ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

কাজিপুরের ঝুট কাপড়ের তৈরী পোশাক যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলে

প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

টি এম কামাল, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে

গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের ২০ হাজার পরিবার। এলাকার বাজার দখল করে এসব পোশাক এখন যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। কাজিপুরের শিমুলদাইড়, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, পাইকরতরী, ঢেকুরিয়া, বিলচতল, বেলতৈল, চকপাড়া, চালিতাডাঙ্গা, বড়শীভাঙ্গা, রৌহাবাড়ী, হরিনাথপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের গড়ে উঠেছে এসব ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। প্রতিটি কারখানায় সর্বনি¤œ ২টি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি মেশিন রয়েছে। যমুনা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত কাজিপুরের তিনটি ইউনিয়নের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ২০ হাজার নারী শ্রমিক এ শিল্পে কাজ করে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ টাকা উপার্জন করেন। প্রায় দুই যুগ আগে প্রথম ওই অঞ্চলে ঝুট কম্বল শিল্পের সূচনা হয়। ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টে চাকরি করা এসব অঞ্চলের বেশ কয়েক শ্রমিক ছুটিতে বাড়ি আসার সময় হাতে করে কিছু পরিত্যক্ত ঝুট কাপড় নিয়ে এসে তাদের পরিবারের নারীদের হাতে তুলে দেন। নারীরা ছোট ছোট টুকরো করে সেগুলোকে সেলাই মেশিনের সাহায্যে জোড়া দিয়ে কম্বল আকৃতি তৈরি করে নিজেদের বাড়িতেই প্রথম ব্যবহার শুরু করেন। এগুলো বেশ গরম হওয়ায় ধীরে ধীরে এ শিল্পের প্রসার ঘটে। পরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এটি বাণিজ্যিক রূপ পায়। আর তখন থেকেই আশপাশের লোকজন নিজেরাই আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সংবাদ নিয়ে ঢাকা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি শুরু এ কম্বল। ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তের কাছেও পছন্দনীয় হয়ে ওঠে এটি। মধ্যবিত্তরা প্রথমে তাদের বাড়ির কাজের লোকজনের জন্য কেনা শুরু করলেও পরে নিজেরাই ব্যবহার শুরু করেন। ঝুট কম্বল শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা ঝুট কাপড়কে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ডিজাইনে পোশাক তৈরি করে সস্তা দামে বিক্রি করে টিকে আছি। তিনি একটি সরকারি জরিপ উদ্ধৃত করে বলেন, কাজিপুর থেকে যত ঝুট কম্বলের পোশাক উত্তরাঞ্চলে রপ্তানি হয় তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজিপুরের তৈরি পোশাক। তিনি বলেন, তাদের কারখানায় পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। ব্যাংক যদি আমাদের এ সময় ঋণ দেয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখতে পারবো। এ ঝুট কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, অল্পদিনেই ঝুট কম্বলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক চাহিদাও সৃষ্টি হয়েছে। ঝুট কম্বলের কাঁচামাল ঝুট কাপড় প্রতি কেজি ১০-১২ টাকায় কেনা হতো। অথচ এখন তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঝুট কাপড় ভারতে যাওয়ার কারণে এখন বেশি টাকা দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল বলেন, এ সমস্ত পোশাক কারখানা কাজিপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সরকার যদি এদের নির্দিষ্ট একটি বড় জায়গা স্থায়ী বরাদ্দ দিয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে। এটি হলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি কারখানায় এসে পোশাকের অর্ডার দিতে পারবেন। শিমুলদাইড় বাজারের ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, তারা ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করে কম্বল, ব্লেজার, ট্রাউজার, প্যান্ট ইত্যাদি তৈরি করছেন। তিনি বলেন, কাজিপুরে ৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এসব ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিকরা উপকৃত হবেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন