকাতে হয়নি। এর আগে ফারুক ২০০৫ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে নার্সারিতে ৮ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করেন। তখন থেকে তিনি স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।
বর্তমানে ফেনীর আমিন বাজার সড়কের উভয় পাশে তিন খন্ডের দুই একর (২০০ ডিসিমেল) জমি লিজ নিয়ে তাদের ‘ফেনী গ্রিন গার্ডেন’ নার্সারি। বর্তমানে তার নার্সারিতে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন দেশি বিদেশি ফল, ফুল, সবজি ও বনজ ওষুধি গাছের চারা বিক্রির জন্য মজুদ রয়েছে।
ওমর ফারুক বলেন, তারা দুই ভাই ছাড়াও বর্তমানে তাদের নার্সারিতে ৮ জন প্রশিক্ষিত কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন। নার্সারি প্রতিষ্ঠার ৬ বছরের মাথায় ২০১৯ সালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলায় একজন সফল ও সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। তার আগে ২০১৮ ও ২০১৭ সালে বৃক্ষ মেলায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেছিলেন। গত দুই বছর ফেনীতে করোনাকালে কোন বৃক্ষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ফেনী পৌরসভার আওতাধীন জলবায়ু প্রকল্প তহবিলের অর্থায়নে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রাজাঝির দিঘী ও মহিপালে সরকারি সার্কিট হাউজের সামনের বিজয় সিংহ দিঘীর পাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির চারা কলম সরবরাহ করেছেন।
চলতি বছর ২০ হাজার রেড লেডি হাইব্রিড পেপের চারা উৎপাদন করা হয়েছে। প্রতিটি চারা ৩০ টাকা করে এরই মধ্যে ১০ হাজার চারা বিক্রি করা হয়েছে। বাকি উৎপাদিত চারা নার্সারিতে মজুদ রাখা আছে। বিভিন্ন প্রজাতির ৫০ হাজার ফুলের চারা (প্রতিটি গড়ে ২৫ টাকা), দেশী ও বিদেশী ফলের রকমারি ২০ হাজার চারা ও কলম, স্থানীয় জাতের ৫ হাজার চারা উৎপাদন ও মজুদ রাখা হয়েছে। হাইব্রিড লাউয়ের উৎপাদিত চারা এরই মাঝে বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
ফারুক বলেন, তার এ সফলতার পেছনে মা-বাবার দোয়া আছে। সেই সাথে আজিজুল হক নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা তার উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। তিনি নিয়মিত নতুন নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে পরামর্শ দেন। কাজে উৎসাহ দেন, সাহস দেন। ফারুকের নার্সারি দেখে এরই মধ্যে আশেপাশের আরও অনেকে ছোট ছোট নার্সারি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন।
এছাড়া হাই ব্রিড বেগুনের চারা, হাইব্রিড মরিচের চারা, গেদা, নয়নতারা, পিটুনিয়া, ডালিয়া, জিমিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফুলের চারা, কয়েক ধরনের লেবুর চারা কলম, বিভিন্ন জাতের পেয়ারা, বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে সূর্ষ ডিম, চিয়াংমাই, ব্রæনাই কিং, কাটিমন, নামডটমাই, কিউজয়াই, বারি-১১, ৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, আলফাউসু, রেড পালমার, গৌরমতিসহ, কাঠাল, আমড়া, লিচু, ডুরিয়ান, রাম্বুটান, ড্রাগন, জলপাই, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম, জাবাটিকাবা, এবোগাডো, ফার্সিমন, টিন ফল, যৈতুন, অলিভ অয়েল, আঁশ ফল, ট্যাংক ফল, খোরমা খেজুর, বø্যাক ভেরি, মাল ভেরি, আলু বখরা, আপেল, নাশপতি, স্টবেরিসহ নানা জাতের, নানা প্রজাতির চারা কলম উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়।
ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সব সময় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন