বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

সারা বাংলার খবর

সীতাকুণ্ডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে যেভাবে উদ্বেগ জানালেন নেটিজেনরা

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ জুন, ২০২২, ১১:৪৭ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড এবং আগুনের পর প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন ও বিস্ফোরণের সেই ছবি-ভিডিও দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে ৪ কিলোমিটার দূরেও। এতে ঘটনাস্থলের চার কিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে। আশপাশের এলাকার বাড়িঘর ও মসজিদ-মাদ্রাসার জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে।

শনিবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে কন্টেইনার ডিপোটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিকদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছেন।

স্থানীয়রা ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে অনেকের ঘরে থাকা শিশুরা ভয়ে কেঁদে ওঠে। এসময় আশপাশের মসজিদের মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হয়—দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় না যাওয়ার জন্য। অন্যদিকে হতাহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

ভয়াবহ এই ঘটনা জানার পর রাত তিনটায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজের ফেসবুকে দগ্ধ মানুষের পাশে থাকার আর্তনাদ করে লিখেন,‘চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সকলকে অনুরোধ করবো চট্টগ্রাম মেডিকেলে অবস্থান করার জন্য। সীতাকুণ্ডের কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা অনেক, প্রচুর পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে।’

এছাড়া তিনি লিখেন, দয়া করে যে যেখানে আছেন সাধ্যের মধ্যে থাকলে এক্ষুনি ছুটে যান, আপনার এক ব্যাগ রক্ত হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ। আপনার পরিচিত রক্তযোদ্ধা বন্ধুদেরও আসার জন্য অনুরোধ করুন। মানুষ মানুষের জন্য।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আয়েশা খাতুন লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের আরো উন্নত মানের প্রশিক্ষণ দরকার। তারা আগুন যেখানে লাগুক না কেন তারা শুধু পানি দিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করে, যা অনেক সময় আগুনের তীব্রতা কে বাড়িয়ে দেয় এবং ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আগুন লাগছে কেমিক্যালে তবুও তারা পানিই দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সবচেয়ে সাহসী এবং পরিশ্রমী কিন্তু তাদের সনাতনি পদ্ধতিতে আগুন নিভানোর কৌশলের কারণে তাদের জীবনের ঝুঁকি ও বিপদের সম্ভাবনা দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আহত সকলকে আল্লাহ দ্রুত সুস্থতা দান করুন।যারা অগ্নি দুর্ঘটনার জীবন হারিয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’’

ফেসবুকে অনেকেই রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাদের একজন এস এম নিরব লিখেছেন, স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে চট্টগ্রাম। রক্তদানে আগ্রহীরা অবিলম্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।স্বেচ্ছাসেবী বা রক্তদানে আগ্রহী ছাড়া কেউ অহেতুক মেডিকেলে ভিড় করবেন না। আল্লাহপাক আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করার তৌফিক দান করুন।’’

বিস্ফোরণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইলিয়াস আজাদ লিখেছেন, ‘‘আমার বাসা দুর্ঘটনা স্থান থেকে ১০ কি.মি. দূরে; পড়ার টেবিলে ছিলাম, হঠাৎ দেখলাম পাশের জানালাটা কেঁপে উঠল! বলতে গেলে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরে বিস্ফোরণের দরুন ৩/৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে!’’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন