মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২১ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

মুক্তাঙ্গন

রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা বন্ধে করণীয়

| প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ ইয়ামিন খান : মুসলিমদের দায়িত্ব ছিল মানব জাতিকে শান্তি দেয়া। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিল। কিন্তু যে জন্য তাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত (সুরা ইমরান : ১১০) বলা হয়েছে অর্থাৎ অন্যায় দূর করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা সেই দায়িত্ব ত্যাগ করার শাস্তিস্বরূপ (সুরা তওবা : ৩৯)  তারা অন্য জাতিসমূহের দ্বারা নির্মম নির্যাতন ও দাসত্বের শিকারে পরিণত হয়েছে। হালাকু খানের দ্বারা বাগদাদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে যে নৃশংসতার পরম্পরা শুরু হয় তার পূর্ণতা পায় ঔপনিবেশিক যুগে। সেই জবরদখলের ইতিহাস কারো অজানা নয়। মুসলিম পূর্বপুরুষদের শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ত্যাগ করে পাপাচার আর ভোগবিলাসে লিপ্ত হওয়ার শাস্তিস্বরূপ মুসলমানদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে।
আজ ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য জাতিসমূহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে বসনিয়া-হারজেগোভিনা, আলবেনিয়া-কসোভো, চেচনিয়া, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন, কাশ্মীরসহ ভারতের সর্বত্র, থাইল্যান্ড ও চীনের জিনজিয়ানে মুসলিমদের যে যেভাবে পারছে অপমানিত, লাঞ্ছিত, পরাজিত, পদদলিত এবং নির্বিচারে হত্যা করছে। ভুললে চলবে না যে বসনিয়ায় খ্রিস্টান চেকস্লাভরা হাজার হাজার মুসলিম গণহত্যার পর  দুই লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করে তাদের ঔরসজাত সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করেছিল। ঠিক তেমনিই আজ মিয়ানমারে মুসলিমদের ওপর চলছে অবর্ণনীয় ও লোমহর্ষক নির্যাতন। “অহিংসা পরম ধর্ম, জীব হত্যা মহাপাপ” মহামতি বুদ্ধের এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে বৌদ্ধরা আজ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যেভাবে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তারা জবাই করে, লাইন করে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, চোখ তুলে, হেলিকপ্টার গান দিয়ে যে যেভাবে পারছে রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-পুরুষ-শিশুদের হত্যা করছে, তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, কয়েকশ মহিলা ও কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। আজ কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম উদ্ভাস্তু।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে এক চেকপোস্টে ৯ জন পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনার পেিরপ্রক্ষিতে রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই মাস ধরে অভিযানের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। আজ মুসলিম বলে পরিচিত জনসংখ্যাটি ধর্মীয়গতভাবে শিয়া-সুন্নি-বিভিন্ন মাজহাব-ফেরকা, রাজনৈতিকভাবে সরকারি ও বিরোধী দল এবং ভৌগোলিকগতভাবে ৫৫টি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়ার কারণে তাদের অনেক্যৈর সুযোগে অন্যান্য জাতিসমূহ এই জনসংখ্যাটিকে পদদলিত করার সুযোগ পেয়েছে।
আজ মুসলিম জাতিটি যদি সকল বিভেদ ভুলে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় এবং আল্লাহর তওহীদের পক্ষে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ জাতি থাকত, তাহলে শুধু রোহিঙ্গা মুসলিম নয়, অন্য কোনো জাতির ওপর অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতন করার সুযোগ কেউ পেত না। মুসলিমদের ওপর নির্যাতন করাও যেমন অন্যায় আবার সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন এমনকি রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে যে তা-ব চালানো হয়েছিল তা সবই অন্যায়। আর এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই হচ্ছে কালেমার দাবি। আসুন, আমরা সকল বিভেদ ও অনৈক্য ভুলে ন্যায়ের পক্ষে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ জাতি হই।
ষ লেখক : ২ নং, হাবেলী, গোপালপুর, ফরিদপুর থেকে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন